ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ৪নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড রহমতপুর (দহগাঁও সুইচ গেট) গ্ৰামের সীমান্তে বাঁধের খাস জমিকে কেন্দ্র গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর )সকাল দশটায় সরেজমিনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়।
ভুক্তভোগী আফরোজার অভিযোগ, তিনি বাঁধের এই সরকারি জায়গাটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বসবাস করে আসছেন। এখানে বসবাসরত অবস্থায় তিনি মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দিয়েছেন। বসবাসকৃত জায়গাটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পার্শবর্তী বাঁধের নিচে জমির মালিক জাহাঙ্গীর মুন্সির সহ ৩০-৪০ জন গত ১১ তারিখে সকাল সাতটায় এসে হামলা করে আফরোজার বাড়িঘর ভেঙ্গে এই গাছগুলো কেটে দেয় ।তারা খুব অসহায় ও মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছেন এবং খুবই আতঙ্কিত অবস্থায় বসবাস করছেন। আফরোজার স্বামী বিদেশে অবস্থানরত।
আফরোজার শশুর জয়নুল আবেদীন বলেন,
এই জায়গাটিতে আমরা দীর্ঘ ২৩ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করছি এটি একটি সরকারি খাস জমি হওয়াতে আমরা বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপন করে ভোগদখলে আছি ।
জাহাঙ্গীর মুন্সী সহ তার দলবল ৪০-৫০ জন লোক এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করে আমাদের একটি ঘর ভেঙে দিয়ে এই সরকারি জায়গায় আমাদের রোপনকৃত গাছ গুলো তারা কেটে নেই এবং আমাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মারামারি কিলঘুষিতে আফরোজাসহ তাঁর পরিবারের ৪ জন সদস্য আহত ও হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসায় সুস্থ হয়।
অভিযুক্ত রহমতপুর গ্ৰামের মৃত সুবাদ আলীর পুত্র তছলিমুদ্দিন বলেন এই জায়গাটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি এই জায়গাটিতে তারা মাছ চাষ করেন।
মাছ চাষের আদলে তারা এই জায়গাটি একটি ঘর নির্মাণের জন্য গেলে তাদের সাথে বাগবিন্ডতার সৃষ্টি হয়।
বিবাদীরা আমাদের মারতে উদ্যোগী হলে প্রতিবেশীরা আমাদের প্রাণে রক্ষা করেন। বাঁধসংলগ্ন নিচের জমির মালিক দাবি করে রহমতপুর গ্ৰামের মৃত সুবাদ আলীর আরেক এক পুত্র মেজর আলী বলেন, আমরা কারো সরকারি জমিতে গাছ কাটেনি এই গাছগুলো রোপনকৃত ছিল আমাদের।
আমরা আমাদের গাছ কেটেছি। যে জমি নিয়ে বিরোধ সেই জমিটি আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি।
আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জমিটি দিয়েছিলাম কিন্তু এই জায়গায় আমরা পুকুরে মাছ চাষ করছি এবং জায়গাটি আমাদের।
এ বিষয়ে ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ২নং রহমতপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বাধীন বলেন,সমস্যাটা নিয়ে আমি তাদের সাথে বসে ছিলাম,তারা উভয়পক্ষ সম্মতি না হওয়ায় বিষয়টি সমাধান করা যায়নি। তারা থানাতে লিখিত অভিযোগ করেছে, যদি দুই পক্ষের আগ্রহে আমি বিষয়টি নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে ৪ নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব চৌধুরী জানান,তিনি বিষয়টি নিয়ে অবগত নন।
যদি এরকম কোন অভিযোগ আসে তাহলে তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করার ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়ে হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম জাকারিয়া সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নেই।বিষয়টি সম্পর্কে আমাদেরকে বিস্তারিত তথ্য দিলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
হরিপুর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 





















