ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে ‘৩% দুলাল’ খ্যাত আহসানুজ্জামানের দুর্নীতি বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য! টাকা না দিলে ফাইল গায়েব চার বছরেও থেমে আছে বিচার-ভোলায় নূরে আলমকে স্মরণে বিএনপি-ছাত্রদলের শ্রদ্ধা ও বিচার দাবি ভারত থেকে ২ হাজার ৯০০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি ববিসাস’র আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আলোকচিত্র প্রদর্শনী পাবনায় ‘মদ্যপ অবস্থায়’ ২ রাশিয়ান নাগরিকের মারামারি, নিহত ১ সব মোটরযানের জন্য সতর্কবার্তা আত্রাইয়ে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ফরাসি বিপ্লবের চেতনার মিল রয়েছে : রিজভী একাদশে ভর্তি নিয়ে এলো সিদ্ধান্ত
তদন্ত পূর্বক বহিষ্কার করার দাবি

বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য! টাকা না দিলে ফাইল গায়েব

বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য!!। টাকা না দিলে ফাইল গায়েব। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের ঘুষ এখন ওপেন সিক্রেট। ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল লড়ে না। নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ না পেলে ফাইল গায়েব হয়ে যায়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, যশোর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত বিশাল জনগোষ্ঠীর বিস্তৃত এলাকা হচ্ছে বসুন্দিয়া ইউনিয়ন। নাম পত্তন / জমা খারিজ করার জন্য গরিব অসহায় জমির নানান জটিলতা নিরসনের জন্য চলে আসেন ভূমি অফিসে। একদল দালাল চক্র ঘুষের দরকষাকষি করতে থাকেন ।একপর্যায়ে তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষের রফাদফা হলে চলে যায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের কাছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশ তার কাংখিত টাকা পাওয়ার পর কাজে হাত দেন।
তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, বসুন্দিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার ৭৫ শতাংশ জমি নাম পত্তন করার জন্য ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্ৰহণ করেন। বসুন্দিয়া মডেল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শহিদুল উক্ত টাকা পলাশের হাতে তুলে দেন। যা পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে নাম পত্তন করার আশ্বাস দেন। যদিও মাদ্রাসার সভাপতি ঐ জমি থেকে ৫৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন। উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি লুৎফর রহমান উক্ত ভূমি থেকে ২৭ শতাংশ জমি তার স্ত্রীর জামেলা বেগমের নামে দলীল করে দিয়েছেন। তার স্ত্রী তার ছেলে সাকিবুরের নামে দান পত্র করে দেন ২০১৫ সালে। সাকিবুর তার নামে নাম পত্তন করে নেন। সে দীর্ঘ দিন যাবত প্রবাসে বসবাস করে। বাকি ২১ শতাংশ জমি ইসমাইল বিশ্বাস ওরফে বাটুল বিশ্বাসের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এখন মাদ্রাসার নামে মাত্র ২৪ শতাংশ জমি আছে।পলাশের একটি দালাল চক্র রয়েছে তাদের মাধ্যমে পলাশ ঘুষ গ্ৰহণ করে থাকেন। ভূমি অফিসের বড় দালান হচ্ছে লিয়াকত খান ওরফে রিয়ার ছেলে রতন। আতিয়ার হচ্ছে তার আরেক হাতিয়ার সরকারি জমি লিজ নেওয়ার জন্য পলাশের কাছে প্রতিবেদন নেওয়ার জন্য টাকার বস্তা নিয়ে বসে থাকেন । স্থানীয় আরো কিছু দালাল আছে যারা প্রতিনিয়ত পলাশের কাজে সহায়তা করে থাকেন।ভূমি অফিস থেকে ভূয়া খাজনা দাখিলা ও নামজারি করে ব্যাংকের লোন করার জন্য উঠতি বয়সী দালাল প্রতিদিন বিকাল পাঁচটার দিকে পলাশের পিছনে লাইন ধরেন। পলাশ টাকার বিনিময়ে সকল কাজ করে দেন।
ভূমি অফিসের পিছনে অফিসের পিয়ন সুফিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে পলাশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে সুফিয়ার সাথে পলাশের দীর্ঘ দিন যাবত পরকিয়া চলে আসছে। কয়েক মাস পূর্বে সরকারি ছুটির দিন সুফিয়ার সাথে পলাশকে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকার জনগণ আটক করে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নাকেখত দিয়ে পলাশ সে যাত্রায় ছাড়া পায়। সুফিয়ার মাধ্যমে পলাশ লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। স্থানীয় জনগণ বলেন,এক সময় জীর্ণশীর্ণ পোশাক পরিধান করে অফিস করতেন থাকতেন ভাড়া বাসায়। এখন দামী দামী শার্ট প্যান্ট পড়ে আসেন অফিস করতে। গ্ৰামে নির্মাণাধীন হচ্ছে বহুতল ভবন।
বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছত্র ছায়ায় থেকে দুর্নীতিকে বৈধ কাজে পরিণত করে তুলেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এম পি রনজিতের ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে জিম্মি করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়েছিলেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশকে তার ঘুষ বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি কোনো ঘুষ খাইনা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমাকে কিছু হাদিয়া তোহফা দিয়ে যায়। আমার অফিসে ঘুষের কোনো কারবার চলে না। সুফিয়ার সাথে আপনার প্রেম বিনীময় চলছে তা কি ঠিক? উত্তরে বলেন, সুফিয়াকে এই অফিস থেকে বদলি করা হয়েছে। আসলে এটা কি করে সম্ভব তাকে নিয়ে আমার ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করা।একদল কুচক্রী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসকল রিওমার ছড়াচ্ছে। আমি সবসময় সঠিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। ভুক্তোভোগীরা পলাশের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এব্যাপারে যশোর সদর ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আমি বিষয়টি দেখছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সাধারণ ভুক্তোভোগী জনগণ পলাশের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে ‘৩% দুলাল’ খ্যাত আহসানুজ্জামানের দুর্নীতি

তদন্ত পূর্বক বহিষ্কার করার দাবি

বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য! টাকা না দিলে ফাইল গায়েব

আপডেট সময় ০৬:১০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য!!। টাকা না দিলে ফাইল গায়েব। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের ঘুষ এখন ওপেন সিক্রেট। ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল লড়ে না। নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ না পেলে ফাইল গায়েব হয়ে যায়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, যশোর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত বিশাল জনগোষ্ঠীর বিস্তৃত এলাকা হচ্ছে বসুন্দিয়া ইউনিয়ন। নাম পত্তন / জমা খারিজ করার জন্য গরিব অসহায় জমির নানান জটিলতা নিরসনের জন্য চলে আসেন ভূমি অফিসে। একদল দালাল চক্র ঘুষের দরকষাকষি করতে থাকেন ।একপর্যায়ে তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষের রফাদফা হলে চলে যায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের কাছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশ তার কাংখিত টাকা পাওয়ার পর কাজে হাত দেন।
তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, বসুন্দিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার ৭৫ শতাংশ জমি নাম পত্তন করার জন্য ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্ৰহণ করেন। বসুন্দিয়া মডেল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শহিদুল উক্ত টাকা পলাশের হাতে তুলে দেন। যা পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে নাম পত্তন করার আশ্বাস দেন। যদিও মাদ্রাসার সভাপতি ঐ জমি থেকে ৫৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন। উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি লুৎফর রহমান উক্ত ভূমি থেকে ২৭ শতাংশ জমি তার স্ত্রীর জামেলা বেগমের নামে দলীল করে দিয়েছেন। তার স্ত্রী তার ছেলে সাকিবুরের নামে দান পত্র করে দেন ২০১৫ সালে। সাকিবুর তার নামে নাম পত্তন করে নেন। সে দীর্ঘ দিন যাবত প্রবাসে বসবাস করে। বাকি ২১ শতাংশ জমি ইসমাইল বিশ্বাস ওরফে বাটুল বিশ্বাসের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এখন মাদ্রাসার নামে মাত্র ২৪ শতাংশ জমি আছে।পলাশের একটি দালাল চক্র রয়েছে তাদের মাধ্যমে পলাশ ঘুষ গ্ৰহণ করে থাকেন। ভূমি অফিসের বড় দালান হচ্ছে লিয়াকত খান ওরফে রিয়ার ছেলে রতন। আতিয়ার হচ্ছে তার আরেক হাতিয়ার সরকারি জমি লিজ নেওয়ার জন্য পলাশের কাছে প্রতিবেদন নেওয়ার জন্য টাকার বস্তা নিয়ে বসে থাকেন । স্থানীয় আরো কিছু দালাল আছে যারা প্রতিনিয়ত পলাশের কাজে সহায়তা করে থাকেন।ভূমি অফিস থেকে ভূয়া খাজনা দাখিলা ও নামজারি করে ব্যাংকের লোন করার জন্য উঠতি বয়সী দালাল প্রতিদিন বিকাল পাঁচটার দিকে পলাশের পিছনে লাইন ধরেন। পলাশ টাকার বিনিময়ে সকল কাজ করে দেন।
ভূমি অফিসের পিছনে অফিসের পিয়ন সুফিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে পলাশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে সুফিয়ার সাথে পলাশের দীর্ঘ দিন যাবত পরকিয়া চলে আসছে। কয়েক মাস পূর্বে সরকারি ছুটির দিন সুফিয়ার সাথে পলাশকে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকার জনগণ আটক করে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নাকেখত দিয়ে পলাশ সে যাত্রায় ছাড়া পায়। সুফিয়ার মাধ্যমে পলাশ লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। স্থানীয় জনগণ বলেন,এক সময় জীর্ণশীর্ণ পোশাক পরিধান করে অফিস করতেন থাকতেন ভাড়া বাসায়। এখন দামী দামী শার্ট প্যান্ট পড়ে আসেন অফিস করতে। গ্ৰামে নির্মাণাধীন হচ্ছে বহুতল ভবন।
বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছত্র ছায়ায় থেকে দুর্নীতিকে বৈধ কাজে পরিণত করে তুলেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এম পি রনজিতের ছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে জিম্মি করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়েছিলেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশকে তার ঘুষ বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি কোনো ঘুষ খাইনা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমাকে কিছু হাদিয়া তোহফা দিয়ে যায়। আমার অফিসে ঘুষের কোনো কারবার চলে না। সুফিয়ার সাথে আপনার প্রেম বিনীময় চলছে তা কি ঠিক? উত্তরে বলেন, সুফিয়াকে এই অফিস থেকে বদলি করা হয়েছে। আসলে এটা কি করে সম্ভব তাকে নিয়ে আমার ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করা।একদল কুচক্রী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসকল রিওমার ছড়াচ্ছে। আমি সবসময় সঠিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। ভুক্তোভোগীরা পলাশের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এব্যাপারে যশোর সদর ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আমি বিষয়টি দেখছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সাধারণ ভুক্তোভোগী জনগণ পলাশের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।