ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রিগ টেন্ডারে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে আলোচনায় বাপেক্স দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১৪ জনের মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানে জরিমানা এবার ফিফার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামছে উয়েফা নিরাপদ অভিবাসনে আইওএমের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের নতুন তথ্য ফাঁস রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণপিটুনিতে চোরের মৃত্যু, পাল্টা হামলায় আহত ৩

নিরাপদ অভিবাসনে আইওএমের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ

নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইওএমের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।

নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি বা জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এই চুক্তির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক উপায়ে কর্মী নিয়োগ এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নত করা জরুরি। এজন্য পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং এবং কৃষি খাতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করার মাধ্যমে এবং মেধাভিত্তিক গতিশীলতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিবাসী কর্মী, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো এবং সহায়তা সেবা জোরদার করার আহ্বান জানান।

সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য তিনি আইওএমকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, নিরাপদে ফেরা, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রোধে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ড্যানিয়েলস। এছাড়া, বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।

নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে বাংলাদেশ-আইওএম সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

সাক্ষাৎকালে আইওএমের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাটো এবং বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ ড্যানিয়েলসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিগ টেন্ডারে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে আলোচনায় বাপেক্স

নিরাপদ অভিবাসনে আইওএমের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইওএমের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।

নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনের বৈশ্বিক চুক্তি বা জিসিএম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান এই চুক্তির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক উপায়ে কর্মী নিয়োগ এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নত করা জরুরি। এজন্য পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং এবং কৃষি খাতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করার মাধ্যমে এবং মেধাভিত্তিক গতিশীলতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন।

অভিবাসী কর্মী, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো এবং সহায়তা সেবা জোরদার করার আহ্বান জানান।

সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য তিনি আইওএমকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, নিরাপদে ফেরা, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রোধে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন ড্যানিয়েলস। এছাড়া, বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।

নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে বাংলাদেশ-আইওএম সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

সাক্ষাৎকালে আইওএমের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাটো এবং বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ ড্যানিয়েলসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।