রংপুরের পীরগঞ্জে আলোচিত “ঢাকা বিরিয়ানি হাউজে” রোগাক্রান্ত গরুর মাংস ভোক্তাদের খাওয়ানোর অভিযোগ প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হলেও প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁটিতে সম্প্রতি অসুস্থ গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করা হয়। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিষয়টির ভিডিওচিত্র, স্থিরচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য সংগ্রহ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক গোলাম মোস্তফাও ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেন, “আমরা মাঠে নেমে শতভাগ সত্যতা যাচাই করে তথ্য-উপাত্তসহ সংবাদ প্রকাশ করেছি। কিন্তু প্রশাসন এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এই নীরবতা কি প্রভাবশালী মহলের কারণে?” — এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও আইনের দুর্বল প্রয়োগই অপরাধীদের সাহস জোগায়। তাদের ভাষায়, “যখন অপরাধীরা শাস্তি পায় না, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সমাজে তখন ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসও নষ্ট হয়ে যায়।”
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অপরাধীরা শাস্তি না পেলে তারা আরও সাহসী হয়। সাংবাদিকরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেন, কিন্তু প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে সেটা সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়।”
অন্য এক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি ওই গরুর মাংস খেয়ে স্পট ডেথ হলে তবেই প্রশাসন নড়তো? নাকি আড়ালে চলছে অন্য কোনো সমাচার?”
সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তারা বলেন, “এমন ঘটনা শুধু পীরগঞ্জেই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটছে। প্রশাসন যদি উদাহরণমূলক ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।”
এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু একটি রেস্তোরাঁর ঘটনা নয়— এটি খাদ্য নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন। তাই তারা জোর দিয়ে বলছেন,
“আইনের যথাযথ প্রয়োগই এখন একমাত্র প্রত্যাশা। আমরা জানতে চাই— কখন হবে আইনের সঠিক প্রয়োগ?”
যদি শাস্তি হয় তাহলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর প্রাসঙ্গিক, ধারা ৪৩ অখাদ্য, অপুষ্টিকর বা ক্ষতিকর খাদ্য বিক্রয় কেউ যদি অখাদ্য, অপুষ্টিকর, দূষিত, রোগাক্রান্ত বা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন বা বিক্রয় করে তাহলে সেটি অপরাধ বলে গণ্য হবে। সর্বোচ্চ তিন (৩) বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই (২) লক্ষ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
এই ধারা “ঢাকা বিরিয়ানি হাউজে” রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ধারা ৪৪ প্রতারণামূলক বা ভেজাল পণ্য বিক্রয়
বিবরণ : কেউ যদি জেনে-শুনে ভোক্তাকে প্রতারণা করে, পণ্যের প্রকৃত মান গোপন করে বা ভুল তথ্য দিয়ে খাদ্য বিক্রি করে, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
শাস্তি : সর্বোচ্চ এক (১) বছরের কারাদণ্ড অথবা পঞ্চাশ হাজার (৫০,০০০) টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।
এলাকাবাসী প্রত্যাশা অতিদ্রুত ঢাকা বিরিয়ানি হাউস বন্ধ করা হোক।
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা বিরিয়ানি হাউসে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস ভোক্তাদের খাওয়ানোর ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
-
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : - আপডেট সময় ০৭:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- ৬২০ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ






















