ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ রোকেয়া দিবসের মেলা কমিটিতে অভিজ্ঞদের বাদ, কৃষক দলের নাম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ভূমি কর্মকর্তার জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বাঞ্ছারামপুরে ইউপি সদস্য আবু মুসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম মিয়া গ্রেপ্তার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় পাবনায় দোয়া মাহফিল শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন নেভানোর মহড়া অনুষ্ঠিত শুরুর আগেই এশিয়া কাপ শেষ বাংলাদেশি তারকার সিলেটে ৪টি আসনে নতুন করে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা টানা ৪ মাস কমলো দেশের পণ্য রপ্তানি বগুড়ার শেরপুরে খরের পালা পুরে ছাই

হান্নান মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা

ফরিদগঞ্জ উপজেলা রাজনৈতিকভাবে সবসময়ই দেশের রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সম্প্রতি ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এক নাম এম.এ. হান্নান। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তৃণমূল কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের উচ্চ পর্যায়ের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যদি হান্নানকে বাদ দেওয়া হয়, তবে তা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করবে এবং নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফরিদগঞ্জে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হান্নানের প্রতি যে ভালোবাসা এবং সমর্থন রয়েছে, তা প্রমাণ করে যে তার নেতৃত্ব শুধুমাত্র পদ বা মনোনয়নের উপর নির্ভরশীল নয়।
সংক্ষেপে তার রাজনৈতিক জীবন : ফরিদগঞ্জের রাজনীতিতে একজন পরিচিত এবং জনপ্রিয় নেতা হিসেবে এম.এ. হান্নান স্থানীয় তৃণমূল এবং দলের কর্মীদের মধ্যে গভীর প্রভাব রেখেছেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুধুমাত্র পদ বা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং আদর্শ ও জনগণের কল্যাণের জন্য। হান্নান বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আহ্বায়ক হিসেবে তার কাজ শুধু দলের কার্যক্রম চালানো নয়, বরং ইউনিয়ন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী কর্মীশক্তি তৈরি করা। তিনি দলের পুনর্গঠন, কমিটি শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। হান্নানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় স্কুলে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শেষে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সমাজসেবা এবং বিত্তবান ও দরিদ্র ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো তার প্রাথমিক পরিচিতি হিসেবে কাজ করে।
হান্নান রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ছাত্রদলের মাধ্যমে। কলেজ জীবনেই তিনি তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কাজগুলিতে নেতৃত্ব দেন। দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনায় সহায়তা, স্কুল ও মাদ্রাসার সংস্কার এবং স্থানীয় কমিউনিটি কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তার ছাত্ররাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য।
হান্নান ফরিদগঞ্জের ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠন, নতুন কর্মী সংগ্রহ এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের প্রেরণা জোগানো এবং নির্বাচনী কৌশল সমন্বয়ে অবদান রেখেছেন। এছাড়া, দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছেন, যা তাকে জনমুখী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হান্নান মনোনয়ন না পেলেও তার জনপ্রিয়তা এবং জনমতের ভিত্তিতে তিনি তৃণমূল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সমর্থিত। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বারবার দাবি করেছেন যে, দলের মনোনয়ন এম.এ. হান্নানকে দেওয়া হোক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নেতা হওয়া কেবল পদ বা মনোনয়নের জন্য নয়; জনগণের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং রাজনৈতিক সততা প্রকৃত নেতা পরিচয় দেয়।
এম.এ. হান্নান জন্মগ্রহণ করেন ফরিদগঞ্জের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। শৈশব থেকেই তিনি মানুষের সমস্যা বোঝার প্রবণতা দেখিয়েছেন। পরিবার তাকে অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
“ছোটবেলাতেই হান্নান ভাইয়ের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ লক্ষ্য করা যেত। অন্যরা খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি ভাবতেন গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে।” শিশুকাল থেকেই হান্নান স্কুল ও কলেজে বিতর্ক এবং সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন, যা তার নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে হান্নান চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। এবং তখন থেকেই মানুষের উপকার করে আসছেন
দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনায় সহায়তা : হান্নান নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষার উপকরণ সরবরাহ করতেন। স্কুলে এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ বাড়াতে তিনি নিয়মিত সহায়তা প্রদান করতেন। এটি কেবল শিক্ষার্থীদের জীবন পরিবর্তন করত না, বরং হান্নানকে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করত।
স্কুল ও মাদ্রাসার সংস্কার : শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে হান্নান স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন।
ছাত্রদলের সভা ও সমাবেশ আয়োজন : হান্নান নিজের অর্থ এবং উদ্যোগে ছাত্রদলের সভা ও সমাবেশ আয়োজন করতেন, যাতে ছাত্ররা আদর্শিক রাজনীতি শিখতে পারে এবং দলের কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে। এটি তার নেতৃত্বের প্রতি ছাত্রদের আস্থা ও সমর্থন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা : শিক্ষাজীবনের সময় হান্নান স্থানীয় সমাজের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামের দরিদ্র পরিবার ও শিক্ষার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
“রাজনীতি মানে তাঁর কাছে ছিল আদর্শের লড়াই। নিজের টাকায় ছাত্রদলের সভা ও সমাবেশ আয়োজন করতেন।” এই সময় হান্নান রাজনৈতিক আদর্শ ও সমাজসেবাকে একত্রিত করেছিলেন, যা পরে তার কর্মীদের প্রতি আস্থা ও সমর্থনের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ফরিদগঞ্জে ত্যাগী নেতৃত্ব : ১৯৯৫ সালে তিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠন, নতুন কর্মী সংগ্রহ এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যান। ফরিদগঞ্জের এক নেতা জানান “যখন অন্যরা প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, হান্নান ভাই ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে কর্মীদের সাহস দিতেন।” ২০০১ সালের নির্বাচনে তাঁর কৌশলগত ভূমিকা দলের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মাঠের নেতা হিসেবে পরিচিত হন, যেখানে নেতৃস্থানীয় পদ বা মনোনয়নের বাইরেও তিনি দলের শক্তি ও ঐক্য রক্ষা করতে সক্ষম ছিলেন। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং কারাভোগ করেন। জেলের সময়ও দলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। বিএনপি নেতাদের ভাষ্যমতে “জেলে থাকার সময়ও তিনি কর্মীদের খবর রাখতেন। বেরিয়ে এসে প্রথমেই দলের পতাকা উড়িয়েছিলেন।” জেলাভোগের সময়ও হান্নান নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার কাজ চালিয়েছেন। এই নিপীড়নেও তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আন্দোলন ও জনমুখী নেতৃত্ব : ২০১৩-২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তিনি অগ্রভাগে ছিলেন। বাসায় তল্লাশি ও পরিবারের ওপর চাপ সহ্য করতে হয়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো তাকে দুর্বল করেনি; বরং রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং জনসংযোগ বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তিনি প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সব বিষয়ে এম এ হান্নান বলেন “দল আমার চেয়ে বড়। আমি নই, কাল হয়তো থাকব। কিন্তু বিএনপি থাকবে যতদিন এই দেশ থাকবে।”
হান্নান কেবল রাজনৈতিক নেতা নন : তিনি সমাজসেবার ক্ষেত্রেও সক্রিয়। তার নেতৃত্বের আওতায় ইউনিয়ন কমিটি পুনর্গঠন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং দরিদ্র পরিবার ও মাদ্রাসা উন্নয়ন কার্যক্রম চালু আছে। এক শিক্ষক মন্তব্য করে বলেন “রাজনীতি করলেও হান্নান সাহেব সমাজসেবাকে ভুলেননি।” এটি প্রমাণ করে, হান্নান জনমুখী নেতৃত্বে বিশ্বাসী এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেন।
২০২২ সালে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দলের পুনর্গঠন এবং কর্মীদের প্রেরণা বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাঁর নেতৃত্বের ধরন কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছে এবং দলকে স্থিতিশীল রেখেছে।
মনোনয়ন না পেলেও জনতার ভালোবাসা তাঁকে এগিয়ে রেখেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি হান্নানকে বাদ দেওয়া হয়, তা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করবে। “মানুষের একটাই দাবি, বিএনপির মনোনয়ন এম.এ. হান্নানকে দেওয়া হোক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হান্নানকে বাদ দেওয়া হলে: তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাবে। দলের ঐক্য নষ্ট হতে পারে। নির্বাচনী কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এম.এ. হান্নানের জনপ্রিয়তা এবং জনমত প্রমাণ করে যে, নেতৃস্থানীয় পদ না পেলেও তিনি ফরিদগঞ্জের স্থায়ী নেতা। তার নেতৃত্ব কেবল পদ বা পদবির জন্য নয়, বরং তার ত্যাগ, সংগ্রাম ও জনসংযোগের জন্য মূল্যবান।
মনোনয়ন না পেলেও মানুষের ভালোবাসা, তৃণমূলের সমর্থন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ এম.এ. হান্নানকে ফরিদগঞ্জের স্থায়ী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হান্নানকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দেবে এবং নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফরিদগঞ্জের তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে হলে, জনমতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মনোনয়ন দেওয়াই একমাত্র যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত। এম.এ. হান্নানের নেতৃত্ব, ত্যাগ এবং জনসংযোগই দলের ভরসা এবং নির্বাচনী শক্তির মূল ভিত্তি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

হান্নান মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশ তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা

আপডেট সময় ০৯:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদগঞ্জ উপজেলা রাজনৈতিকভাবে সবসময়ই দেশের রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে সম্প্রতি ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এক নাম এম.এ. হান্নান। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তৃণমূল কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের উচ্চ পর্যায়ের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যদি হান্নানকে বাদ দেওয়া হয়, তবে তা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করবে এবং নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফরিদগঞ্জে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হান্নানের প্রতি যে ভালোবাসা এবং সমর্থন রয়েছে, তা প্রমাণ করে যে তার নেতৃত্ব শুধুমাত্র পদ বা মনোনয়নের উপর নির্ভরশীল নয়।
সংক্ষেপে তার রাজনৈতিক জীবন : ফরিদগঞ্জের রাজনীতিতে একজন পরিচিত এবং জনপ্রিয় নেতা হিসেবে এম.এ. হান্নান স্থানীয় তৃণমূল এবং দলের কর্মীদের মধ্যে গভীর প্রভাব রেখেছেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুধুমাত্র পদ বা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং আদর্শ ও জনগণের কল্যাণের জন্য। হান্নান বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আহ্বায়ক হিসেবে তার কাজ শুধু দলের কার্যক্রম চালানো নয়, বরং ইউনিয়ন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী কর্মীশক্তি তৈরি করা। তিনি দলের পুনর্গঠন, কমিটি শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। হান্নানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় স্কুলে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শেষে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সমাজসেবা এবং বিত্তবান ও দরিদ্র ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো তার প্রাথমিক পরিচিতি হিসেবে কাজ করে।
হান্নান রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ছাত্রদলের মাধ্যমে। কলেজ জীবনেই তিনি তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কাজগুলিতে নেতৃত্ব দেন। দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনায় সহায়তা, স্কুল ও মাদ্রাসার সংস্কার এবং স্থানীয় কমিউনিটি কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তার ছাত্ররাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য।
হান্নান ফরিদগঞ্জের ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠন, নতুন কর্মী সংগ্রহ এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের প্রেরণা জোগানো এবং নির্বাচনী কৌশল সমন্বয়ে অবদান রেখেছেন। এছাড়া, দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছেন, যা তাকে জনমুখী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হান্নান মনোনয়ন না পেলেও তার জনপ্রিয়তা এবং জনমতের ভিত্তিতে তিনি তৃণমূল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সমর্থিত। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বারবার দাবি করেছেন যে, দলের মনোনয়ন এম.এ. হান্নানকে দেওয়া হোক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নেতা হওয়া কেবল পদ বা মনোনয়নের জন্য নয়; জনগণের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং রাজনৈতিক সততা প্রকৃত নেতা পরিচয় দেয়।
এম.এ. হান্নান জন্মগ্রহণ করেন ফরিদগঞ্জের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। শৈশব থেকেই তিনি মানুষের সমস্যা বোঝার প্রবণতা দেখিয়েছেন। পরিবার তাকে অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
“ছোটবেলাতেই হান্নান ভাইয়ের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ লক্ষ্য করা যেত। অন্যরা খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি ভাবতেন গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে।” শিশুকাল থেকেই হান্নান স্কুল ও কলেজে বিতর্ক এবং সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন, যা তার নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে হান্নান চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কলেজে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। এবং তখন থেকেই মানুষের উপকার করে আসছেন
দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনায় সহায়তা : হান্নান নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষার উপকরণ সরবরাহ করতেন। স্কুলে এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ বাড়াতে তিনি নিয়মিত সহায়তা প্রদান করতেন। এটি কেবল শিক্ষার্থীদের জীবন পরিবর্তন করত না, বরং হান্নানকে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করত।
স্কুল ও মাদ্রাসার সংস্কার : শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে হান্নান স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন।
ছাত্রদলের সভা ও সমাবেশ আয়োজন : হান্নান নিজের অর্থ এবং উদ্যোগে ছাত্রদলের সভা ও সমাবেশ আয়োজন করতেন, যাতে ছাত্ররা আদর্শিক রাজনীতি শিখতে পারে এবং দলের কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে। এটি তার নেতৃত্বের প্রতি ছাত্রদের আস্থা ও সমর্থন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা : শিক্ষাজীবনের সময় হান্নান স্থানীয় সমাজের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামের দরিদ্র পরিবার ও শিক্ষার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
“রাজনীতি মানে তাঁর কাছে ছিল আদর্শের লড়াই। নিজের টাকায় ছাত্রদলের সভা ও সমাবেশ আয়োজন করতেন।” এই সময় হান্নান রাজনৈতিক আদর্শ ও সমাজসেবাকে একত্রিত করেছিলেন, যা পরে তার কর্মীদের প্রতি আস্থা ও সমর্থনের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ফরিদগঞ্জে ত্যাগী নেতৃত্ব : ১৯৯৫ সালে তিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠন, নতুন কর্মী সংগ্রহ এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যান। ফরিদগঞ্জের এক নেতা জানান “যখন অন্যরা প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, হান্নান ভাই ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে কর্মীদের সাহস দিতেন।” ২০০১ সালের নির্বাচনে তাঁর কৌশলগত ভূমিকা দলের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মাঠের নেতা হিসেবে পরিচিত হন, যেখানে নেতৃস্থানীয় পদ বা মনোনয়নের বাইরেও তিনি দলের শক্তি ও ঐক্য রক্ষা করতে সক্ষম ছিলেন। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং কারাভোগ করেন। জেলের সময়ও দলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। বিএনপি নেতাদের ভাষ্যমতে “জেলে থাকার সময়ও তিনি কর্মীদের খবর রাখতেন। বেরিয়ে এসে প্রথমেই দলের পতাকা উড়িয়েছিলেন।” জেলাভোগের সময়ও হান্নান নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার কাজ চালিয়েছেন। এই নিপীড়নেও তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আন্দোলন ও জনমুখী নেতৃত্ব : ২০১৩-২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তিনি অগ্রভাগে ছিলেন। বাসায় তল্লাশি ও পরিবারের ওপর চাপ সহ্য করতে হয়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো তাকে দুর্বল করেনি; বরং রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং জনসংযোগ বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তিনি প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সব বিষয়ে এম এ হান্নান বলেন “দল আমার চেয়ে বড়। আমি নই, কাল হয়তো থাকব। কিন্তু বিএনপি থাকবে যতদিন এই দেশ থাকবে।”
হান্নান কেবল রাজনৈতিক নেতা নন : তিনি সমাজসেবার ক্ষেত্রেও সক্রিয়। তার নেতৃত্বের আওতায় ইউনিয়ন কমিটি পুনর্গঠন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং দরিদ্র পরিবার ও মাদ্রাসা উন্নয়ন কার্যক্রম চালু আছে। এক শিক্ষক মন্তব্য করে বলেন “রাজনীতি করলেও হান্নান সাহেব সমাজসেবাকে ভুলেননি।” এটি প্রমাণ করে, হান্নান জনমুখী নেতৃত্বে বিশ্বাসী এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেন।
২০২২ সালে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দলের পুনর্গঠন এবং কর্মীদের প্রেরণা বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাঁর নেতৃত্বের ধরন কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছে এবং দলকে স্থিতিশীল রেখেছে।
মনোনয়ন না পেলেও জনতার ভালোবাসা তাঁকে এগিয়ে রেখেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি হান্নানকে বাদ দেওয়া হয়, তা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করবে। “মানুষের একটাই দাবি, বিএনপির মনোনয়ন এম.এ. হান্নানকে দেওয়া হোক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হান্নানকে বাদ দেওয়া হলে: তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাবে। দলের ঐক্য নষ্ট হতে পারে। নির্বাচনী কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এম.এ. হান্নানের জনপ্রিয়তা এবং জনমত প্রমাণ করে যে, নেতৃস্থানীয় পদ না পেলেও তিনি ফরিদগঞ্জের স্থায়ী নেতা। তার নেতৃত্ব কেবল পদ বা পদবির জন্য নয়, বরং তার ত্যাগ, সংগ্রাম ও জনসংযোগের জন্য মূল্যবান।
মনোনয়ন না পেলেও মানুষের ভালোবাসা, তৃণমূলের সমর্থন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ এম.এ. হান্নানকে ফরিদগঞ্জের স্থায়ী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হান্নানকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দেবে এবং নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফরিদগঞ্জের তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে হলে, জনমতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মনোনয়ন দেওয়াই একমাত্র যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত। এম.এ. হান্নানের নেতৃত্ব, ত্যাগ এবং জনসংযোগই দলের ভরসা এবং নির্বাচনী শক্তির মূল ভিত্তি।