বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা গ্রামে শিশুরা ফুটবল খেলার সময় হালিম (২০) নামের এক পাখি শিকারীর পাখি উড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন, চান মিয়া (২৭), আতিক (২৩), আলম (৪২), নাজমিন (২৪), আসমানি (২৫) ও আজমিনা (২২)।
সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে বায়েজিদ (১৩) নামের এক শিশু তার সহপাঠিদের নিয়ে মাঠে ফটবল খেলা করছিল। খেলার সময় বলটি পাশের জমির মধ্যে যায়। ওই সময় একই গ্রামের হালিম ঐ জমিতে পাখি শিকার করছিল। বলটি সেখানে চলে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটে এবং পাখি উড়ে যায়। এতে অভিযুক্ত হালিম শিশু বায়েজিদকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে শিশুর মা তার পরিবারকে অভিযোগ দায়ের করার জন্য যায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। পরে একই গ্রামের প্রতিবেশী কাউসার আলী (২৫), আবু বক্কার (৫৫), আবু তাহের (৬৫) ও হালিমা বিবি (৫০) পূর্বপরিকল্পিতভাবে বায়েজিদদের বাড়িতে গিয়ে ধারালো চাকু ও বাঁশের লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হয়। এতে চান মিয়া, আতিক, আলম, নাজমিন, আসমানি ও আজমিনা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজমিন ও আসমানিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত হালিমের মা হালিমা বলেন, বল নিয়ে ধানের জমির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল তাকে নিষেধ করায় বায়েজিদ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ নিয়ে দুজনে মধ্যে মারামারি হয়। পরে আবার মিমাংসা করার জন্য বসার কথা হয়। কিন্তু এর মধ্যে আবার হট্টগোল শুরু হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাফিউল ইসলাম
বগুড়া প্রতিনিধি 



















