ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ রোকেয়া দিবসের মেলা কমিটিতে অভিজ্ঞদের বাদ, কৃষক দলের নাম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ভূমি কর্মকর্তার জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বাঞ্ছারামপুরে ইউপি সদস্য আবু মুসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম মিয়া গ্রেপ্তার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় পাবনায় দোয়া মাহফিল শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন নেভানোর মহড়া অনুষ্ঠিত শুরুর আগেই এশিয়া কাপ শেষ বাংলাদেশি তারকার সিলেটে ৪টি আসনে নতুন করে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা টানা ৪ মাস কমলো দেশের পণ্য রপ্তানি বগুড়ার শেরপুরে খরের পালা পুরে ছাই

পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ আলুর কোল্ড স্টোরেজ

দিনাজপুরে পার্বতীপুর উপজেলার বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ যেন আলুর কোল্ড স্টোরেজ।

বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল হলেও এই স্কুলে এখন একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী পড়ছে না। বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম, চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলছে। এরমধ্যে ৫ম শ্রেণিতে চারজন, চতুর্থ শ্রনিতে দুইজন ও তৃতীয় শ্রনিতে সাত জনের ক্লাস চলছে। দুই ছাত্র নিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। এমন চিত্র পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

পার্বতীপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যান্ত গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে উপজেলার বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ যেন পরিত্যক্ত গুদাম ঘর, দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম। কক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায়, কক্ষের পুরো মেঝেতে আলু বীজ রাখা হয়েছে সেখানে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজাতীয় বাচ্চাদের জন্য ১৯৯১ সালে দুই ভাইয়ের দান করা জমিতে এই বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু উপজাতীয় স্কুল হলেও একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী নেই। স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে আলুর ক্লোড স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, স্কুলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগদানের পর থেকে স্কুলটির নিজের মতো করে চালান। অভিভাবকদের সাথে অশোভন আচরন করে থাকে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষের দায়িত্বে থাকা মো: সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষ আলু বীজ আমার নয়, স্কুলের আয়ার। শ্রণি কক্ষ থেকে আলু অপসারণ করা হবে। আমাদের স্কুলের চুক্তিভিত্তিতে কাজ করে আয়া রেহেনা। আলুবীজ রুম থেকে সরানো হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিষয়ে জানেত চাইলে, তিনি দাবি করেন, স্কুলে নিয়মিত ১০৩ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিত দেখা যায় ১৩ জন। তবে, উপজাতীয় স্কুল হলেও এখানে একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। ২০খ্রিস্টান ধর্মীয় শিক্ষার্থী রয়েছে। ১ সনাতন শিক্ষার্থী রয়েছে।
পার্বতীপুর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ এনামুল হক সরকার বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি, বিদ্যালয় কক্ষ ফাকা করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ আলুর কোল্ড স্টোরেজ

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

দিনাজপুরে পার্বতীপুর উপজেলার বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ যেন আলুর কোল্ড স্টোরেজ।

বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল হলেও এই স্কুলে এখন একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী পড়ছে না। বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম, চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলছে। এরমধ্যে ৫ম শ্রেণিতে চারজন, চতুর্থ শ্রনিতে দুইজন ও তৃতীয় শ্রনিতে সাত জনের ক্লাস চলছে। দুই ছাত্র নিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। এমন চিত্র পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

পার্বতীপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যান্ত গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে উপজেলার বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ যেন পরিত্যক্ত গুদাম ঘর, দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম। কক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায়, কক্ষের পুরো মেঝেতে আলু বীজ রাখা হয়েছে সেখানে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজাতীয় বাচ্চাদের জন্য ১৯৯১ সালে দুই ভাইয়ের দান করা জমিতে এই বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু উপজাতীয় স্কুল হলেও একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী নেই। স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে আলুর ক্লোড স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, স্কুলে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগদানের পর থেকে স্কুলটির নিজের মতো করে চালান। অভিভাবকদের সাথে অশোভন আচরন করে থাকে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষের দায়িত্বে থাকা মো: সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষ আলু বীজ আমার নয়, স্কুলের আয়ার। শ্রণি কক্ষ থেকে আলু অপসারণ করা হবে। আমাদের স্কুলের চুক্তিভিত্তিতে কাজ করে আয়া রেহেনা। আলুবীজ রুম থেকে সরানো হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিষয়ে জানেত চাইলে, তিনি দাবি করেন, স্কুলে নিয়মিত ১০৩ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিত দেখা যায় ১৩ জন। তবে, উপজাতীয় স্কুল হলেও এখানে একজন উপজাতীয় শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। ২০খ্রিস্টান ধর্মীয় শিক্ষার্থী রয়েছে। ১ সনাতন শিক্ষার্থী রয়েছে।
পার্বতীপুর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ এনামুল হক সরকার বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি, বিদ্যালয় কক্ষ ফাকা করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।