ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ রোকেয়া দিবসের মেলা কমিটিতে অভিজ্ঞদের বাদ, কৃষক দলের নাম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ভূমি কর্মকর্তার জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বাঞ্ছারামপুরে ইউপি সদস্য আবু মুসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম মিয়া গ্রেপ্তার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় পাবনায় দোয়া মাহফিল শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন নেভানোর মহড়া অনুষ্ঠিত শুরুর আগেই এশিয়া কাপ শেষ বাংলাদেশি তারকার সিলেটে ৪টি আসনে নতুন করে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা টানা ৪ মাস কমলো দেশের পণ্য রপ্তানি বগুড়ার শেরপুরে খরের পালা পুরে ছাই

বিরোধীদের হট্টগোলের পর পাকিস্তানের সিনেটে ২৭তম সংশোধনী পাস

পাকিস্তানের সিনেটে সংবিধানের বিতর্কিত ২৭তম সংশোধনী পাস হয়েছে। সোমবার সিনেট অধিবেশনে বিরোধীদের প্রতিবাদের মুখেই সংশোধনী সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আজম নজির। এটি পাস হওয়ার আগ মুহূর্তে বিরোধী সিনেটররা ওয়াকআউট করেন।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা জিলানি। বিল পাসের আগেই বিরোধী সিনেটররা তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সরকার ও জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে আইনমন্ত্রীর দিকে বিলের কপি ছোড়েন। পরে বেশিরভাগ বিরোধী সিনেটর বেরিয়ে যান। এরপর বিলটি পাস হয়।

এর আগে পার্লামেন্টের আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলে কিছু সংশোধনী এনে অনুমোদন দেওয়া হয়। বিরোধীরা ওই বৈঠকও বর্জন করেন।

পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সংশোধনীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬৪ জন সিনেটর। বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। বিলটি পাসের জন্য ৯৬ সিনেটরের মধ্যে ৬৪ জনের সমর্থন লাগতো।

সংবিধানের এই সংশোধনীর লক্ষ্য হলো শাসন কাঠামোর আধুনিকীকরণ। প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা এবং ২০০৬ সালের ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’-এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।

তবে গত কয়েক দিন ধরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে। এর আওতায় এতদিন সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু সংশোধনের পর সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবেন সেনাপ্রধান। তিনি সব বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) ওপর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন। বলা হচ্ছে, এটি পাকিস্তানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে ক্ষমতার ভারসাম্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

বিরোধীদের হট্টগোলের পর পাকিস্তানের সিনেটে ২৭তম সংশোধনী পাস

আপডেট সময় ০৮:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের সিনেটে সংবিধানের বিতর্কিত ২৭তম সংশোধনী পাস হয়েছে। সোমবার সিনেট অধিবেশনে বিরোধীদের প্রতিবাদের মুখেই সংশোধনী সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আজম নজির। এটি পাস হওয়ার আগ মুহূর্তে বিরোধী সিনেটররা ওয়াকআউট করেন।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা জিলানি। বিল পাসের আগেই বিরোধী সিনেটররা তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সরকার ও জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে আইনমন্ত্রীর দিকে বিলের কপি ছোড়েন। পরে বেশিরভাগ বিরোধী সিনেটর বেরিয়ে যান। এরপর বিলটি পাস হয়।

এর আগে পার্লামেন্টের আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলে কিছু সংশোধনী এনে অনুমোদন দেওয়া হয়। বিরোধীরা ওই বৈঠকও বর্জন করেন।

পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সংশোধনীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬৪ জন সিনেটর। বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। বিলটি পাসের জন্য ৯৬ সিনেটরের মধ্যে ৬৪ জনের সমর্থন লাগতো।

সংবিধানের এই সংশোধনীর লক্ষ্য হলো শাসন কাঠামোর আধুনিকীকরণ। প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা এবং ২০০৬ সালের ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’-এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।

তবে গত কয়েক দিন ধরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে। এর আওতায় এতদিন সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু সংশোধনের পর সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবেন সেনাপ্রধান। তিনি সব বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) ওপর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন। বলা হচ্ছে, এটি পাকিস্তানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে ক্ষমতার ভারসাম্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।