ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

কমলনগরে দীর্ঘ ৪০ বছরেও পাকা হয়নি সড়ক

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের হাওলাদারপাড়া-বারঘর সড়কটি ৪০ বছরেও পাকাকরণের উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি। সড়কটি নির্মাণের পর থেকেই রয়েছে কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার ২০ হাজার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসী জানান, চরকাদিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের হোসেন হাওলাদারের বাড়ি থেকে বারঘর হয়ে কিল্লার রোড নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পর ৪০ বছর থেকে কাঁচা রয়েছে।

রাস্তার আশপাশে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস কিন্তু রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ কেউ নেয়নি। শুধু আশ্বাসেই কেটেছে ৪০ বছর। তারা জানান, পতিত সরকারের শেষ সময়ে কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির লোকজন এসে সার্ভে করে কাজ শেষ করেন। এর পর থেকে আর কোনো খবর নেননি তারা।
এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি পিচ ঢালাই করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন আরজু হাওলাদার বলেন, ‘হাওলাদারপাড়া-বারঘর সড়কটি ৪০ বছর ধরে অবহেলিত। প্রতিদিন স্থানীয় ফজুমিয়ারহাট বাজারে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে হাটবাজারে ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করণের দাবি জানাই।’ মাওলানা ওসমান গনি বলেন, ‘রাস্তাটির দুপাশে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে স্কুল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পাঠদান করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে কষ্ট হয়। বর্ষার সময়ে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ থাকে। তখন বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

আমরা চাই গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি পাকা করা হোক।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য অনেকবার এ আসনের সাবেক এমপি মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের কাছে কয়েকবার অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েও করেননি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি পাকা করার জোর দাবি জানাই।’ চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই সড়কটি এই ইউনিয়নের একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ ৪০ বছর হয়ে গেল, রাস্তাটি পাকা করণের কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। রাস্তাটি পাকা করণের জন্য তিনি এলজিইডি অফিসারকে অনুরোধ করবেন।’

কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ জানান, সরেজমিনে গিয়ে দেখে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত-উজ-জামান জানান, বিষয়টি দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

কমলনগরে দীর্ঘ ৪০ বছরেও পাকা হয়নি সড়ক

আপডেট সময় ১১:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের হাওলাদারপাড়া-বারঘর সড়কটি ৪০ বছরেও পাকাকরণের উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি। সড়কটি নির্মাণের পর থেকেই রয়েছে কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার ২০ হাজার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসী জানান, চরকাদিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের হোসেন হাওলাদারের বাড়ি থেকে বারঘর হয়ে কিল্লার রোড নামক স্থান পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পর ৪০ বছর থেকে কাঁচা রয়েছে।

রাস্তার আশপাশে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস কিন্তু রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ কেউ নেয়নি। শুধু আশ্বাসেই কেটেছে ৪০ বছর। তারা জানান, পতিত সরকারের শেষ সময়ে কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির লোকজন এসে সার্ভে করে কাজ শেষ করেন। এর পর থেকে আর কোনো খবর নেননি তারা।
এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি পিচ ঢালাই করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন আরজু হাওলাদার বলেন, ‘হাওলাদারপাড়া-বারঘর সড়কটি ৪০ বছর ধরে অবহেলিত। প্রতিদিন স্থানীয় ফজুমিয়ারহাট বাজারে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে হাটবাজারে ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করণের দাবি জানাই।’ মাওলানা ওসমান গনি বলেন, ‘রাস্তাটির দুপাশে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে স্কুল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পাঠদান করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে কষ্ট হয়। বর্ষার সময়ে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ থাকে। তখন বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

আমরা চাই গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি পাকা করা হোক।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য অনেকবার এ আসনের সাবেক এমপি মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের কাছে কয়েকবার অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েও করেননি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি পাকা করার জোর দাবি জানাই।’ চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই সড়কটি এই ইউনিয়নের একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ ৪০ বছর হয়ে গেল, রাস্তাটি পাকা করণের কোনো উদ্যোগ কেউ নেয়নি। রাস্তাটি পাকা করণের জন্য তিনি এলজিইডি অফিসারকে অনুরোধ করবেন।’

কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ জানান, সরেজমিনে গিয়ে দেখে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত-উজ-জামান জানান, বিষয়টি দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবেন।