সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

দুর্নীতির অভিযোগে গণপূর্তের প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম বাধ্যতামূলক অবসরে

ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) ড. মো. মঈনুল ইসলামকে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবং জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন বিবেচনা করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী ড. মঈনুল ইসলামকে অবসর দেওয়া হয়েছে। তিনি অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিনটি বড় প্রকল্প– র‌্যাব সদর দফতর নির্মাণ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্র জানায়, কথিত যুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশে এসব প্রকল্পে অনিয়ম করেন মঈনুল। জি কে শামীমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঘুষ ও কমিশন গ্রহণের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এর আগে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মঈনুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক গাজী নোয়ামুল আহসান তাঁর কাছ থেকে প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিষয়ে তথ্য নেন।

দুদক সূত্র জানায়, ২৬ ডিসেম্বর মঈনুল ইসলামের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হয় এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত নথিপত্রও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, র‌্যাব সদর দফতর নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম করে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন মঈনুল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পে ১৩.৫ শতাংশ হারে কমিশন নেন এবং রূপপুর প্রকল্পে ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়।

গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন দুদকে।

দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকৌশলী মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাঁর অবসর আদেশকে সেই অনুসন্ধানের ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

দুর্নীতির অভিযোগে গণপূর্তের প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম বাধ্যতামূলক অবসরে

আপডেট সময় ১১:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) ড. মো. মঈনুল ইসলামকে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবং জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন বিবেচনা করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী ড. মঈনুল ইসলামকে অবসর দেওয়া হয়েছে। তিনি অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিনটি বড় প্রকল্প– র‌্যাব সদর দফতর নির্মাণ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্র জানায়, কথিত যুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশে এসব প্রকল্পে অনিয়ম করেন মঈনুল। জি কে শামীমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঘুষ ও কমিশন গ্রহণের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এর আগে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মঈনুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক গাজী নোয়ামুল আহসান তাঁর কাছ থেকে প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিষয়ে তথ্য নেন।

দুদক সূত্র জানায়, ২৬ ডিসেম্বর মঈনুল ইসলামের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হয় এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত নথিপত্রও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, র‌্যাব সদর দফতর নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম করে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন মঈনুল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পে ১৩.৫ শতাংশ হারে কমিশন নেন এবং রূপপুর প্রকল্পে ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়।

গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন দুদকে।

দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকৌশলী মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাঁর অবসর আদেশকে সেই অনুসন্ধানের ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই মনে করা হচ্ছে।