‘লয়ে গোধন গোষ্টের কানন, চল গোকুল বিহারী, গোষ্টে চলো হরিমুরারি; ওরে ও ভাই কেলে সোনা, চরণে নুপুর নে না; মাথায় মোহন চোরা দে না, ধরা পড় বংশীধারী’।
লালনের এই গানের সঙ্গে দই, চিড়া, মুড়ি, পায়েস আর ফল দিয়ে প্রস্তুত করা খাবার ‘বাল্যসেবা’ গ্রহণ করে গত বৃহস্পতিবার সকালে লালনের ধামে গুরু লালনের সাধন-ভজনে মগ্ন হয়েছিলেন সাধু-গুরুরা। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের পর মাছ, ভাত, সবজি, ডাল আর দই দিয়ে খাবার ‘পূণ্যসেবা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাধু-গুরুর আধ্যাত্মিক আচার অষ্টপ্রহরের ‘সাধুসঙ্গ’ শেষ করেন। এর মাধ্যমেই শেষ হয় লালনের ১৩৫তম তিরোধান দিবসের উৎসবে আসা সাধক ফকির ও বাউলদের মূল অনুষ্ঠান।
আজও দিনভর আখড়াবাড়িতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লালনভক্ত ও অনুসারীরা নেচে-গেয়ে স্মরণ করেন গুরুকে। তারা জানান, ভাবের আদান-প্রদান ও নিজের আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনের জন্য আমরা বারবার লালনের এই ধামে ছুটে আসি।
এই সময়ে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান ও তত্ত্ব-আলোচনায় মগ্ন থাকেন। শনিবার দুপুরে তাঁদের আড়াই দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ছেউড়িয়া ত্যাগ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সংস্কৃতি মন্ত্রণায়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন জাতীয়ভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, লালন সাঁই একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক ছিলেন।
দেশি-বিদেশি অতিথিসহ এ বছর লালনের ১৩৫তম তিরোধান দিবসের উৎসবে কয়েক লাখ মানুষের আগমন ঘটেছে। মরমী সাধক লালনের আধ্যাত্মিক গান ও জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনায় মুখর ছেঁউড়িয়া।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 




















