ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪

বগুড়ায় মা-ছেলে হত্যার জট খুলল পুলিশ, নিহতের মামাতো ভাই গ্রেপ্তার

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদকাসক্তি ও ঋণের বোঝা থেকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া হত্যার পর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে শিবগঞ্জের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে রাণী বেগম (৪০) এবং তার ছেলে ইমরান হোসেনকে (২২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত ইমরানের মামাতো ভাই জিসান (২০) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার দুই বন্ধু মাহি ইসলাম ও সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইমরানের মোটরসাইকেল চুরির পর বিক্রি করে ঋণ শোধ ও মাদকের টাকা জোগাড় করা। চুরির সময় ইমরান বাধা দিলে প্রথমে তাকে, পরে তার মা রাণী বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মোটরসাইকেল লুট করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর বগুড়ার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামের নির্দেশনায় ও শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উৎপল কুমার বোসের নেতৃত্বে গঠিত একটি টিম ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার পূর্ব নরসিংহপুর এলাকা থেকে মাহি ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাহি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর সকালে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকা থেকে জিসান ও সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তই মাদকাসক্ত এবং বিভিন্নজনের কাছে ঋণগ্রস্ত ছিল। অর্থনৈতিক চাপ ও আসক্তির জালে পড়ে তারা এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বগুড়ায় মা-ছেলে হত্যার জট খুলল পুলিশ, নিহতের মামাতো ভাই গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৭:১৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদকাসক্তি ও ঋণের বোঝা থেকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া হত্যার পর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে শিবগঞ্জের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে রাণী বেগম (৪০) এবং তার ছেলে ইমরান হোসেনকে (২২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত ইমরানের মামাতো ভাই জিসান (২০) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার দুই বন্ধু মাহি ইসলাম ও সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইমরানের মোটরসাইকেল চুরির পর বিক্রি করে ঋণ শোধ ও মাদকের টাকা জোগাড় করা। চুরির সময় ইমরান বাধা দিলে প্রথমে তাকে, পরে তার মা রাণী বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মোটরসাইকেল লুট করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর বগুড়ার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামের নির্দেশনায় ও শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উৎপল কুমার বোসের নেতৃত্বে গঠিত একটি টিম ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার পূর্ব নরসিংহপুর এলাকা থেকে মাহি ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাহি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর সকালে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকা থেকে জিসান ও সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তই মাদকাসক্ত এবং বিভিন্নজনের কাছে ঋণগ্রস্ত ছিল। অর্থনৈতিক চাপ ও আসক্তির জালে পড়ে তারা এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।