ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪

পীরগঞ্জে বিএডিসি-পল্লী বিদ্যুতের যোগসাজোশে সেচযন্ত্র স্থাপনে কারসাজি

রংপুরের পীরগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পানির সেচ ব্যবস্থায় সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নলকূপ স্থাপনে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

সরকারি গেজেটে নির্ধারিত ১৬’শ ফুট দূরত্ব না মেনে পাশাপাশি বসানো হয়েছে দুটি অগভীর নলকূপ। এতে দীর্ঘদিনের একটি গভীর নলকূপের পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গভীর নলকূপ মালিকের সঙ্গে অগভীর নলকূপ মালিকদের প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের হয়েছে ।
উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে ১৯৭৮ সালে বিএডিসি একটি ২ কিউসেফ গভীর নলকূপ (নং ই–৫৪) স্থাপন করে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় মোন্নাফ মিয়া। ১৯৯৯ সালে বিএডিসি ওই নলকূপটির মালিকানা বেহবতপুর গ্রামের মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে আজিজুল ইসলাম–এর কাছে হস্তান্তর করে (বিদ্যুৎ হিসাব নং–১৭০/১১৩২)।

আজিজুল ইসলাম নিয়মিতভাবে কৃষকদের ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ করে আসছেন। কিন্তু ২০০৮ সালে ভুজুবাড়ী গ্রামের ফজলুল হক লেলিন (বিদ্যুৎ হিসাব নং–১৬০/৩৮৪০) এবং ২০১৯ সালে শাহজাহান মিয়া (বিদ্যুৎ হিসাব নং–১৬০/২৩৫০) উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন নিয়ে অগভীর নলকূপ স্থাপন করেন।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী (১৯৮৭ ও ২০১৯), এক নলকূপ থেকে অন্য নলকূপের দূরত্ব কমপক্ষে ১,৬০০ ফুট হতে হবে। কিন্তু ওই দুটি অগভীর নলকূপ যথাক্রমে ১,১৮৫ ফুট ও ১,২০৮ ফুট দূরত্বে বসানো হয়—যা সরাসরি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
অভিযোগ রয়েছে—পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জমির দাগ বা স্থান যাচাই না করেই সংযোগ দেয়। বিশেষ করে শাহজাহান মিয়াকে ৮৮০ নং দাগে নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও, তিনি অনুমতি ছাড়াই ৮১৬ নং দাগে নলকূপ স্থাপন করেন।

এ বিষয়ে বিএডিসি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা বিনিময়ের মাধ্যমে সংযোগ সচল রাখা হয়েছে।

বছরের পর বছর প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায়, গভীর নলকূপ মালিক আজিজুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট নং–১৪২৬৭/২৪ দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন,“বিএডিসি ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু তারা বারবার আশ্বাস দিয়ে কিছুই করেননি। এতে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অগভীর নলকূপ বসানোর পর থেকে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমে গেছে এবং চাষাবাদে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী দাবি করেন,বিএডিসি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন,“নিয়ম ভেঙে নলকূপ বসানোর কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা আছে।”

এলাকাবাসীর সচেতন মহল বলেন, পীরগঞ্জের পাকুড়িয়া গ্রামে সেচব্যবস্থায় যে অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে, তা দেশের গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
হাইকোর্টে রিটের পরও যদি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এটি সেচ খাতে অনিয়মের একটি বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে ।
ফলেএলাকাবাসীর দাবি অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

পীরগঞ্জে বিএডিসি-পল্লী বিদ্যুতের যোগসাজোশে সেচযন্ত্র স্থাপনে কারসাজি

আপডেট সময় ০৭:৪০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

রংপুরের পীরগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পানির সেচ ব্যবস্থায় সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নলকূপ স্থাপনে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

সরকারি গেজেটে নির্ধারিত ১৬’শ ফুট দূরত্ব না মেনে পাশাপাশি বসানো হয়েছে দুটি অগভীর নলকূপ। এতে দীর্ঘদিনের একটি গভীর নলকূপের পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গভীর নলকূপ মালিকের সঙ্গে অগভীর নলকূপ মালিকদের প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের হয়েছে ।
উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে ১৯৭৮ সালে বিএডিসি একটি ২ কিউসেফ গভীর নলকূপ (নং ই–৫৪) স্থাপন করে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় মোন্নাফ মিয়া। ১৯৯৯ সালে বিএডিসি ওই নলকূপটির মালিকানা বেহবতপুর গ্রামের মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে আজিজুল ইসলাম–এর কাছে হস্তান্তর করে (বিদ্যুৎ হিসাব নং–১৭০/১১৩২)।

আজিজুল ইসলাম নিয়মিতভাবে কৃষকদের ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ করে আসছেন। কিন্তু ২০০৮ সালে ভুজুবাড়ী গ্রামের ফজলুল হক লেলিন (বিদ্যুৎ হিসাব নং–১৬০/৩৮৪০) এবং ২০১৯ সালে শাহজাহান মিয়া (বিদ্যুৎ হিসাব নং–১৬০/২৩৫০) উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন নিয়ে অগভীর নলকূপ স্থাপন করেন।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী (১৯৮৭ ও ২০১৯), এক নলকূপ থেকে অন্য নলকূপের দূরত্ব কমপক্ষে ১,৬০০ ফুট হতে হবে। কিন্তু ওই দুটি অগভীর নলকূপ যথাক্রমে ১,১৮৫ ফুট ও ১,২০৮ ফুট দূরত্বে বসানো হয়—যা সরাসরি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
অভিযোগ রয়েছে—পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জমির দাগ বা স্থান যাচাই না করেই সংযোগ দেয়। বিশেষ করে শাহজাহান মিয়াকে ৮৮০ নং দাগে নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও, তিনি অনুমতি ছাড়াই ৮১৬ নং দাগে নলকূপ স্থাপন করেন।

এ বিষয়ে বিএডিসি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা বিনিময়ের মাধ্যমে সংযোগ সচল রাখা হয়েছে।

বছরের পর বছর প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায়, গভীর নলকূপ মালিক আজিজুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট নং–১৪২৬৭/২৪ দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন,“বিএডিসি ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু তারা বারবার আশ্বাস দিয়ে কিছুই করেননি। এতে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অগভীর নলকূপ বসানোর পর থেকে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমে গেছে এবং চাষাবাদে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী দাবি করেন,বিএডিসি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন,“নিয়ম ভেঙে নলকূপ বসানোর কারণে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা আছে।”

এলাকাবাসীর সচেতন মহল বলেন, পীরগঞ্জের পাকুড়িয়া গ্রামে সেচব্যবস্থায় যে অনিয়ম ও কারসাজি হয়েছে, তা দেশের গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
হাইকোর্টে রিটের পরও যদি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এটি সেচ খাতে অনিয়মের একটি বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে ।
ফলেএলাকাবাসীর দাবি অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।