ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন
পাল্টা অভিযোগ সহকর্মীদের অনিয়মে

সিংগাইরে সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

সিংগাইর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জোবায়দা গুলশান আরার বিরুদ্ধে অধীনস্থদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সাড়ে আট বছর ধরে একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জোবায়দা গুলশান আরা প্রায়ই অফিসে দেরিতে আসেন—বেলা ১২টার আগে সচরাচর উপস্থিত হন না। তাছাড়া তিনি নানাভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং “রোগী সেজে” ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জোবায়দা গুলশান আরা।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং আমার সাবেক সহকর্মী ডা. হাকিম নিয়মিত অফিসে এলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন না। ডা. রাসেল শাহা রোগীদের বেআইনিভাবে চিকিৎসাপত্র দিতেন। এ নিয়ে ডা. মনিরা সুলতানার সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। এর বাইরে কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।

তিনি আরও দাবি করেন “ডা. হাকিম, মুনিরা সুলতানা ও রাসেল শাহা অনিয়ম করায় কর্তৃপক্ষ তাদের বদলি করেছে। কিন্তু তারা এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।

অন্যদিকে বদলি হওয়া কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন
ডা. মনিরা সুলতানা বলেন, “জোবায়দা গুলশান আরা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সরিয়ে দেওয়া।”
ডা. হাকিম বলেন, “আমি অষ্টম গ্রেডের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা আমার দায়িত্ব নয়। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাই স্বাক্ষর করবেন। কর্মকর্তাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে-এমন কোনো সরকারি বিধান নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিয়মিত অফিস করি। আমার উপস্থিতি আমার ইমিডিয়েট বস নিশ্চিত করেন। এসব বিষয় প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা সম্ভব।”
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “একই উপজেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকলে এ ধরনের দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার সংঘাত প্রায়ই দেখা যায়। বিষয়টি যাচাই করে দেখা উচিত।”
স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিংগাইর সমাজসেবা কার্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সরকারি সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক জানান, “আমরা বিষয়টি জানি। উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অফিস রাজনীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রোটেশন ও তদারকি জোরদার না হলে মাঠ প্রশাসনের সেবার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

পাল্টা অভিযোগ সহকর্মীদের অনিয়মে

সিংগাইরে সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৫০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

সিংগাইর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জোবায়দা গুলশান আরার বিরুদ্ধে অধীনস্থদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সাড়ে আট বছর ধরে একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জোবায়দা গুলশান আরা প্রায়ই অফিসে দেরিতে আসেন—বেলা ১২টার আগে সচরাচর উপস্থিত হন না। তাছাড়া তিনি নানাভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং “রোগী সেজে” ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জোবায়দা গুলশান আরা।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং আমার সাবেক সহকর্মী ডা. হাকিম নিয়মিত অফিসে এলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন না। ডা. রাসেল শাহা রোগীদের বেআইনিভাবে চিকিৎসাপত্র দিতেন। এ নিয়ে ডা. মনিরা সুলতানার সঙ্গে তার মতবিরোধ হয়। এর বাইরে কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।

তিনি আরও দাবি করেন “ডা. হাকিম, মুনিরা সুলতানা ও রাসেল শাহা অনিয়ম করায় কর্তৃপক্ষ তাদের বদলি করেছে। কিন্তু তারা এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।

অন্যদিকে বদলি হওয়া কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন
ডা. মনিরা সুলতানা বলেন, “জোবায়দা গুলশান আরা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সরিয়ে দেওয়া।”
ডা. হাকিম বলেন, “আমি অষ্টম গ্রেডের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা আমার দায়িত্ব নয়। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাই স্বাক্ষর করবেন। কর্মকর্তাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে-এমন কোনো সরকারি বিধান নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিয়মিত অফিস করি। আমার উপস্থিতি আমার ইমিডিয়েট বস নিশ্চিত করেন। এসব বিষয় প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা সম্ভব।”
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “একই উপজেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকলে এ ধরনের দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার সংঘাত প্রায়ই দেখা যায়। বিষয়টি যাচাই করে দেখা উচিত।”
স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিংগাইর সমাজসেবা কার্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ায় সরকারি সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক জানান, “আমরা বিষয়টি জানি। উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অফিস রাজনীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রোটেশন ও তদারকি জোরদার না হলে মাঠ প্রশাসনের সেবার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।