নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইবনে সিনা সরকার ছনির বিরুদ্ধে এক সহকারী শিক্ষিকাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার বিকৃত ছবি পোস্ট করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ইবনে সিনা সরকার ছনির বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর-২০২৫ ইং তারিখে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ইবনে সিনা সরকার ছনি ট্রেড-ইন্সট্রাক্টর সাইফুল ইসলামের সঙ্গে উত্তেজিত ভাষায় অস্বাভাবিক আচরণ ও গালাগালি করেন। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা মোছা. সুলতানা নাজনীন নাহার বিষয়টির প্রতিবাদ করলে ইবনে সিনা সরকার ছনি তাকেও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেন।
পরে প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক ঘটনাস্থলে এলে বিষয়টি শান্ত হয়। ওই দিন স্টাফ মিটিংয়ে বিষয়টি মৌখিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ছুটির পর ইবনে সিনা সরকার ছনি তার ফেসবুক আইডি থেকে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজনীন নাহার সুলতানার ছবি বিকৃত করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর/২৫ বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকের নজরে এলে ছনির বিরুদ্ধে তারা উপযুক্ত বিচার চেয়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। পরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের আশ্বাসে তারা কর্মবিরতি তুলে নেন এবং নাজনীন নাহার সুলতানা আর কোনো ব্যবস্থা নেননি।
কিন্তু গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইবনে সিনা সরকার ছনি অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর অন্য ফেসবুক আইডি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলিপ কুমার মন্ডলের ও সহকারী শিক্ষক মোছা. সুলতানা নাজনীন নাহারের বিকৃত ছবি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ভাইরাল করা হয়। এ ঘটনায় মোছা. সুলতানা নাজনীন নাহার শিক্ষক হিসেবে সমাজে মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছেন বলে জানান। তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেও মানসিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর/২৫ ইং তারিখে সহকারী শিক্ষিকা মোছা. সুলতানা নাজনীন নাহার সহকারী শিক্ষক ইবনে সিনা সরকার ছনির বিরুদ্ধে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার মন্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছনি বলেন, আমি স্কুলে একটি চেয়ার কিনে দিই, আর সে চেয়ারকে কেন্দ্র করে আমাদের মাঝে হালকা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা স্কুলে বসে মিটিংয়ের মাধ্যমে সেরে নিবো। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন,আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ): 



















