ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

একই আঙিনায় অবস্থিত মসজিদ-মন্দির

আঙিনার এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে মন্দির। অভিন্ন আঙিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। মন্দিরে সকাল-সন্ধ্যা চলে প্রাত্যহিক পূজা-অর্চনা। একই স্থানে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পাদনে কখনও কারও কোনো সমস্যা হয়নি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য এ নিদর্শন দেখা গেছে লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে।
লালমনিরহাট শহরে ১৮৩৬ সালে পুরানবাজার কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৫ সালে মন্দিরের দেড় থেকে দুই ফুট দূরত্বে ওয়াক্তিয়া মসজিদ তৈরি হয়। পরে কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দির আর ওয়াক্তিয়া মসজিদ পুরানবাজার জামে মসজিদে রূপান্তরিত হয়।

কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী জানান, প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা-অর্চনা হবে। নামাজের সময় মাইক ও মন্দিরের ঢাক-ঢোল বন্ধ থাকবে। নামাজ শেষে সুগন্ধি ছড়াবে ধূপের কাঠি। শুরু হবে ঢাকের বাজনা। যুগ যুগ ধরে চলা এই সম্প্রীতি আমরা ধরে রাখব।

প্রতিমা তৈরির কারিগর পল্লব মালী বলেন, মন্দিরের বাইরে পর্দা টানিয়ে ভেতরে আমরা কাজ করেছি। প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড়ের কাজ চলছে।
সম্প্রীতির আরেক উদাহরণ পঞ্চগড়ের জিতাপাড়া এলাকা। উপজেলা সদরের গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের জিতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে পূজামণ্ডপ। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই মাঠে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। পাশেই পূজামণ্ডপে চলে পূজা-অর্চনা আর উলু ধ্বনি। তবে নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখা হয়। মসজিদ কমিটি ও পূজা উদযাপন কমিটি আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন চন্দ্র রায় বলেন, জিতাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে ২৫/৩০ বছর ধরে দুর্গোৎসব পালন করছি। পাশেই মসজিদ। মুসল্লিরা নামাজ পড়েন, আমরা পূজা-অর্চনা করি। নামাজের সময় গান-বাজনা, ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখি।

জিতাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব বর্মণ বলেন, ২৪ বছর ধরে এখানে পূজা করে আসছি। কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। মুসল্লিরা আমাদের সব সময় সহযোগিতা করেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাছারি মাঠের এক পাশে কাছারি মাঠ জামে মসজদি, অন্যপাশে কাছারি মাঠ দুর্গাপূজা মন্দির। একশ গজ দূরত্বের দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ৫০ বছর ধরে মানবতার অনন্য নিদর্শন।
জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের আগে জগদীশ নারায়ণ বুত বাহাদুর দুর্গাপূজা পালন করতে ছোট আকারে চালাঘর তৈরি করেন। ফুলবাড়ী-লালমনিরহাট সড়কে জিরো পয়েন্টের পাশে কাছারি মাঠে নির্মাণ করা হয় মন্দির। আশির দশকের আগে ফুলবাড়ী বাজারে টিনশেড ঘরে নামাজ আদায় শুরু করেন মুসল্লিরা। বাজারের জন্য ঘর করায় মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়।
ইউএনও মেহেনুমা তারান্নম জানান, ফুলবাড়ীর মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। এলাকার একই আঙিনায় মসজিদ আর মন্দির সম্প্রীতির সাক্ষী হয়ে আছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

একই আঙিনায় অবস্থিত মসজিদ-মন্দির

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

আঙিনার এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে মন্দির। অভিন্ন আঙিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। মন্দিরে সকাল-সন্ধ্যা চলে প্রাত্যহিক পূজা-অর্চনা। একই স্থানে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পাদনে কখনও কারও কোনো সমস্যা হয়নি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য এ নিদর্শন দেখা গেছে লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে।
লালমনিরহাট শহরে ১৮৩৬ সালে পুরানবাজার কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৫ সালে মন্দিরের দেড় থেকে দুই ফুট দূরত্বে ওয়াক্তিয়া মসজিদ তৈরি হয়। পরে কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দির আর ওয়াক্তিয়া মসজিদ পুরানবাজার জামে মসজিদে রূপান্তরিত হয়।

কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী জানান, প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা-অর্চনা হবে। নামাজের সময় মাইক ও মন্দিরের ঢাক-ঢোল বন্ধ থাকবে। নামাজ শেষে সুগন্ধি ছড়াবে ধূপের কাঠি। শুরু হবে ঢাকের বাজনা। যুগ যুগ ধরে চলা এই সম্প্রীতি আমরা ধরে রাখব।

প্রতিমা তৈরির কারিগর পল্লব মালী বলেন, মন্দিরের বাইরে পর্দা টানিয়ে ভেতরে আমরা কাজ করেছি। প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড়ের কাজ চলছে।
সম্প্রীতির আরেক উদাহরণ পঞ্চগড়ের জিতাপাড়া এলাকা। উপজেলা সদরের গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের জিতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে পূজামণ্ডপ। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই মাঠে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। পাশেই পূজামণ্ডপে চলে পূজা-অর্চনা আর উলু ধ্বনি। তবে নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখা হয়। মসজিদ কমিটি ও পূজা উদযাপন কমিটি আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন চন্দ্র রায় বলেন, জিতাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে ২৫/৩০ বছর ধরে দুর্গোৎসব পালন করছি। পাশেই মসজিদ। মুসল্লিরা নামাজ পড়েন, আমরা পূজা-অর্চনা করি। নামাজের সময় গান-বাজনা, ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখি।

জিতাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব বর্মণ বলেন, ২৪ বছর ধরে এখানে পূজা করে আসছি। কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। মুসল্লিরা আমাদের সব সময় সহযোগিতা করেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাছারি মাঠের এক পাশে কাছারি মাঠ জামে মসজদি, অন্যপাশে কাছারি মাঠ দুর্গাপূজা মন্দির। একশ গজ দূরত্বের দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ৫০ বছর ধরে মানবতার অনন্য নিদর্শন।
জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের আগে জগদীশ নারায়ণ বুত বাহাদুর দুর্গাপূজা পালন করতে ছোট আকারে চালাঘর তৈরি করেন। ফুলবাড়ী-লালমনিরহাট সড়কে জিরো পয়েন্টের পাশে কাছারি মাঠে নির্মাণ করা হয় মন্দির। আশির দশকের আগে ফুলবাড়ী বাজারে টিনশেড ঘরে নামাজ আদায় শুরু করেন মুসল্লিরা। বাজারের জন্য ঘর করায় মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়।
ইউএনও মেহেনুমা তারান্নম জানান, ফুলবাড়ীর মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। এলাকার একই আঙিনায় মসজিদ আর মন্দির সম্প্রীতির সাক্ষী হয়ে আছে।