ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

তামাকের বিকল্প , আধুনিক কৃষির সম্ভাবনায় জেগেছে, গংগাচড়া

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলা কৃষি উন্নয়নে খুলেছে নতুন এক দিগন্ত। একসময়ের তামাক নির্ভর এলাকার কৃষকরা এখন আশাবাদী আধুনিক কৃষির সম্ভাবনায়। চলতি আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ করেছেন, যা কৃষি খাতে পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল ইঙ্গিত।
আমন ধানের জন্য এ মৌসুমে ১৯,৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদারকি, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষকদের আগ্রহের ফলে আবাদ হয়েছে ১৯,৩৫৫ হেক্টর জমিতে। আধুনিক পদ্ধতিতে জমি আবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ এবং সঠিক দিকনির্দেশনার প্রভাব এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এ মৌসুমে ২,৭০০ জন কৃষককে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে উন্নত জাতের ধান বীজ ও সার। প্রত্যেক কৃষক পেয়েছেন ৫ কেজি উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার। এই সহায়তায় ৩৬১ হেক্টর জমি এসেছে উন্নত চাষের আওতায়। কৃষক আলম মিয়া ও নরেশ চন্দ্র সরকার জানান, “এবার সময়মতো ভালো মানের বীজ ও সার পেয়েছি, তাই ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।” মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ কৃষকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
শুধু আমন ধান নয়, গংগাচড়ায় চলছে নানা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। উপজেলার ২৭টি ব্লকে ‘সজিনা গ্রাম’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে পুষ্টিগুণে ভরপুর সজিনা উৎপাদন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি, ৫৪০টি পরিবারে বস্তায় মরিচ চাষ এবং ১৩৫টি পরিবারে কেঁচো সার উৎপাদনের মতো কার্যক্রম কৃষিকে আরও টেকসই করে তুলছে।
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি নিশ্চিত করতে “খামারি অ্যাপস”-এর মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৮টি এলাকার হত দরিদ্র সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন সবজির বীজ, যা তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে।
তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে গৃহীত হয়েছে নতুন উদ্যোগ। আসন্ন রবি মৌসুমে তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বিকল্প ফসলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন পেলে কৃষকরা তামাকের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন। শাহিনুর ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন,কৃষকদের কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গংগাচড়ার কৃষি এখন শুধুই জীবিকা নয়, এটি হয়ে উঠছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার মূল চালিকা শক্তি। সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং কৃষকের কর্মনিষ্ঠায় সম্ভব হচ্ছে এই অগ্রগতি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

তামাকের বিকল্প , আধুনিক কৃষির সম্ভাবনায় জেগেছে, গংগাচড়া

আপডেট সময় ০৪:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলা কৃষি উন্নয়নে খুলেছে নতুন এক দিগন্ত। একসময়ের তামাক নির্ভর এলাকার কৃষকরা এখন আশাবাদী আধুনিক কৃষির সম্ভাবনায়। চলতি আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ করেছেন, যা কৃষি খাতে পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল ইঙ্গিত।
আমন ধানের জন্য এ মৌসুমে ১৯,৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদারকি, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষকদের আগ্রহের ফলে আবাদ হয়েছে ১৯,৩৫৫ হেক্টর জমিতে। আধুনিক পদ্ধতিতে জমি আবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ এবং সঠিক দিকনির্দেশনার প্রভাব এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এ মৌসুমে ২,৭০০ জন কৃষককে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে উন্নত জাতের ধান বীজ ও সার। প্রত্যেক কৃষক পেয়েছেন ৫ কেজি উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার। এই সহায়তায় ৩৬১ হেক্টর জমি এসেছে উন্নত চাষের আওতায়। কৃষক আলম মিয়া ও নরেশ চন্দ্র সরকার জানান, “এবার সময়মতো ভালো মানের বীজ ও সার পেয়েছি, তাই ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।” মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ কৃষকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
শুধু আমন ধান নয়, গংগাচড়ায় চলছে নানা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। উপজেলার ২৭টি ব্লকে ‘সজিনা গ্রাম’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে পুষ্টিগুণে ভরপুর সজিনা উৎপাদন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি, ৫৪০টি পরিবারে বস্তায় মরিচ চাষ এবং ১৩৫টি পরিবারে কেঁচো সার উৎপাদনের মতো কার্যক্রম কৃষিকে আরও টেকসই করে তুলছে।
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি নিশ্চিত করতে “খামারি অ্যাপস”-এর মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৮টি এলাকার হত দরিদ্র সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন সবজির বীজ, যা তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে।
তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে গৃহীত হয়েছে নতুন উদ্যোগ। আসন্ন রবি মৌসুমে তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বিকল্প ফসলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন পেলে কৃষকরা তামাকের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন। শাহিনুর ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন,কৃষকদের কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গংগাচড়ার কৃষি এখন শুধুই জীবিকা নয়, এটি হয়ে উঠছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার মূল চালিকা শক্তি। সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং কৃষকের কর্মনিষ্ঠায় সম্ভব হচ্ছে এই অগ্রগতি।