ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন
বগুড়ায় সিভিল সার্জন দ্বন্দ্ব

মোফাখখারুলের ক্ষমতায় নতুন সিভিল সার্জন যোগ দিতে পারছেনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬১৮ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বর্তমানে এক অস্বাভাবিক ও চরম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিসে দায়িত্ব পালন না করার কারণে অফিসের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীদের সেবা বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মূল দায়ী হিসাবে দেখা যাচ্ছে প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. এ কেএম মোফাখখারুল ইসলামকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে ডা. মোফাখখারুল ইসলামকে বগুড়া থেকে মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলমকে বগুড়া সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করতে বলা হয়। প্রজ্ঞাপনে উভয় কর্মকর্তাকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বদলির নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করে ডা. মোফাখখারুল ইসলাম এখনও মানিকগঞ্জে যোগদান করেননি। তিনি সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বগুড়াতেই অবস্থান করছেন এবং তার বদলির আদেশ স্থগিত করার জন্য নানা তদবির চালাচ্ছেন। ফলে নতুন সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম যোগদান করলেও কার্যকরভাবে দায়িত্ব নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. মোফাখখারুল ইসলাম কিছু চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে প্রভাবিত করে নতুন সিভিল সার্জনের যোগদানে বাধা দিচ্ছেন। এর ফলে জেলা স্বাস্থ্যসেবা অফিসে দ্বৈত কর্তৃত্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অফিসে দুইজন কর্মকর্তা থাকার কারণে জেলা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
বগুড়া জেলা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দ্বন্দ্বের প্রভাবে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীদের ভর্তি, চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ স্থগিত হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, “আমরা জানি না কোন নির্দেশ পালন করতে হবে। সব কিছুই ধীরে চলছে। রোগীরা সমস্যায় পড়ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেন, “ডা. খুরশীদ আলম সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন। কিন্তু ডা. মোফাখখারুল ইসলাম অফিসিয়ালি দায়িত্ব হস্তান্তর না করার কারণে আমরা একটি বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি।”
ডা. খুরশীদ আলম রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করছেন। তবে মোফাখখারুল ইসলামের অবহেলা ও অনিচ্ছার কারণে তিনি কার্যকরভাবে অফিসে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এর ফলে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম, হাসপাতালের প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ স্থবির হয়ে যাচ্ছে।
এই দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র অফিসের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। সাধারণ মানুষও এর প্রভাবে অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ ু সব ক্ষেত্রে কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। একাধিক হাসপাতালের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ডা. মোফাখখারুল ইসলামের দায়িত্ব পালনে অনীহা ও স্থগিতকরণ চেষ্টার কারণে আমরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছি না।”
স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, “প্রাক্তন সিভিল সার্জন অফিসে না গিয়ে নিজের স্বার্থে অবহেলা করছেন। তার কারণে নতুন সিভিল সার্জনের দায়িত্ব কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না। আমরা সমস্যার মধ্যে রয়েছি।”
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নূর এ সাদিকও জানিয়েছেন, “ডা. খুরশীদ আলম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ডা. মোফাখখারুল ইসলাম অফিসিয়ালি দায়িত্ব হস্তান্তর না করার কারণে অফিসে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।”
বগুড়া জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. এ কেএম মোফাখখারুল ইসলামের দায়িত্বহীনতা ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তার অবহেলা ও স্থগিতকরণের চেষ্টা জেলা স্বাস্থ্যসেবা অফিসে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষ মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। সকলের আশা, মোফাখখারুল ইসলামের অবহেলা অবসান হবে এবং নতুন সিভিল সার্জন দায়িত্বপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করতে পারবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

বগুড়ায় সিভিল সার্জন দ্বন্দ্ব

মোফাখখারুলের ক্ষমতায় নতুন সিভিল সার্জন যোগ দিতে পারছেনা

আপডেট সময় ০৩:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বগুড়া জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বর্তমানে এক অস্বাভাবিক ও চরম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিসে দায়িত্ব পালন না করার কারণে অফিসের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীদের সেবা বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মূল দায়ী হিসাবে দেখা যাচ্ছে প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. এ কেএম মোফাখখারুল ইসলামকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে ডা. মোফাখখারুল ইসলামকে বগুড়া থেকে মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলমকে বগুড়া সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করতে বলা হয়। প্রজ্ঞাপনে উভয় কর্মকর্তাকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বদলির নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করে ডা. মোফাখখারুল ইসলাম এখনও মানিকগঞ্জে যোগদান করেননি। তিনি সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বগুড়াতেই অবস্থান করছেন এবং তার বদলির আদেশ স্থগিত করার জন্য নানা তদবির চালাচ্ছেন। ফলে নতুন সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম যোগদান করলেও কার্যকরভাবে দায়িত্ব নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. মোফাখখারুল ইসলাম কিছু চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে প্রভাবিত করে নতুন সিভিল সার্জনের যোগদানে বাধা দিচ্ছেন। এর ফলে জেলা স্বাস্থ্যসেবা অফিসে দ্বৈত কর্তৃত্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অফিসে দুইজন কর্মকর্তা থাকার কারণে জেলা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
বগুড়া জেলা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দ্বন্দ্বের প্রভাবে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোগীদের ভর্তি, চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ স্থগিত হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, “আমরা জানি না কোন নির্দেশ পালন করতে হবে। সব কিছুই ধীরে চলছে। রোগীরা সমস্যায় পড়ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেন, “ডা. খুরশীদ আলম সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন। কিন্তু ডা. মোফাখখারুল ইসলাম অফিসিয়ালি দায়িত্ব হস্তান্তর না করার কারণে আমরা একটি বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি।”
ডা. খুরশীদ আলম রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করছেন। তবে মোফাখখারুল ইসলামের অবহেলা ও অনিচ্ছার কারণে তিনি কার্যকরভাবে অফিসে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এর ফলে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম, হাসপাতালের প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ স্থবির হয়ে যাচ্ছে।
এই দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র অফিসের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। সাধারণ মানুষও এর প্রভাবে অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ ু সব ক্ষেত্রে কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। একাধিক হাসপাতালের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ডা. মোফাখখারুল ইসলামের দায়িত্ব পালনে অনীহা ও স্থগিতকরণ চেষ্টার কারণে আমরা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছি না।”
স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, “প্রাক্তন সিভিল সার্জন অফিসে না গিয়ে নিজের স্বার্থে অবহেলা করছেন। তার কারণে নতুন সিভিল সার্জনের দায়িত্ব কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না। আমরা সমস্যার মধ্যে রয়েছি।”
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নূর এ সাদিকও জানিয়েছেন, “ডা. খুরশীদ আলম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ডা. মোফাখখারুল ইসলাম অফিসিয়ালি দায়িত্ব হস্তান্তর না করার কারণে অফিসে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।”
বগুড়া জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. এ কেএম মোফাখখারুল ইসলামের দায়িত্বহীনতা ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তার অবহেলা ও স্থগিতকরণের চেষ্টা জেলা স্বাস্থ্যসেবা অফিসে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষ মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। সকলের আশা, মোফাখখারুল ইসলামের অবহেলা অবসান হবে এবং নতুন সিভিল সার্জন দায়িত্বপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করতে পারবে।