ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার বেহাল দশা

ভুয়া ঠিকানা, অকার্যকর এনজিও আর স্বচ্ছতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬২১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যেমন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নির্বাচনী কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা পর্যবেক্ষণে এসব সংস্থারও বিশেষ ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চিত্র, যা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি ৭৩টি এনজিও বা বেসরকারি সংস্থাকে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য তালিকায় রেখেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব সংস্থার অনেকগুলোরই অস্তিত্ব নেই, আবার কারও কারও অফিসে চলছে ডিম ব্যবসা কিংবা আইনজীবীর চেম্বার। কিছু সংস্থার ঠিকানাই ভুয়া, আবার কারও কারও কোনো জনবল নেই। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—এসব সংস্থা কি সত্যিই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম, নাকি শুধু কাগজে-কলমেই তাদের অস্তিত্ব?
বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে নানা সময়ে অনিয়ম, জালভোট, কেন্দ্র দখল, ফলাফলে প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি অভিযোগ ওঠে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সাধারণত এসব অনিয়ম পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন করে থাকেন। এ কারণে পর্যবেক্ষক সংস্থার যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। অথচ মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে ইসি প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে, তার অনেকগুলোই কার্যত অযোগ্য, অকার্যকর কিংবা ভুয়া।
মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে চিত্র
১. ডিমের ব্যবসায় সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থা : ঢাকার মিরপুরে সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থার ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, একই সাইনবোর্ডে চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এর মধ্যে একটি ডেলিভারি কোম্পানি, একটি ক্লিনিং সার্ভিস, একটি এগ্রো ফার্ম এবং সর্বশেষ সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থা। দরজায় বেল বাজালে ভেতরে পাওয়া যায় মাত্র ১০ ফুট বাই ১০ ফুট কক্ষ, যেখানে বসে আছেন একজন কর্মচারী—হানিফ। তিনি স্বীকার করেন, এখানে আসলে তাদের ডিমের ব্যবসা চলে।
প্রধান নির্বাহী বশির আহমেদ হাওলাদার দাবি করেন, তারা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—অফিসে কোনো কার্যক্রম নেই, নেই জনবল, আছে শুধু ডিম ব্যবসার আড়াল।
২. আইনজীবীর চেম্বারে মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (মওসুস) : ঢাকার কোর্ট হাউস স্ট্রিটে গিয়ে দেখা যায়, মওসুসের অফিস তালাবদ্ধ। বাইরে সাইনবোর্ডে দেখা যায় এক আইনজীবীর নাম এবং দুটি ছোট পত্রিকার নাম। যোগাযোগ করলে আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া জানান, তিনি-ই মওসুসের চেয়ারম্যান।
কিন্তু প্রশ্ন হলো-একটি এনজিওর কার্যক্রম যদি আইনজীবীর চেম্বার আর পত্রিকার আড়ালে চলে, তবে তা কতটা কার্যকরভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারে? সংস্থার প্রধান নির্বাহী হিসেবে যিনি ইসির তালিকায় আছেন, তিনি আবার নিজেকে শুধু সমন্বয়ক বলে পরিচয় দেন। এতে সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
৩. ভুয়া ঠিকানা ও অস্তিত্বহীন সংস্থা :
কার্ড (কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট): ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায় একটি পরিবারের বসবাস, কোনো অফিস নেই।
ভিআরডিএস (ভলান্টারি রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি): তালিকায় যে ঠিকানা আছে, তা আদৌ অস্তিত্বশীল নয়। স্থানীয়রা জানেনই না, এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান আছে।
বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন: নারায়ণগঞ্জে খোঁজ নিয়ে অফিসের দেখা মেলেনি। চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন, পুরোনো অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।
৪. সেবা ফাউন্ডেশন: অফিস নেই, জনবল নেই
ময়মনসিংহের নান্দাইলের ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, অফিস একসময় ছিল, এখন নেই। স্থানীয়রা জানান, দুই-তিন বছর আগেই অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। প্রধান নির্বাহী ইউসুফ আকন্দ মজিবর স্বীকার করেন, তাদের কোনো জনবল নেই। শুধু একটি স্কুল চালান, যেখানে অফিসের কাজও হয়।
এমন সংস্থা যদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পায়, তবে তাদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
প্রত্যয়: আগের নির্বাচনে কাজ করেছে বলে দাবি করলেও বর্তমানে তাদের কার্যক্রম সীমিত।
ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ: নতুনভাবে আবেদন করেছে, অফিস আছে, কিছু কর্মী আছে, তবে তাদের অভিজ্ঞতা সীমিত।
লাইট হাউস: অতীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে বলে দাবি করলেও বর্তমান কর্মকাণ্ড সীমিত।
অনেক সংস্থার প্রধান নির্বাহীরা দাবি করছেন, তারা অতীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, স্বেচ্ছাসেবক আছে শত শত। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অনেক অফিস তালাবদ্ধ। অনেক কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবীর অস্তিত্ব মেলে না।
যেসব কার্যক্রমের দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয়রা সে সম্পর্কে কিছুই জানে না।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা যদি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী না হয়, তবে তাদের প্রতিবেদনের কোনো মূল্য থাকবে না।
ভুয়া বা কাগুজে এনজিও দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করানো হলে তা শুধু নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ণ করবে না, বরং নির্বাচনের নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
রাজনৈতিক স্বার্থে গড়া বা অকার্যকর এসব সংস্থা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকাভুক্ত করছে কিনা, এ প্রশ্ন উঠছে। যদি ৭৩টি সংস্থার অনেকগুলোরই অস্তিত্ব না থাকে, তবে ইসি কেন তাদের প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিল? এর মাধ্যমে কি বোঝা যায় না যে, নির্বাচন কমিশনও দায়িত্বহীনতা বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নত হয়েছে?
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নামে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি। অস্তিত্বহীন সংস্থা, ভুয়া ঠিকানা, ডিম ব্যবসা বা চেম্বারের আড়ালে পরিচালিত সংগঠন দিয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের মানুষ বহু প্রতীক্ষায় থাকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। সেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা অপরিসীম। অথচ যে সংস্থাগুলোর কাগজপত্রই সন্দেহজনক, তাদের দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া মানে জনগণকে বিভ্রান্ত করা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার বেহাল দশা

ভুয়া ঠিকানা, অকার্যকর এনজিও আর স্বচ্ছতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন

আপডেট সময় ০৩:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যেমন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নির্বাচনী কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা পর্যবেক্ষণে এসব সংস্থারও বিশেষ ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চিত্র, যা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি ৭৩টি এনজিও বা বেসরকারি সংস্থাকে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য তালিকায় রেখেছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব সংস্থার অনেকগুলোরই অস্তিত্ব নেই, আবার কারও কারও অফিসে চলছে ডিম ব্যবসা কিংবা আইনজীবীর চেম্বার। কিছু সংস্থার ঠিকানাই ভুয়া, আবার কারও কারও কোনো জনবল নেই। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—এসব সংস্থা কি সত্যিই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম, নাকি শুধু কাগজে-কলমেই তাদের অস্তিত্ব?
বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে নানা সময়ে অনিয়ম, জালভোট, কেন্দ্র দখল, ফলাফলে প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি অভিযোগ ওঠে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সাধারণত এসব অনিয়ম পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন করে থাকেন। এ কারণে পর্যবেক্ষক সংস্থার যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি। অথচ মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে ইসি প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে, তার অনেকগুলোই কার্যত অযোগ্য, অকার্যকর কিংবা ভুয়া।
মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে চিত্র
১. ডিমের ব্যবসায় সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থা : ঢাকার মিরপুরে সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থার ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, একই সাইনবোর্ডে চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এর মধ্যে একটি ডেলিভারি কোম্পানি, একটি ক্লিনিং সার্ভিস, একটি এগ্রো ফার্ম এবং সর্বশেষ সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থা। দরজায় বেল বাজালে ভেতরে পাওয়া যায় মাত্র ১০ ফুট বাই ১০ ফুট কক্ষ, যেখানে বসে আছেন একজন কর্মচারী—হানিফ। তিনি স্বীকার করেন, এখানে আসলে তাদের ডিমের ব্যবসা চলে।
প্রধান নির্বাহী বশির আহমেদ হাওলাদার দাবি করেন, তারা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—অফিসে কোনো কার্যক্রম নেই, নেই জনবল, আছে শুধু ডিম ব্যবসার আড়াল।
২. আইনজীবীর চেম্বারে মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (মওসুস) : ঢাকার কোর্ট হাউস স্ট্রিটে গিয়ে দেখা যায়, মওসুসের অফিস তালাবদ্ধ। বাইরে সাইনবোর্ডে দেখা যায় এক আইনজীবীর নাম এবং দুটি ছোট পত্রিকার নাম। যোগাযোগ করলে আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া জানান, তিনি-ই মওসুসের চেয়ারম্যান।
কিন্তু প্রশ্ন হলো-একটি এনজিওর কার্যক্রম যদি আইনজীবীর চেম্বার আর পত্রিকার আড়ালে চলে, তবে তা কতটা কার্যকরভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারে? সংস্থার প্রধান নির্বাহী হিসেবে যিনি ইসির তালিকায় আছেন, তিনি আবার নিজেকে শুধু সমন্বয়ক বলে পরিচয় দেন। এতে সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
৩. ভুয়া ঠিকানা ও অস্তিত্বহীন সংস্থা :
কার্ড (কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট): ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায় একটি পরিবারের বসবাস, কোনো অফিস নেই।
ভিআরডিএস (ভলান্টারি রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি): তালিকায় যে ঠিকানা আছে, তা আদৌ অস্তিত্বশীল নয়। স্থানীয়রা জানেনই না, এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান আছে।
বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন: নারায়ণগঞ্জে খোঁজ নিয়ে অফিসের দেখা মেলেনি। চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন, পুরোনো অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।
৪. সেবা ফাউন্ডেশন: অফিস নেই, জনবল নেই
ময়মনসিংহের নান্দাইলের ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, অফিস একসময় ছিল, এখন নেই। স্থানীয়রা জানান, দুই-তিন বছর আগেই অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। প্রধান নির্বাহী ইউসুফ আকন্দ মজিবর স্বীকার করেন, তাদের কোনো জনবল নেই। শুধু একটি স্কুল চালান, যেখানে অফিসের কাজও হয়।
এমন সংস্থা যদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পায়, তবে তাদের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।
প্রত্যয়: আগের নির্বাচনে কাজ করেছে বলে দাবি করলেও বর্তমানে তাদের কার্যক্রম সীমিত।
ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ: নতুনভাবে আবেদন করেছে, অফিস আছে, কিছু কর্মী আছে, তবে তাদের অভিজ্ঞতা সীমিত।
লাইট হাউস: অতীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে বলে দাবি করলেও বর্তমান কর্মকাণ্ড সীমিত।
অনেক সংস্থার প্রধান নির্বাহীরা দাবি করছেন, তারা অতীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, স্বেচ্ছাসেবক আছে শত শত। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অনেক অফিস তালাবদ্ধ। অনেক কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবীর অস্তিত্ব মেলে না।
যেসব কার্যক্রমের দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয়রা সে সম্পর্কে কিছুই জানে না।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা যদি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী না হয়, তবে তাদের প্রতিবেদনের কোনো মূল্য থাকবে না।
ভুয়া বা কাগুজে এনজিও দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করানো হলে তা শুধু নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ণ করবে না, বরং নির্বাচনের নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
রাজনৈতিক স্বার্থে গড়া বা অকার্যকর এসব সংস্থা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকাভুক্ত করছে কিনা, এ প্রশ্ন উঠছে। যদি ৭৩টি সংস্থার অনেকগুলোরই অস্তিত্ব না থাকে, তবে ইসি কেন তাদের প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিল? এর মাধ্যমে কি বোঝা যায় না যে, নির্বাচন কমিশনও দায়িত্বহীনতা বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নত হয়েছে?
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নামে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি। অস্তিত্বহীন সংস্থা, ভুয়া ঠিকানা, ডিম ব্যবসা বা চেম্বারের আড়ালে পরিচালিত সংগঠন দিয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের মানুষ বহু প্রতীক্ষায় থাকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। সেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা অপরিসীম। অথচ যে সংস্থাগুলোর কাগজপত্রই সন্দেহজনক, তাদের দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া মানে জনগণকে বিভ্রান্ত করা।