ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

আগাম শিম চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন মেহেরপুরের কৃষকরা

ঢাকা-চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সবজি বাজারে বর্তমানে আগাম জাতের নানান ধরণের সবজি বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগাম জাতের হওয়ায় এসব সবজির দামও বেশ চড়া। আর এই সবজি বেশির ভাগ চাষ হচ্ছে সবজি খ্যাত জেলা মেহেরপুরে। জেলার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত বীজের কারণে কৃষকেরা ঝুঁকে পড়ছেন বিভিন্ন জাতের আগাম সবজি চাষে। যার মধ্যে অন্যতম শিম চাষ। যা ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারসহ দেশের বড় বড় সবজির মোকামে ভালো দামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বেশিরভাগ মাঠে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ব্যাপক হারে আগাম জাতের শিমের চাষ হয়েছে। যা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ স্থানীয় বাজারে আগাম শিম বেশ ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

জেলার গাংনী উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের কৃষক রাকিব। প্রতিবছরই তিনি শিম চাষ করেন। এ বছর মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ১৫ শতক জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের শিম চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন। এখন সবুজ পাতা, সাদা আর বেগুনি ফুলের মাঝে লুকিয়ে আছে কৃষক রাকিবের স্বপ্ন।

রাকিব বলেন, ১৫ শতক জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ শুরু করেছি। যেখানে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে জমি থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকার সিম বিক্রি করেছি। শীতকাল জুড়ে আরও ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা রয়েছে।

সদর উপজেলার কালিন্দপুর মাঠের কৃষক রাজু বলেন, আগাম জাতের শিমের চারা গজানোর ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে। ফুল আসার ৪৫ দিন পর থেকে শিম তোলা শুরু হয়। বাজারে এই শিম তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচ তুলেও ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে। সময় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।

মুজিবনগর উপজেলার হ্যালিপ্যাড মাঠের কৃষক সোহাগ মণ্ডল বলেন, এক বিঘা জমিতে আগাম শিম চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সিমের চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ১ কেজি শিম পাইকারি বাজারে বর্তমানে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

মেহেরপুরের পাইকারি সবজি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, একটা সময় মেহেরপুরে আগাম জাতের সবজি খুব একটা চাষ হতো না। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে শিম অন্যতম। কৃষকের কাছ থেকে আমরা প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় ক্রয় করি। যা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাতে বিক্রি করা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শামসুল আলম বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের শীতকালীন সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে আগাম শিম চাষে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন শিমের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় সকল খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

আগাম শিম চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন মেহেরপুরের কৃষকরা

আপডেট সময় ০৯:০০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা-চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সবজি বাজারে বর্তমানে আগাম জাতের নানান ধরণের সবজি বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগাম জাতের হওয়ায় এসব সবজির দামও বেশ চড়া। আর এই সবজি বেশির ভাগ চাষ হচ্ছে সবজি খ্যাত জেলা মেহেরপুরে। জেলার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত বীজের কারণে কৃষকেরা ঝুঁকে পড়ছেন বিভিন্ন জাতের আগাম সবজি চাষে। যার মধ্যে অন্যতম শিম চাষ। যা ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারসহ দেশের বড় বড় সবজির মোকামে ভালো দামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বেশিরভাগ মাঠে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ব্যাপক হারে আগাম জাতের শিমের চাষ হয়েছে। যা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ স্থানীয় বাজারে আগাম শিম বেশ ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

জেলার গাংনী উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের কৃষক রাকিব। প্রতিবছরই তিনি শিম চাষ করেন। এ বছর মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ১৫ শতক জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের শিম চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন। এখন সবুজ পাতা, সাদা আর বেগুনি ফুলের মাঝে লুকিয়ে আছে কৃষক রাকিবের স্বপ্ন।

রাকিব বলেন, ১৫ শতক জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ শুরু করেছি। যেখানে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে জমি থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকার সিম বিক্রি করেছি। শীতকাল জুড়ে আরও ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা রয়েছে।

সদর উপজেলার কালিন্দপুর মাঠের কৃষক রাজু বলেন, আগাম জাতের শিমের চারা গজানোর ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে। ফুল আসার ৪৫ দিন পর থেকে শিম তোলা শুরু হয়। বাজারে এই শিম তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচ তুলেও ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে। সময় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।

মুজিবনগর উপজেলার হ্যালিপ্যাড মাঠের কৃষক সোহাগ মণ্ডল বলেন, এক বিঘা জমিতে আগাম শিম চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সিমের চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ১ কেজি শিম পাইকারি বাজারে বর্তমানে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

মেহেরপুরের পাইকারি সবজি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, একটা সময় মেহেরপুরে আগাম জাতের সবজি খুব একটা চাষ হতো না। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে শিম অন্যতম। কৃষকের কাছ থেকে আমরা প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় ক্রয় করি। যা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাতে বিক্রি করা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শামসুল আলম বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের শীতকালীন সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে আগাম শিম চাষে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন শিমের আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় সকল খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।