ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন বৈদ্যুতিক তারে ‘বোমা’ আতঙ্ক, বক্সে বাজল শেখ মুজিবের ভাষণ! মুরাদনগরে মাদকের বিরুদ্ধে ওসির কঠোর হুঁশিয়ারি, থানায় স্থাপন অভিযোগ বাক্স সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরসহ রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার নাহিদকে ইনবক্স চেক করতে বললেন মেঘনা আলম, রহস্যটা কী? খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিএনপির দোয়া ও মিলাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৯৩ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ ছয় মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে : রিজভী

বাবুর হাট প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার পূজায় বেচা কেনা জমে উঠেছে

দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি কাপড়ের হাট নরসিংদীর বাবুরহাট “প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার ” হিসেবে পরিচিত। পূজাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট এখন বাবুর হাট। বাবুর হাটের অলিগলি জুড়ে দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যায় । সব মানুষ বেচা কেনায় ব্যস্ত, তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গামছা, শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি -পিজ, শার্ট পিজ, প্যান্ট পিজ, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়, বিছানা ছাদর সহ দেশীয় সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায় বাবুর হাটে। নরসিংদী ও আশেপাশের জেলাগুলোতে তৈরিকৃত সব ধরনের দেশীয় কাপড় বাবুর হাটে বিক্রি হয়। দেশের মোট কাপড়ের প্রায় ৭০ শতাংশ কাপড়ের চাহিদা বাবুর হাট থেকে মিটিয়ে থাকে।
বাবুরহাটের অলিগলি জুড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। ক্রেতারা এ দোকান সে দোকান ঘুরে পছন্দ মতো শাড়ি, লুঙ্গি , থ্রি পিস সহ নানা ধরনের নিত্য নতুন ডিজাইনের সব কাপড় কিনছেন। আবার ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপহার দিতে বাবুর হাট এসে কাপড় কিনছেন। কিছু কিছু ছোট পাইকারকে দেখা যায় নিজের কাপড়ের গাট মাথায়, গাধে, হাতে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কাপড়ের গাট বড় তারা কুলি বা ভ্যানের সাহায্যে ঢাকা – সিলেট মহাসড়কে নিয়ে ট্রাক, লরি ও পিক-আপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। আবার অনেক ক্রেতা কাপড় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিজ এলাকায় পাঠাচ্ছেন। সব মিলিয়ে হাটের দিনগুলোতে প্রতিদিন অন্তত চার – পাঁচশত ট্রাক কাপড় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে।
হাটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় , সারা বছরের মধ্যে পূজা ও রোজার ঈদের সময়টাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা বেশি সংখ্যায় পাইকারি দামে কাপড় কিনতে বাবুর হাটে আসেন। দেশের অন্যান্য হাটের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্হা হাটের তুলনায় ভালো ও সব ধরনের দেশীয় কাপড় কম দামে পাওয়া যায়। বাবুর হাটে পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি খুরচা ক্রেতারাও কাপড় কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে এ বছর হাটে প্রত্যাশা অনুযায়ী পাইকারি ক্রেতা অন্য বছরের তুলনায় কম।
শিক্ষক সবিতা সূএধর জানান, আমি বাবুর হাট থেকে জামা কাপড় কিনে স্বচ্ছন্দবোধ করি। এখানে পাইকারী ও খুরচা সুলভ মূল্যে কেনা কাটা করা যায়। পূজা, বিয়ে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী সহ সব ধরনে কেনা আমি ও আমার পরিবার বাবুর হাট থেকে করে থাকি।

নরসিংদী চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্য মতে, জেলায় ছোট বড় প্রায় তিন হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাওয়ার লুম, বৈদ্যুতিক তাঁত, টেক্সটাইল, ডাইং ( সুতা ও কাপড় রং করা) কারখানাই বেশী। এ সব কারখানায় কাজ করেন প্রায় দুই লাখ শ্রমিক। পাওয়ার লুমগুলোতে দিন রাত খটখট শব্দে সুতা থেকে তৈরি হয় গ্রে কাপড়। এই গ্রে কাপড় বিভিন্ন কারখানায় ডাইং কারখানায় পছন্দ অনুযায়ী রং করা হয়।
ব্যবসায়ী শাকিল জানান, বাবুর হাটে তিনি একজন নিয়মিত পাইকার। রুমাল থেকে শুরু করে কাফনের পর্যন্ত সব ধরনের কাপড় বাবুর হাটে পাওয়া যায়। আগে এক সপ্তাহ পর পর শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিস সহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনতে বাবুর হাট আসতেন। বেচা কেনা কম থাকায় এ বছর হাটে কম আসা হয়।
বাবুর হাট বনিক সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা কেনা কম। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কাপড়ের দাম বেড়েছে।
পূজাকে সামনে রেখে শেষ পর্যায়ে এসে বাবুর হাটে বেচা কেনা বেড়েছে। খুরচা ক্রেতারাও পূজা, ঈদের কাপড় কিনতে বাবুর হাটে ভীড় জমাচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন

বাবুর হাট প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার পূজায় বেচা কেনা জমে উঠেছে

আপডেট সময় ০৬:৫১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি কাপড়ের হাট নরসিংদীর বাবুরহাট “প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার ” হিসেবে পরিচিত। পূজাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট এখন বাবুর হাট। বাবুর হাটের অলিগলি জুড়ে দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যায় । সব মানুষ বেচা কেনায় ব্যস্ত, তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গামছা, শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি -পিজ, শার্ট পিজ, প্যান্ট পিজ, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়, বিছানা ছাদর সহ দেশীয় সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায় বাবুর হাটে। নরসিংদী ও আশেপাশের জেলাগুলোতে তৈরিকৃত সব ধরনের দেশীয় কাপড় বাবুর হাটে বিক্রি হয়। দেশের মোট কাপড়ের প্রায় ৭০ শতাংশ কাপড়ের চাহিদা বাবুর হাট থেকে মিটিয়ে থাকে।
বাবুরহাটের অলিগলি জুড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। ক্রেতারা এ দোকান সে দোকান ঘুরে পছন্দ মতো শাড়ি, লুঙ্গি , থ্রি পিস সহ নানা ধরনের নিত্য নতুন ডিজাইনের সব কাপড় কিনছেন। আবার ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপহার দিতে বাবুর হাট এসে কাপড় কিনছেন। কিছু কিছু ছোট পাইকারকে দেখা যায় নিজের কাপড়ের গাট মাথায়, গাধে, হাতে বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কাপড়ের গাট বড় তারা কুলি বা ভ্যানের সাহায্যে ঢাকা – সিলেট মহাসড়কে নিয়ে ট্রাক, লরি ও পিক-আপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। আবার অনেক ক্রেতা কাপড় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিজ এলাকায় পাঠাচ্ছেন। সব মিলিয়ে হাটের দিনগুলোতে প্রতিদিন অন্তত চার – পাঁচশত ট্রাক কাপড় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে।
হাটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় , সারা বছরের মধ্যে পূজা ও রোজার ঈদের সময়টাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা বেশি সংখ্যায় পাইকারি দামে কাপড় কিনতে বাবুর হাটে আসেন। দেশের অন্যান্য হাটের তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্হা হাটের তুলনায় ভালো ও সব ধরনের দেশীয় কাপড় কম দামে পাওয়া যায়। বাবুর হাটে পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি খুরচা ক্রেতারাও কাপড় কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে এ বছর হাটে প্রত্যাশা অনুযায়ী পাইকারি ক্রেতা অন্য বছরের তুলনায় কম।
শিক্ষক সবিতা সূএধর জানান, আমি বাবুর হাট থেকে জামা কাপড় কিনে স্বচ্ছন্দবোধ করি। এখানে পাইকারী ও খুরচা সুলভ মূল্যে কেনা কাটা করা যায়। পূজা, বিয়ে, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী সহ সব ধরনে কেনা আমি ও আমার পরিবার বাবুর হাট থেকে করে থাকি।

নরসিংদী চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্য মতে, জেলায় ছোট বড় প্রায় তিন হাজার শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাওয়ার লুম, বৈদ্যুতিক তাঁত, টেক্সটাইল, ডাইং ( সুতা ও কাপড় রং করা) কারখানাই বেশী। এ সব কারখানায় কাজ করেন প্রায় দুই লাখ শ্রমিক। পাওয়ার লুমগুলোতে দিন রাত খটখট শব্দে সুতা থেকে তৈরি হয় গ্রে কাপড়। এই গ্রে কাপড় বিভিন্ন কারখানায় ডাইং কারখানায় পছন্দ অনুযায়ী রং করা হয়।
ব্যবসায়ী শাকিল জানান, বাবুর হাটে তিনি একজন নিয়মিত পাইকার। রুমাল থেকে শুরু করে কাফনের পর্যন্ত সব ধরনের কাপড় বাবুর হাটে পাওয়া যায়। আগে এক সপ্তাহ পর পর শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি পিস সহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনতে বাবুর হাট আসতেন। বেচা কেনা কম থাকায় এ বছর হাটে কম আসা হয়।
বাবুর হাট বনিক সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা কেনা কম। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কাপড়ের দাম বেড়েছে।
পূজাকে সামনে রেখে শেষ পর্যায়ে এসে বাবুর হাটে বেচা কেনা বেড়েছে। খুরচা ক্রেতারাও পূজা, ঈদের কাপড় কিনতে বাবুর হাটে ভীড় জমাচ্ছে।