সংবাদ শিরোনাম ::
জয়পুরহাটে উদ্ধার হলো বিশাল আকৃতির গাঁজা গাছ কসবায় মোবাইল কোর্টের অভিযান: ৫ ফার্মেসিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টাঙ্গাইলে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে দুই বোন লতা-পাতার বিয়ে প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পবিপ্রবি’র হিট প্রজেক্টের দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জন্মদিনের আনন্দের একদিন পরই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জনসচেতনামূলক শোভাযাত্রা

‘ট্যাগিং কালচার ফিরতে দেখলে মনে হয় জুলাইয়ে চোখ দেওয়ার কোনো সার্থকতা নেই’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত প্রার্থী এবং গত জুলাইয়ে চোখ হারানো জসীম উদ্দিন খান বলেছেন, ‘ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধ করুন। ট্যাগিংয়ের মতো আওয়ামী কালচার ঢাবিতে ফিরে আসতে দেখলে মনে হয়, জুলাইয়ে আমার চোখ দেওয়ার কোনো সার্থকতা নেই।’
তিনি বলেন, ঢাবিতে গত ৩/৪ দিনে যা দেখলাম তাতে আমি খুবই হতাশ। এখানে একজন আরেকজনের পেছনে লাগার রাজনীতি করছে। এই রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। ট্যাগিংয়ের মতো নোংরা কালচার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে আমরা আশা করি না। ট্যাগিং কালচার যদি আবার ফিরে আসে, সেটা হবে খুবই হতাশাজনক। আওয়ামী শাসনের ট্যাগিং কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হবে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী রায়হান বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন রাজনীতি নির্মাণ করতে পারিনি। গতকালও আমাদের একজন নারী প্রার্থীকে বলা হয়েছে সরকারি চাকরি পেতে হলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। যদি এমন রাজনীতি হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের ভয় দূর হবে না। তারা সত্য কথা বলার সাহস পাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চেয়ে বেশি চিন্তা করতে হয়, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে পড়লাম কিনা? আমার বিরুদ্ধে কোনো ট্যাগ উঠলো কিনা? ট্যাগিংয়ের কারণে সরকারি চাকরি পাবো কিনা? সুতরাং আমাদের শিক্ষার্থীদের মন থেকে এসব ভয় দূর করতে হবে। এজন্য আমরা আমাদের প্যানেলে ৬টি হ্যাঁ এবং ৬টি না দিয়েছি। আমরা নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে সবার আগে কাজ করবো, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনের ভয় দূর করা সম্ভব।
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের কথা শোনার পরিবর্তে দায় চাপানোর পথে হাঁটছে। গত কয়েকদিনে ঢাবিতে যেসব কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, এতে শিক্ষার্থীরা আরও ভয় পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে সেটা আমাদের ব্যর্থতা হবে।

নারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নারী শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাচ্ছি, তাদের মতামত ও উদ্বেগ শুনছি। ডোর-টু-ডোর গিয়ে শিক্ষার্থীদের সমর্থন চাইছি। তারা যদি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়, সে বিষয়ে আমাদের লিগ্যাল টিম থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। এছাড়াও আমরা চাই ঢাবি একটি মাল্টিকালচারাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক।

তিনি আরও বলেন, সবার উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা। সব নারী শিক্ষার্থী আমাদের বোন, সেটা তিনি যেই রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেনো।

হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে ফরহাদ বলেন, আমি রিটকারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ডাকসু হওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এই মামলায় কে জিতেছে বা কে হেরেছে সেটা আসল বিষয় নয়, এখানে সবাই জিতেছে। মূল বিষয় হলো, সব আলাপ বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়পুরহাটে উদ্ধার হলো বিশাল আকৃতির গাঁজা গাছ

‘ট্যাগিং কালচার ফিরতে দেখলে মনে হয় জুলাইয়ে চোখ দেওয়ার কোনো সার্থকতা নেই’

আপডেট সময় ০৮:১৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত প্রার্থী এবং গত জুলাইয়ে চোখ হারানো জসীম উদ্দিন খান বলেছেন, ‘ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধ করুন। ট্যাগিংয়ের মতো আওয়ামী কালচার ঢাবিতে ফিরে আসতে দেখলে মনে হয়, জুলাইয়ে আমার চোখ দেওয়ার কোনো সার্থকতা নেই।’
তিনি বলেন, ঢাবিতে গত ৩/৪ দিনে যা দেখলাম তাতে আমি খুবই হতাশ। এখানে একজন আরেকজনের পেছনে লাগার রাজনীতি করছে। এই রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। ট্যাগিংয়ের মতো নোংরা কালচার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে আমরা আশা করি না। ট্যাগিং কালচার যদি আবার ফিরে আসে, সেটা হবে খুবই হতাশাজনক। আওয়ামী শাসনের ট্যাগিং কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হবে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী রায়হান বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা নতুন রাজনীতি নির্মাণ করতে পারিনি। গতকালও আমাদের একজন নারী প্রার্থীকে বলা হয়েছে সরকারি চাকরি পেতে হলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। যদি এমন রাজনীতি হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের ভয় দূর হবে না। তারা সত্য কথা বলার সাহস পাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চেয়ে বেশি চিন্তা করতে হয়, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে পড়লাম কিনা? আমার বিরুদ্ধে কোনো ট্যাগ উঠলো কিনা? ট্যাগিংয়ের কারণে সরকারি চাকরি পাবো কিনা? সুতরাং আমাদের শিক্ষার্থীদের মন থেকে এসব ভয় দূর করতে হবে। এজন্য আমরা আমাদের প্যানেলে ৬টি হ্যাঁ এবং ৬টি না দিয়েছি। আমরা নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে সবার আগে কাজ করবো, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনের ভয় দূর করা সম্ভব।
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের কথা শোনার পরিবর্তে দায় চাপানোর পথে হাঁটছে। গত কয়েকদিনে ঢাবিতে যেসব কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, এতে শিক্ষার্থীরা আরও ভয় পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে সেটা আমাদের ব্যর্থতা হবে।

নারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নারী শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাচ্ছি, তাদের মতামত ও উদ্বেগ শুনছি। ডোর-টু-ডোর গিয়ে শিক্ষার্থীদের সমর্থন চাইছি। তারা যদি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়, সে বিষয়ে আমাদের লিগ্যাল টিম থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। এছাড়াও আমরা চাই ঢাবি একটি মাল্টিকালচারাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক।

তিনি আরও বলেন, সবার উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা। সব নারী শিক্ষার্থী আমাদের বোন, সেটা তিনি যেই রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেনো।

হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে ফরহাদ বলেন, আমি রিটকারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ডাকসু হওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এই মামলায় কে জিতেছে বা কে হেরেছে সেটা আসল বিষয় নয়, এখানে সবাই জিতেছে। মূল বিষয় হলো, সব আলাপ বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হবে।