সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

ইসি দলকানা একটা পার্টি অফিস: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বরাবরই এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশনের কাযক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এটি দলকানা একটি পার্টি অফিস এবং একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দল নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা না পেলে ইসি পুনর্গঠনের দাবিও তুলবে এনসিপি।

রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে শুনানিকালে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহসহ তিনজনের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাসনাত আব্দুল্লাহ ইসির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।
হাসনাত বলেন, আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে যাবো এবং আমরা পর্যবেক্ষণ করবো নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় কি না।

দুপুরে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে শুনানি শুরু হয়। বেলা ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের দাবি ও আপিল আবেদন নিয়ে শুনানির সময় মারামারির ঘটন ঘটে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ দাবি করেছেন, বিএনপির রুমিন ফারহানা ও তার দলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা করেছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে ইসিতে যারা যারা রয়েছেন তারা অতীত কাঠামোর পিক অ্যান্ড চুজ এর ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। আমরা তাদের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকাকে সবসময়, এখনও পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করেছি।

রোববারের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে তার ধারণা মিলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির এই নেতা বলেন, আজকে পুরো বাংলাদেশ যে ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এটি মূলত আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে এবং সেই নির্বাচনে এই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপি কী ভূমিকা রাখবে, পুলিশ কি দর্শকের ভূমিকা রাখবে কি না, কী ভূমিকা পালন করবে সেটি প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনের সামনে নির্বাচন ভবনে এ অবস্থা হলে দেশে বিএনপি কীভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে তার মহড়াও হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাত বলেন, নির্বাচন অফিসে যদি এই অবস্থা হয়, সারা বাংলাদেশে এই বিএনপির যারা রয়েছে, এই গুন্ডাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে তারা কীভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে সেটির টেস্ট ম্যাচ আজকে হয়ে গিয়েছে।

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, বিগত ১৫ বছর নাকি উনি অনেক ভালো ছিলেন। উনি অবশ্যই ভালো থাকবেন। কারণ উনি যত ধরনের সুবিধা রয়েছে সব ধরনের সুবিধা নিয়েছেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন কতিপয় পার্টির পার্টি অফিস হয়ে গিয়েছে। আমরা বলে এসেছি, বারবার বলে এসেছি যে, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে যেতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আবার গুন্ডাতন্ত্রের দিকে যেতে চায় না। দেশের মানুষ আবার ১/১১ এর মঞ্চস্থ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে না।

গ্রহণযোগ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হতে হলে ইসির পেশাদারত্বের কথাও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনকে বস্তুনিষ্ঠ পেশাদারত্বের ভূমিকায় আমরা দেখতে চাই। নির্বাচন কমিশন যেভাবে দলকানা, একটি দলের প্রতি একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেভাবে নির্লজ্জের মতো কাজ করছে, সেটি আমরা যে নির্বাচনমুখী হচ্ছি তার অন্তরায় বলে আমরা মনে করছি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসিকে অবশ্যই দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তিনি।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের যে আস্থা ছিল সে আস্থা ক্রমশ ক্ষীয়মান। রিমোট কন্ট্রোল নির্বাচন কমিশনের কোথায় রয়েছে এটা আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত অজানা।

এ ইসিকে অন্যরা পরিচালিত করলে পরিণতি নূরুল হুদার মতো হবে বলেও সতর্ক করেন এনসিপির এই নেতা।

হাসনাত বলেন, এই নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করতে পারবেন না আপনারা। অন্য কেউ এটা পরিচালনা করে। আপনারা মানুষের সামনে সেটি প্রকাশ করুন। নিকট অতীতে আমরা নূরুল হুদা কমিশনকে দেখেছি। তার পরিণতি আমরা দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ আবার কোনো মঞ্চস্থ নির্বাচনের দিকে যেতে চায় না।

চব্বিশ পরবর্তী সময়ে জনগণের পালস না বুঝলে আবার বাংলাদেশ সংকটের দিকে যাবে বলে মনে করেন হাসনাত।

ইসিতে এনসিপি নেতার ওপর হামলার পর সে বিষয়ে বিএনপি কী অবস্থান নেয় সেটির প্রতি এনসিপি নজর রাখবে বলেও জানান তিনি।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাসনাত বলেন, আমরা এই গুন্ডা, এই গুন্ডার রাজনীতি ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছি। রুমিন ফারহানারা যদি সেটি আবার বাংলাদেশে রিহ্যাবিলিটেট করতে চায়, তাহলে হাসিনার প্রতি তাদের যে আন্তরিকতা, হাসিনা যেখানে আছে তাদেরও সেখানে চলে যেতে হবে।

এ সময়, রুমিন ফারহানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সিইসির পদত্যাগ চান এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ।

তিনি জানান, এলাকাবাসী বলছে এনসিপি নেতৃত্বের জায়গায় আছে। মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন সদর উপজেলা ও বিজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপির রুমিন ফারহানা আমার বিজনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে কেটে তার নির্বাচনী এলাকায় সরালো আশুগঞ্জের সঙ্গে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সঙ্গে একত্র করে। এজন্য আমি আমার এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী ইসিতে আপিল করেছি।

এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন শুনানিতে অংশ না নেন। ইসিতেও রোববার তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে এক পর্যায়ে তারা ইসিতে প্রবেশ করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আতাউল্লাহ বলেন, শুনানিস্থলে এসে দেখি বিএনপির রুমিন ফারহানাসহ লোকজন তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। একটা পর্যায়ে যখন আমার সময় আসে, আমি শুনানিতে দাঁড়াই। দাঁড়ানোর পরেই রুমিন ফারহানা তেড়ে গিয়ে আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং আমাকে কথা বলতে দেননি।

এ সময়, রুমিন ফারহানার লোকজন তাকে লাথি-ধাক্কা দেয় বলেও জানান তিনি।

আতাউল্লাহ বলেন, তার যে গুন্ডাপান্ডা ছিল তারা আমাকে পায়ের নিচে ফেলে পিষ্ট করে এবং নির্মমভাবে মারধর করে।

সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার উপযুক্ত প্রমাণ মিলবে বলে উল্লেখ করেন আতাউল্লাহ।

এনসিপির এ নেতা বলেন, আমার কথাগুলো আপনাদের বিশ্বাস করতে হবে না। এখানে ভিডিও ফুটেজ আছ, সিসিটিভি চেক করলে পাবেন। আমার সঙ্গে উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম এবং যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক সুমন মোস্তফা- তারাও মারধরে হামলার শিকার হয়েছেন।

আতাউল্লার দাবি, বিএনপির রুমিন ফারহানার অনুসারীরা ‘টার্গেট করে এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে’ মারধর করে। তারা চেয়েছে যেন এখানে আমরা আমাদের যুক্তি উপস্থাপন না করি।

সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সামনে ঘটে যাওয়া বিষয়টির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

আতাউল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচন অফিসে ইসির সামনে আমার সহযোদ্ধাদের যেভাবে তারা হামলা করেছে ফুটেজ দেখে রুমিন ফারানা যে ন্যক্করজনক হামলা ঘটিয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তাকে গ্রেফতার করতে হবে। সিইসি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী, তার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এটার বিচার নিষ্পত্তি হোক।

এর বিচার না হলে ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি এই হামলার, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। যদি বিচার করতে ব্যর্থ হয়, আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ, আরিফুর রহমান তুহিন, রফিকুল ইসলাম কনকসহ যুবশক্তির অন্য নেতারা।

রুমিন ফারহানা যা বলেছেন

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, এনসিপির ওই নেতা তেমন পরিচিত মুখ নন। তাকে ধাক্কা দেওয়ায় রুমিনের অনুসারীরাও ওই নেতাকে ধাক্কা দিয়েছেন।

দুপুরে শুনানি থেকে বেরিয়ে নির্বাচন ভবনে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, মুশকিল হচ্ছে উনি (আতাউল্লাহ) যেহেতু খুব পরিচিত কোনো মুখ নন; উনি এনসিপি থেকে এসেছেন, না জামায়াত থেকে গেছেন আমি জানি না। তবে উনি প্রথমে আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। পাঞ্জাবি পরা একজন ধাক্কা দিয়েছেন। তারপরে আমার লোক তো বসে থাকবে না। আমি তো একজন মহিলা এবং পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করেছে, আমার লোকজন জবাব দিয়েছে, সিম্পল।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

ইসি দলকানা একটা পার্টি অফিস: হাসনাত

আপডেট সময় ০৭:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বরাবরই এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশনের কাযক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এটি দলকানা একটি পার্টি অফিস এবং একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দল নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা না পেলে ইসি পুনর্গঠনের দাবিও তুলবে এনসিপি।

রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে শুনানিকালে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহসহ তিনজনের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাসনাত আব্দুল্লাহ ইসির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।
হাসনাত বলেন, আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে যাবো এবং আমরা পর্যবেক্ষণ করবো নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় কি না।

দুপুরে নির্বাচন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে শুনানি শুরু হয়। বেলা ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের দাবি ও আপিল আবেদন নিয়ে শুনানির সময় মারামারির ঘটন ঘটে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ দাবি করেছেন, বিএনপির রুমিন ফারহানা ও তার দলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা করেছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে ইসিতে যারা যারা রয়েছেন তারা অতীত কাঠামোর পিক অ্যান্ড চুজ এর ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। আমরা তাদের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকাকে সবসময়, এখনও পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করেছি।

রোববারের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে তার ধারণা মিলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির এই নেতা বলেন, আজকে পুরো বাংলাদেশ যে ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এটি মূলত আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে এবং সেই নির্বাচনে এই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপি কী ভূমিকা রাখবে, পুলিশ কি দর্শকের ভূমিকা রাখবে কি না, কী ভূমিকা পালন করবে সেটি প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনের সামনে নির্বাচন ভবনে এ অবস্থা হলে দেশে বিএনপি কীভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে তার মহড়াও হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাত বলেন, নির্বাচন অফিসে যদি এই অবস্থা হয়, সারা বাংলাদেশে এই বিএনপির যারা রয়েছে, এই গুন্ডাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে তারা কীভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে সেটির টেস্ট ম্যাচ আজকে হয়ে গিয়েছে।

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, বিগত ১৫ বছর নাকি উনি অনেক ভালো ছিলেন। উনি অবশ্যই ভালো থাকবেন। কারণ উনি যত ধরনের সুবিধা রয়েছে সব ধরনের সুবিধা নিয়েছেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন কতিপয় পার্টির পার্টি অফিস হয়ে গিয়েছে। আমরা বলে এসেছি, বারবার বলে এসেছি যে, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে যেতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আবার গুন্ডাতন্ত্রের দিকে যেতে চায় না। দেশের মানুষ আবার ১/১১ এর মঞ্চস্থ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে না।

গ্রহণযোগ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হতে হলে ইসির পেশাদারত্বের কথাও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনকে বস্তুনিষ্ঠ পেশাদারত্বের ভূমিকায় আমরা দেখতে চাই। নির্বাচন কমিশন যেভাবে দলকানা, একটি দলের প্রতি একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেভাবে নির্লজ্জের মতো কাজ করছে, সেটি আমরা যে নির্বাচনমুখী হচ্ছি তার অন্তরায় বলে আমরা মনে করছি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসিকে অবশ্যই দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তিনি।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের যে আস্থা ছিল সে আস্থা ক্রমশ ক্ষীয়মান। রিমোট কন্ট্রোল নির্বাচন কমিশনের কোথায় রয়েছে এটা আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত অজানা।

এ ইসিকে অন্যরা পরিচালিত করলে পরিণতি নূরুল হুদার মতো হবে বলেও সতর্ক করেন এনসিপির এই নেতা।

হাসনাত বলেন, এই নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করতে পারবেন না আপনারা। অন্য কেউ এটা পরিচালনা করে। আপনারা মানুষের সামনে সেটি প্রকাশ করুন। নিকট অতীতে আমরা নূরুল হুদা কমিশনকে দেখেছি। তার পরিণতি আমরা দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ আবার কোনো মঞ্চস্থ নির্বাচনের দিকে যেতে চায় না।

চব্বিশ পরবর্তী সময়ে জনগণের পালস না বুঝলে আবার বাংলাদেশ সংকটের দিকে যাবে বলে মনে করেন হাসনাত।

ইসিতে এনসিপি নেতার ওপর হামলার পর সে বিষয়ে বিএনপি কী অবস্থান নেয় সেটির প্রতি এনসিপি নজর রাখবে বলেও জানান তিনি।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাসনাত বলেন, আমরা এই গুন্ডা, এই গুন্ডার রাজনীতি ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছি। রুমিন ফারহানারা যদি সেটি আবার বাংলাদেশে রিহ্যাবিলিটেট করতে চায়, তাহলে হাসিনার প্রতি তাদের যে আন্তরিকতা, হাসিনা যেখানে আছে তাদেরও সেখানে চলে যেতে হবে।

এ সময়, রুমিন ফারহানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সিইসির পদত্যাগ চান এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ।

তিনি জানান, এলাকাবাসী বলছে এনসিপি নেতৃত্বের জায়গায় আছে। মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন সদর উপজেলা ও বিজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপির রুমিন ফারহানা আমার বিজনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে কেটে তার নির্বাচনী এলাকায় সরালো আশুগঞ্জের সঙ্গে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সঙ্গে একত্র করে। এজন্য আমি আমার এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী ইসিতে আপিল করেছি।

এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন শুনানিতে অংশ না নেন। ইসিতেও রোববার তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে এক পর্যায়ে তারা ইসিতে প্রবেশ করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আতাউল্লাহ বলেন, শুনানিস্থলে এসে দেখি বিএনপির রুমিন ফারহানাসহ লোকজন তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। একটা পর্যায়ে যখন আমার সময় আসে, আমি শুনানিতে দাঁড়াই। দাঁড়ানোর পরেই রুমিন ফারহানা তেড়ে গিয়ে আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং আমাকে কথা বলতে দেননি।

এ সময়, রুমিন ফারহানার লোকজন তাকে লাথি-ধাক্কা দেয় বলেও জানান তিনি।

আতাউল্লাহ বলেন, তার যে গুন্ডাপান্ডা ছিল তারা আমাকে পায়ের নিচে ফেলে পিষ্ট করে এবং নির্মমভাবে মারধর করে।

সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার উপযুক্ত প্রমাণ মিলবে বলে উল্লেখ করেন আতাউল্লাহ।

এনসিপির এ নেতা বলেন, আমার কথাগুলো আপনাদের বিশ্বাস করতে হবে না। এখানে ভিডিও ফুটেজ আছ, সিসিটিভি চেক করলে পাবেন। আমার সঙ্গে উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম এবং যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক সুমন মোস্তফা- তারাও মারধরে হামলার শিকার হয়েছেন।

আতাউল্লার দাবি, বিএনপির রুমিন ফারহানার অনুসারীরা ‘টার্গেট করে এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে’ মারধর করে। তারা চেয়েছে যেন এখানে আমরা আমাদের যুক্তি উপস্থাপন না করি।

সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সামনে ঘটে যাওয়া বিষয়টির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

আতাউল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচন অফিসে ইসির সামনে আমার সহযোদ্ধাদের যেভাবে তারা হামলা করেছে ফুটেজ দেখে রুমিন ফারানা যে ন্যক্করজনক হামলা ঘটিয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তাকে গ্রেফতার করতে হবে। সিইসি প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী, তার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এটার বিচার নিষ্পত্তি হোক।

এর বিচার না হলে ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি এই হামলার, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। যদি বিচার করতে ব্যর্থ হয়, আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ, আরিফুর রহমান তুহিন, রফিকুল ইসলাম কনকসহ যুবশক্তির অন্য নেতারা।

রুমিন ফারহানা যা বলেছেন

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, এনসিপির ওই নেতা তেমন পরিচিত মুখ নন। তাকে ধাক্কা দেওয়ায় রুমিনের অনুসারীরাও ওই নেতাকে ধাক্কা দিয়েছেন।

দুপুরে শুনানি থেকে বেরিয়ে নির্বাচন ভবনে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, মুশকিল হচ্ছে উনি (আতাউল্লাহ) যেহেতু খুব পরিচিত কোনো মুখ নন; উনি এনসিপি থেকে এসেছেন, না জামায়াত থেকে গেছেন আমি জানি না। তবে উনি প্রথমে আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন। পাঞ্জাবি পরা একজন ধাক্কা দিয়েছেন। তারপরে আমার লোক তো বসে থাকবে না। আমি তো একজন মহিলা এবং পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করেছে, আমার লোকজন জবাব দিয়েছে, সিম্পল।