সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬২৭ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশনে আপন দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত হোসেন এ রায় দেন। ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের জাফরুল্লাহ ফরাজির ছেলে বেলাল, দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়ন এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে সালাউদ্দিন ও একই ইউনিয়নের শাহে আলম মুন্সির ছেলে শরিফুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত আপন দুই ভাই তপন চন্দ্র শীল ও দুলাল চন্দ্র শীলের চরফ্যাশন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৬ শতাংশ পৈতৃক জমি ছিল। তিন বছর আগে বেলাল (বর্তমানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত) ও তার শ্বশুর আবু মাঝি ২০ লাখ টাকায় জমিটি কিনে নেন। তপন ও দুলাল জমির দাম বাবদ নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে ভারত চলে যান। বাকি ১৭ লাখ টাকা ভারত থেকে এসে লেনদেন করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। এরপর তপন ও দুলাল ভারত থেকে বাংলাদেশে এলে তাদের পাওনা টাকা নিতে বেলালের কাছে যান। কিন্তু টাকা না দিয়ে বেলাল তাদেরকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে তপন ও দুলালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বেলাল। এরপর ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে তপন ও দুলালকে সুন্দরীর ব্রিজের কাছে নির্জন বাগানে ডেকে নেন বেলাল। ব্রিজটির অবস্থান চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এরপর বেলাল সেই বাগানে তাদের দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং তাদের মাথা সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চরফ্যাশন আদালতের এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন বলেন, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। সকল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আজ আদালত ওই ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির মধ্যে সালাউদ্দিন ও বেলাল পলাতক রয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

ভোলার চরফ্যাশনে আপন দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত হোসেন এ রায় দেন। ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের জাফরুল্লাহ ফরাজির ছেলে বেলাল, দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়ন এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে সালাউদ্দিন ও একই ইউনিয়নের শাহে আলম মুন্সির ছেলে শরিফুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত আপন দুই ভাই তপন চন্দ্র শীল ও দুলাল চন্দ্র শীলের চরফ্যাশন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৬ শতাংশ পৈতৃক জমি ছিল। তিন বছর আগে বেলাল (বর্তমানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত) ও তার শ্বশুর আবু মাঝি ২০ লাখ টাকায় জমিটি কিনে নেন। তপন ও দুলাল জমির দাম বাবদ নগদ ৩ লাখ টাকা নিয়ে ভারত চলে যান। বাকি ১৭ লাখ টাকা ভারত থেকে এসে লেনদেন করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। এরপর তপন ও দুলাল ভারত থেকে বাংলাদেশে এলে তাদের পাওনা টাকা নিতে বেলালের কাছে যান। কিন্তু টাকা না দিয়ে বেলাল তাদেরকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে তপন ও দুলালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বেলাল। এরপর ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে তপন ও দুলালকে সুন্দরীর ব্রিজের কাছে নির্জন বাগানে ডেকে নেন বেলাল। ব্রিজটির অবস্থান চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এরপর বেলাল সেই বাগানে তাদের দুই ভাইকে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেন এবং তাদের মাথা সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চরফ্যাশন আদালতের এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন বলেন, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। সকল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আজ আদালত ওই ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির মধ্যে সালাউদ্দিন ও বেলাল পলাতক রয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।