মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই:ঘুষ দুর্নীতি ভুয়া বিল ভাউচার করে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ ধর্ষণ ও একাধিক অভিভাবক কে যৌন নিপীড়ন আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য নানা অনিয়ম অপকর্ম করেও এখনো বহাল তবিয়তে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব আছেন তিনি অথচ স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকগণের একাধিক অভিযোগ আন্দোলন মানববন্ধনের পরও তিনি ক্ষমতা ছাড়েননি।
অভিযোগ আছে মাস্টার্সের জাল সনদ দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার নির্দেশে নিয়মবহির্ভূক্তভাবে মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান, নিজেকে পরিচয় দিতেন ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠজন।
পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর একান্ত আস্থাভাজন হিসাবে নিজের পরিচয় দিতেন মোস্তফা কামাল খোশনবীশ। এই প্রভাব দেখিয়ে শিক্ষকদের ওপর দমন নিপীড়ন চালাতেন। চাকরিচূতির হুমকি দিতেন। নিজের পছন্দের শিক্ষকদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সিন্ডিকেট। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে অধ্যক্ষ খোশনবীশ ছিলেন অঘোষিত ঢাকা ১৬ আসনের শিক্ষা মন্ত্রী প্রতিটি স্কুলে নিয়োগ বাণিজ্য তদবির তিনিই করতেন ।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকেই এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভন্ন অভিযোগ উঠতে থাকে। তিনি স্বৈরাচারি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকা ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন । সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর স্ত্রী ফরিদা ইলিয়াস প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার পর ২০১৯ সালে নিয়ম বহির্ভূত ও পাতানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোস্তফা কামাল খোশনবীশকে নিয়োগ দেন। একটি বিতর্কিত পরিপত্র জারির মাধ্যমে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ হিসেবেও ২০২১ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ দায়িত্ব নেন।
মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের জন্য জমি ক্রয়ের জন্য ১৬ কোটি টাকা আত্মসাত করেছিলেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। এই অর্থ ফেরত আনার জন্য শিক্ষকদের চাপ থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি অধ্যক্ষ। বরং তিনি প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রীকে সভাপতি রাখার বিষয়টি পাকাপোক্ত করেন।
ার জন্মদিনে উদযাপনে সব শিক্ষকদের কাছে থেকে বাধ্যতামূলক চাঁদা নিয়ে ‘বার্থডে পাটির্’ করতেন। ত্রিশ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি, দামী ব্রান্ডের হাত ঘড়ি, দামি মোবাইলসহ বিভিন্ন উপহার নিতেন চাঁদার টাকায়।স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের ঢাকা উত্তরের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষক দিবসে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা দিপু মনিকে সংবর্ধনা ও উপহার দিতেন। কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যগনের সংবর্ধনা ও উপহার দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত লাভবানের নিমিত্তে শিক্ষকদের কাছ হতে মাথাপিছু ২ টাকা হতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য করেন। এভাবেও অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
রয়েছে তার বিরুদ্ধে ছেলেকে পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে একাধিক অবিভাবক কে করেছেন যৌন নিপীড়ন রয়েছে ধর্ষণ মামলাও।
প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক নারী সহকর্মী। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পিটিশন মামলা দায়ের করেছিলেন, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক একজন আয়া।
ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার ধলাইচর গ্রামের মধ্যবয়সি এই নারী আদালতে অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ তাকে একাধিকবার জোর করে ধর্ষণ করেছেন এবং ধর্ষণের গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ের সুযোগ নিয়ে গত ১৭ জুলাই কলেজের এই আয়াকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভিকটিম।
পরে ওই আয়াকে তিনি চাকরিযুক্ত করেন অবৈধভাবে। লিটন নামে এক পিওন আয়াকে ‘ধর্ষণের’ বিষয়টি জেনে ফেলায় মোস্তফা কামাল খোশনবীশের নির্মম অত্যাচারে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার তৈরীর কারিগর অথচ তিনি ৫ ই আগস্ট এর আগে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে কলেজে বসে মদ ও নারী নিয়ে ফুর্তি করতেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে পল্লবী ও রুপনগর থানার ছাত্রলীগ যুবলীগ শ্রমিক লীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের সাথে প্রতিদিন রাতে মিটিং করতেন এবং গণহত্যার নীল নকশা প্রণয়নে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, আন্দোলন চলাকালে একাধিক ছাত্রের উপরে পাশবিক নির্যাতন করেছেন। ৫ ই আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে শিক্ষক ছাত্র অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে আন্দোলন মানববন্ধন বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়ার পরও তিনি এখনো আছেন বহাল তবিয়তে অভিযোগ আছে পল্লবী থানার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা কে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দিয়ে তিনি তার পদে বহাল আছেন এবং নিজেকে এখন প্রচার করেন বিএনপি পন্থী বলে।
ঘুষ দুর্নীতির টাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শত কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও অভিভাবক এলাকাবাসী বলেন ৫ ই আগস্টের পরে স্বৈরাচারের দোসররা যেখানে পালিয়ে গেছেন সেখানে তিনি আছেন বহাল তবিয়তে ছাত্র আন্দোলন দমাতে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের অনুপ্রেরণা অর্থের যোগান দিয়েছেন ঘুষ দুর্নীতি ধর্ষণ যৌন নিপীড়ন সহ এত অভিযোগ থাকার পরও তিনি কিভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন? দ্রুত তাকে অপসারণ করে গ্রেফতার করতে হবে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য
মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ খোশনবীশের আরো দুর্নীতি অনিয়ম ও সম্পদের বিবরণ নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























