ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা ‘জামায়াত’ হঠাৎ করেই বদলে গেল জামালপুরে ধ্বংস করা হলো দুই ইটভাটার চিমনি, আটক ২ সংরক্ষিত নারী আসনের ৬৫ শতাংশই কোটিপতি : টিআইবি নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ড   ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যায় সেই জনিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

উপদেষ্টারা অনেক বেশি ভোগ বিলাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন : সাদিক কায়েম

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা অনেক বেশি ভোগ বিলাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, আমরা জুলাই শহীদদের রক্তের ওপরে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করছেন না। তারা অনেক বেশি ভোগ বিলাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ছাত্র উপদেষ্টা যাদের বানিয়েছি, তাদেরও ব্যর্থতা দেখছি, দুর্নীতি দেখতে পারছি।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ শিবিরের সাথী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তাহির ও স্বর্ণ শ্রমিক মোসলেম উদ্দিন মিলনের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, খুনি শেখ হাসিনা আমাদের দুই হাজার ভাই-বোনকে শহীদ করেছে। ৪০ হাজার ভাই- বোনকে পঙ্গু করেছে। গত ১৬ বছর যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। প্রত্যেকটির বিচার দেশে হবে। কিন্তু এক বছরেও আমরা কোনো রায় দেখতে পারি নাই। এটি আমাদের অনেক বেশি হতাশ করেছে।

জুলাই আন্দোলনকে নির্দিষ্ট গ্রুপের মধ্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের যে সার্বজনীনতা, ঐক্য ছিল সেটি নষ্ট করার জন্য দায়িত্বশীল পর্যায়ে যারা রয়েছে তাদের বিভাজনমূলক আচরণ দেখতে পারছি। এটি পুরা জাতিকে অনেক বেশি হতাশ করেছে।

সাদিক কায়েম বলেন, এক বছরেও পুলিশ সংস্কার হয়নি। জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ হচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা এটিকে কুক্ষিগত করতে একটি পক্ষ চেষ্টা করছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করতে চাই, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা, শহীদদের স্পিরিট, জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ৯ দফা এবং পরবর্তী আন্দোলন সমন্বয়সহ সামগ্রিক বিষুয় জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনুদ না থাকলে তা মেনে নেব না। সকল অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সহযোদ্ধাদের সামগ্রিক আচরণে ব্যক্তি সাদিক কায়েম না পুরো জাতি আশাহত হয়েছে। আশা করছি জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। আমাদের মতের বিরোধ থাকবে, তবে দেশ ও জুলাইয়ের প্রশ্নে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। কিন্তু সেখানে দেখলাম সহযোদ্ধারা ক্রমাগত বিষোদগার করছেন। তারা বিষোদগার করলেও আমরা ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করতে চাই। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বির্নিমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। সেই সাথে জুলাইয়ের সাথে যারা গাদ্দারি করে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে যায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ জারি থাকবে।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে যায়নি। আন্দোলনে বামপন্থি নাকি ইসলামীপন্থি দেখা হয়নি। আমরা সকলে জালেম হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। শহীদরা সকলের সম্পদ। আমরা যদি দলীয় পরিচয় দিয়ে শহীদদের পরিচয় করিয়ে দেই তাহলে তা শহীদদের প্রতি অসম্মান করা হবে। শহীদরা দেশ ও জাতির সম্পদ। ছাত্রশিবির সকল শহীদকে ধারণ করতে চায়। আমরা তাদের স্মরণীয় করে রাখতে তাদের পরিবারের কাছে যাচ্ছি, তাদের ডকুমেন্টরি করছি, স্বারকগ্রন্থ করছি।

এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সেক্রেটারি নুরুল হুদাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

উপদেষ্টারা অনেক বেশি ভোগ বিলাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন : সাদিক কায়েম

আপডেট সময় ০৭:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা অনেক বেশি ভোগ বিলাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, আমরা জুলাই শহীদদের রক্তের ওপরে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করছেন না। তারা অনেক বেশি ভোগ বিলাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ছাত্র উপদেষ্টা যাদের বানিয়েছি, তাদেরও ব্যর্থতা দেখছি, দুর্নীতি দেখতে পারছি।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ শিবিরের সাথী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তাহির ও স্বর্ণ শ্রমিক মোসলেম উদ্দিন মিলনের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, খুনি শেখ হাসিনা আমাদের দুই হাজার ভাই-বোনকে শহীদ করেছে। ৪০ হাজার ভাই- বোনকে পঙ্গু করেছে। গত ১৬ বছর যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। প্রত্যেকটির বিচার দেশে হবে। কিন্তু এক বছরেও আমরা কোনো রায় দেখতে পারি নাই। এটি আমাদের অনেক বেশি হতাশ করেছে।

জুলাই আন্দোলনকে নির্দিষ্ট গ্রুপের মধ্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের যে সার্বজনীনতা, ঐক্য ছিল সেটি নষ্ট করার জন্য দায়িত্বশীল পর্যায়ে যারা রয়েছে তাদের বিভাজনমূলক আচরণ দেখতে পারছি। এটি পুরা জাতিকে অনেক বেশি হতাশ করেছে।

সাদিক কায়েম বলেন, এক বছরেও পুলিশ সংস্কার হয়নি। জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ হচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা এটিকে কুক্ষিগত করতে একটি পক্ষ চেষ্টা করছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করতে চাই, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা, শহীদদের স্পিরিট, জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ৯ দফা এবং পরবর্তী আন্দোলন সমন্বয়সহ সামগ্রিক বিষুয় জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনুদ না থাকলে তা মেনে নেব না। সকল অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সহযোদ্ধাদের সামগ্রিক আচরণে ব্যক্তি সাদিক কায়েম না পুরো জাতি আশাহত হয়েছে। আশা করছি জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। আমাদের মতের বিরোধ থাকবে, তবে দেশ ও জুলাইয়ের প্রশ্নে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। কিন্তু সেখানে দেখলাম সহযোদ্ধারা ক্রমাগত বিষোদগার করছেন। তারা বিষোদগার করলেও আমরা ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করতে চাই। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বির্নিমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। সেই সাথে জুলাইয়ের সাথে যারা গাদ্দারি করে, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে যায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ জারি থাকবে।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে যায়নি। আন্দোলনে বামপন্থি নাকি ইসলামীপন্থি দেখা হয়নি। আমরা সকলে জালেম হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। শহীদরা সকলের সম্পদ। আমরা যদি দলীয় পরিচয় দিয়ে শহীদদের পরিচয় করিয়ে দেই তাহলে তা শহীদদের প্রতি অসম্মান করা হবে। শহীদরা দেশ ও জাতির সম্পদ। ছাত্রশিবির সকল শহীদকে ধারণ করতে চায়। আমরা তাদের স্মরণীয় করে রাখতে তাদের পরিবারের কাছে যাচ্ছি, তাদের ডকুমেন্টরি করছি, স্বারকগ্রন্থ করছি।

এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সেক্রেটারি নুরুল হুদাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।