সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

শান্তির হ্যাটট্রিকে দুই ভেন্যুর ম্যাচে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

সন্ধ্যার আলোয় শেষ হলো এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। সাড়ে চার ঘণ্টার নাটকীয়তার পর ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ম্যাচের নায়িকা শান্তি মার্ডি, যিনি একাই করেছেন হ্যাটট্রিক।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হয়েছিল ম্যাচ। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষের পরেই প্রকৃতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মুষলধারে বৃষ্টিতে মাঠ দ্রুতই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে শান্তির একমাত্র গোলে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে কোচ পিটার বাটলার এক ঝটকায় নয়টি পরিবর্তন করেছিলেন, যা দলের গভীরতার জানান দেয়।

বিরতির পর শুরু হয় মূল নাটক। মাঠকর্মীদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে ম্যাচ কমিশনার আসিফ আনসার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন—ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ হবে পাশের বসুন্ধরা কিংস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় নতুন ভেন্যুতে ফের শুরু হয় খেলা।

ভুটান দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরালেও বাংলাদেশের মেয়েরা হাল ছাড়েনি। শান্তির দ্বিতীয় গোলেই আবারও এগিয়ে যায় লাল-সবুজরা। এরপর কোচ বাটলার মাঠে নামান অভিজ্ঞ মুনকি, নবীরণ এবং স্বপ্নাকে। নেমেই মুনকি গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।

ম্যাচের শেষ ভাগে শান্তির হ্যাটট্রিক গোল বাংলাদেশের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে দেয়। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শক, স্কোয়াডের বাইরে থাকা ফুটবলাররা, এমনকি আগের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া সাগরিকাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন।

শান্তি মার্ডির এই হ্যাটট্রিক শুধু দলের জয়ে নয়, শিরোপার দৌড়েও বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল করেছে। ম্যাচ শেষে তার উল্লাস, সতীর্থদের আনন্দ—সব মিলিয়ে ছিল এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চ।

বৃষ্টি, মাঠ পরিবর্তন, এবং টানা অপেক্ষার পরও মেয়েদের এই দাপুটে জয় প্রমাণ করে দিল, বাংলাদেশের নারী ফুটবল এখন আর কোনো বাধাকেই ভয় পায় না।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শান্তির হ্যাটট্রিকে দুই ভেন্যুর ম্যাচে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

সন্ধ্যার আলোয় শেষ হলো এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। সাড়ে চার ঘণ্টার নাটকীয়তার পর ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ম্যাচের নায়িকা শান্তি মার্ডি, যিনি একাই করেছেন হ্যাটট্রিক।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর ৩টায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হয়েছিল ম্যাচ। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষের পরেই প্রকৃতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মুষলধারে বৃষ্টিতে মাঠ দ্রুতই অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে শান্তির একমাত্র গোলে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে কোচ পিটার বাটলার এক ঝটকায় নয়টি পরিবর্তন করেছিলেন, যা দলের গভীরতার জানান দেয়।

বিরতির পর শুরু হয় মূল নাটক। মাঠকর্মীদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে ম্যাচ কমিশনার আসিফ আনসার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন—ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ হবে পাশের বসুন্ধরা কিংস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় নতুন ভেন্যুতে ফের শুরু হয় খেলা।

ভুটান দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরালেও বাংলাদেশের মেয়েরা হাল ছাড়েনি। শান্তির দ্বিতীয় গোলেই আবারও এগিয়ে যায় লাল-সবুজরা। এরপর কোচ বাটলার মাঠে নামান অভিজ্ঞ মুনকি, নবীরণ এবং স্বপ্নাকে। নেমেই মুনকি গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।

ম্যাচের শেষ ভাগে শান্তির হ্যাটট্রিক গোল বাংলাদেশের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে দেয়। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শক, স্কোয়াডের বাইরে থাকা ফুটবলাররা, এমনকি আগের ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া সাগরিকাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন।

শান্তি মার্ডির এই হ্যাটট্রিক শুধু দলের জয়ে নয়, শিরোপার দৌড়েও বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল করেছে। ম্যাচ শেষে তার উল্লাস, সতীর্থদের আনন্দ—সব মিলিয়ে ছিল এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চ।

বৃষ্টি, মাঠ পরিবর্তন, এবং টানা অপেক্ষার পরও মেয়েদের এই দাপুটে জয় প্রমাণ করে দিল, বাংলাদেশের নারী ফুটবল এখন আর কোনো বাধাকেই ভয় পায় না।