সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

২৪৭ রানে অলআউট বাংলাদেশ

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • ৬৫০ বার পড়া হয়েছে

তাইজুল ইসলাম শেষদিকে এসে বেশ লড়াই করলেন। যার ব্যাটে চড়ে কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে আড়াইশর কাছাকাছি গেলো বাংলাদেশ। ৭৯.৩ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় দিনে শেষ ২ উইকেটে ২৭ রান যোগ করেছে টাইগাররা।

টেস্টের প্রথম দিনে আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৭১ ওভারে ৮ উইকেটে ২২০ রান করেছিল বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম ৯ আর এবাদত হোসেন ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বুধবার শুরু কলম্বো টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। খুবই রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও এনামুল হক বিজয়।

কিন্তু এবারও উইকেটে স্থির হতে পারেননি বিজয়। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বলে ব্যাটের ভেতর কাণায় লেগে বোল্ড হন তিনি। ১০ বলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। সর্বশেষ তিন টেস্ট ইনিংসে দ্বিতীয়বার ডাক মারলেন বিজয়।
আউট হওয়ার আগে লঙ্কান ডানহাতি পেসারের বলে আরও দুইবার জীবনও পান। ইনিংসের তৃতীয় আসিথার বলে বিজয়ের ক্যাচ ফেলে দেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস। পরের বলে তৃতীয় স্লিপে আবার ক্যাচ তোলেন ডানহাতি ব্যাটার। অর্থাৎ দুটি জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি বিজয়।

এরপর উইকেটে ভালোভাবেই সেট হয়েছিলেন মুমিনুল হক। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। ৩৯ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যাচ দিয়ে।

ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলে লঙ্কান স্পিনার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে রুম করে মারতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার পাবান রত্মায়েকের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি টাইগার ব্যাটার। এতে ভাঙে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি। দলীয় ৪৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় উইকেটে ৩১ রানের জুটি করেন সাদমান ও শান্ত। কিন্তু মাত্র ২ রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটারের উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

ইনিংসের ২৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হন শান্ত। ৩১ বলে ৮ রান করে লঙ্কান পেসার ভিশ্ব ফার্নান্দোর বলে উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ২ রান যোগ হতেই সাজঘরের পথ ধরেন সাদমান। ২৯তম ওভারের শেষ বলে থারিন্দু রত্মায়েকের ঘূর্ণিতে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার হাতে ক্যাচ তুলে দেন টাইগার বাঁহাতি ব্যাটার। ৯৩ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন সাদমান।

৩৩.২ ওভারের খেলা শেষে নেমেছিল বৃষ্টি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টির শুরুর আগে ৪ উইকেটে ৯০ রান করেছিল বাংলাদেশ। প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার ফের খেলা শুরু হয়।

এরপরই ভুল করে বসেন লিটন। মুশফিক আর লিটনের জুটি আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু লিটনের ভুলে সেই জুটি ৬৭ রানের বেশি বড় হয়নি।

আগের ওভারেই প্রভাত জয়সুরিয়াকে স্লগ করতে গিয়ে বল আকাশে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। একটুর জন্য সে ক্যাচ জয়সুরিয়ার হাত ফস্কে যায়। কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নেননি লিটন।

পরের ওভারে দিলেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ। দুই-তিনবারের চেষ্টায় সেই ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করলেন উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই উইকেট পান বাঁহাতি স্পিনার সোনাল দিনুশা। ৫৬ বলে ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় লিটন ফেরেন ৩৪ করে। ৫ উইকেটে ১৪৪ রান নিয়ে প্রথম দিনের চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

শেষ সেশনে মুশফিক-মিরাজ জুটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার এমন ভুল করে বসলেন, যা ভীষণ দৃষ্টিকটুই ঠেকেছে।

দলের বিপদের মুখে প্রিয় স্লগ সুইপ খেলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মুশফিক। ৭৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। এর আগে ব্যক্তিগত ৮ রানের মাথায় স্লগ সুইপে ক্যাচ দিয়েও জীবন পেয়েছিলেন মুশফিক।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন। নাঈম হাসানকে নিয়ে ৫৬ বলে ৩৭ রানের একটি জুটিও গড়ে ফেলেছিলেন।

কিন্তু বিশ্ব ফার্নান্ডোর পেস বুঝতে না পেরে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন মিরাজ। ৪২ বলে ৩১ রানের ইনিংসে ৩টি চার হাঁকান এই অলরাউন্ডার। দুইশর আগে (১৯৭ রানে) ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৫ করে বোল্ড হন নাঈম হাসান।

দ্বিতীয় দিনের সকাল সকাল আসিথা ফার্নান্ডোর বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন এবাদত হোসেন (৮)। এরপর অনেকটা সময় একাই লড়াই করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান করে স্পিনার সোনাল দিনুশাকে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার আসিথা ফার্নান্ডো আর সোনাল দিনুশা নেন তিনটি করে উইকেট।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৪৭ রানে অলআউট বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১১:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

তাইজুল ইসলাম শেষদিকে এসে বেশ লড়াই করলেন। যার ব্যাটে চড়ে কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে আড়াইশর কাছাকাছি গেলো বাংলাদেশ। ৭৯.৩ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় দিনে শেষ ২ উইকেটে ২৭ রান যোগ করেছে টাইগাররা।

টেস্টের প্রথম দিনে আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৭১ ওভারে ৮ উইকেটে ২২০ রান করেছিল বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম ৯ আর এবাদত হোসেন ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বুধবার শুরু কলম্বো টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। খুবই রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলা শুরু করেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও এনামুল হক বিজয়।

কিন্তু এবারও উইকেটে স্থির হতে পারেননি বিজয়। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বলে ব্যাটের ভেতর কাণায় লেগে বোল্ড হন তিনি। ১০ বলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। সর্বশেষ তিন টেস্ট ইনিংসে দ্বিতীয়বার ডাক মারলেন বিজয়।
আউট হওয়ার আগে লঙ্কান ডানহাতি পেসারের বলে আরও দুইবার জীবনও পান। ইনিংসের তৃতীয় আসিথার বলে বিজয়ের ক্যাচ ফেলে দেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস। পরের বলে তৃতীয় স্লিপে আবার ক্যাচ তোলেন ডানহাতি ব্যাটার। অর্থাৎ দুটি জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি বিজয়।

এরপর উইকেটে ভালোভাবেই সেট হয়েছিলেন মুমিনুল হক। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। ৩৯ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যাচ দিয়ে।

ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলে লঙ্কান স্পিনার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার বলে রুম করে মারতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার পাবান রত্মায়েকের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি টাইগার ব্যাটার। এতে ভাঙে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি। দলীয় ৪৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় উইকেটে ৩১ রানের জুটি করেন সাদমান ও শান্ত। কিন্তু মাত্র ২ রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটারের উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

ইনিংসের ২৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হন শান্ত। ৩১ বলে ৮ রান করে লঙ্কান পেসার ভিশ্ব ফার্নান্দোর বলে উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ২ রান যোগ হতেই সাজঘরের পথ ধরেন সাদমান। ২৯তম ওভারের শেষ বলে থারিন্দু রত্মায়েকের ঘূর্ণিতে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার হাতে ক্যাচ তুলে দেন টাইগার বাঁহাতি ব্যাটার। ৯৩ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন সাদমান।

৩৩.২ ওভারের খেলা শেষে নেমেছিল বৃষ্টি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টির শুরুর আগে ৪ উইকেটে ৯০ রান করেছিল বাংলাদেশ। প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার ফের খেলা শুরু হয়।

এরপরই ভুল করে বসেন লিটন। মুশফিক আর লিটনের জুটি আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু লিটনের ভুলে সেই জুটি ৬৭ রানের বেশি বড় হয়নি।

আগের ওভারেই প্রভাত জয়সুরিয়াকে স্লগ করতে গিয়ে বল আকাশে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। একটুর জন্য সে ক্যাচ জয়সুরিয়ার হাত ফস্কে যায়। কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নেননি লিটন।

পরের ওভারে দিলেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ। দুই-তিনবারের চেষ্টায় সেই ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করলেন উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই উইকেট পান বাঁহাতি স্পিনার সোনাল দিনুশা। ৫৬ বলে ২ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় লিটন ফেরেন ৩৪ করে। ৫ উইকেটে ১৪৪ রান নিয়ে প্রথম দিনের চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

শেষ সেশনে মুশফিক-মিরাজ জুটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার এমন ভুল করে বসলেন, যা ভীষণ দৃষ্টিকটুই ঠেকেছে।

দলের বিপদের মুখে প্রিয় স্লগ সুইপ খেলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মুশফিক। ৭৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। এর আগে ব্যক্তিগত ৮ রানের মাথায় স্লগ সুইপে ক্যাচ দিয়েও জীবন পেয়েছিলেন মুশফিক।
চোট কাটিয়ে দলে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন। নাঈম হাসানকে নিয়ে ৫৬ বলে ৩৭ রানের একটি জুটিও গড়ে ফেলেছিলেন।

কিন্তু বিশ্ব ফার্নান্ডোর পেস বুঝতে না পেরে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন মিরাজ। ৪২ বলে ৩১ রানের ইনিংসে ৩টি চার হাঁকান এই অলরাউন্ডার। দুইশর আগে (১৯৭ রানে) ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৫ করে বোল্ড হন নাঈম হাসান।

দ্বিতীয় দিনের সকাল সকাল আসিথা ফার্নান্ডোর বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন এবাদত হোসেন (৮)। এরপর অনেকটা সময় একাই লড়াই করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান করে স্পিনার সোনাল দিনুশাকে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার আসিথা ফার্নান্ডো আর সোনাল দিনুশা নেন তিনটি করে উইকেট।