সংবাদ শিরোনাম ::
শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পুড়লো বসতবাড়ি ৫ আগস্টের পর ভাগ্য বদলে গেছে জামায়াত নেতার ছেলের রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসের ইউরোপ সফর, উঠছে নানা প্রশ্ন ঢাকার গুলিস্তানে সিলগালা ভেঙে পার্কিংয়ে সহস্রাধিক অবৈধ দোকান কাজ না করেই সরকারি প্রকল্পের ১২ কোটি টাকা নিয়ে গেল ঠিকাদার বিপিসির আহম্মদুল্লাহর ঢাকায় বহুতল ভবন, গ্রামে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি রাষ্ট্রের টাকায় ব্যক্তিগত ‘ভবিষ্যৎ’ গড়লেন সামি! নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি রাজবাড়ীর কালুখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস

প্রধান অতিথি কে হবেন, সেই দ্বন্দ্বে আটকে গেলো বিএনপির সম্মেলন

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানা বিএনপির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল বুধবার (২৫ জুন)। কিন্তু সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। মূলত অতিথি নির্বাচনে মতানৈক্যে ঝুলে গেছে ফরিদপুর কোতোয়ালি বিএনপির সম্মেলন।

এ লক্ষ্যে আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা হয় ঝিলটুলীতে। ওই সভায় কোতোয়ালি থানা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দু’জনের নাম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এদের একজন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসা এবং আরেকজন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তারা দু’জনই জেলা সদরের ফরিদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, কোনো পক্ষই অপর পক্ষকে ছাড় দিতে রাজি হননি কিংবা প্রস্তুতি কমিটিও অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়নি। ফলে সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই সভা শেষ হয়।

কোতোয়ালি থানা বিএনপির প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আশরাফ নান্নু। এই প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম লিটন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মামুন উর রশীদসহ পাঁচজন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম লিটন জানান, সভায় প্রধান অতিথি কে হবেন সে বিষয়ে একমতে পৌঁছাতে পারেননি তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি বিভাগীয় সম্মেলন বাস্তবায়ন টিমের নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটে সম্মেলন বাস্তবায়নের কেন্দ্রীয় ওই কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তপন। সদস্যরা হলেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকু ও সেলিমুজ্জামান সেলিম।

এদিকে এরইমধ্যে জেলার অন্যান্য থানা কমিটির সম্মেলন শেষ হয়েছে। তবে কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে। এখনো অনেক ইউনিটে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। নেতাদের বাড়িতে প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ভিড় করছেন। ১২ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা, মহানগর, কোতোয়ালি ও উপজেলাসহ সকল ইউনিট কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করে জেলা সম্মেলন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কিবরিয়া স্বপন জানান, কর্মী সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। যার কারণে সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তা পরে জানানো হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। কল কেটে দেন।
বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ফরিদপুরে সব জায়গায়ই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে হয়ত অতিথি নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এখানেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালি থানা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠান ঝুলে গেলো। এরপর জেলা ও মহানগর সম্মেলনের কী হবে সেটি নিয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চলছে আলোচনা। তবে সম্মেলনের দিন ডেলিগেটদের ভোটে নেতা নির্বাচন না হওয়ায় এখন কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি প্রকাশ হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। অনেকে কমিটি গঠন নিয়ে নানা কথা বলছেন। পদ পেতে অনেকে দৌড়ঝাঁপ করছেন। ফ্যাসিস্টের সহযোগী অনেকে ইতোমধ্যে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের৷ এখন এসব ইউনিট কমিটিতেও তারা ঢুকবে কি না তাই নিয়ে চলছে শোরগোল। যদিও কেন্দ্রীয় টিম লিডার আসাদুজ্জামান দলে হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে সবাই সতর্ক করে দিয়েছেন। দলটিতে একইসঙ্গে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, পুড়লো বসতবাড়ি

প্রধান অতিথি কে হবেন, সেই দ্বন্দ্বে আটকে গেলো বিএনপির সম্মেলন

আপডেট সময় ১২:৫২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানা বিএনপির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল বুধবার (২৫ জুন)। কিন্তু সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে। মূলত অতিথি নির্বাচনে মতানৈক্যে ঝুলে গেছে ফরিদপুর কোতোয়ালি বিএনপির সম্মেলন।

এ লক্ষ্যে আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা হয় ঝিলটুলীতে। ওই সভায় কোতোয়ালি থানা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দু’জনের নাম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এদের একজন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসা এবং আরেকজন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তারা দু’জনই জেলা সদরের ফরিদপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, কোনো পক্ষই অপর পক্ষকে ছাড় দিতে রাজি হননি কিংবা প্রস্তুতি কমিটিও অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়নি। ফলে সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই সভা শেষ হয়।

কোতোয়ালি থানা বিএনপির প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আশরাফ নান্নু। এই প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম লিটন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মামুন উর রশীদসহ পাঁচজন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য রশিদুল ইসলাম লিটন জানান, সভায় প্রধান অতিথি কে হবেন সে বিষয়ে একমতে পৌঁছাতে পারেননি তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি বিভাগীয় সম্মেলন বাস্তবায়ন টিমের নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি জানান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটে সম্মেলন বাস্তবায়নের কেন্দ্রীয় ওই কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তপন। সদস্যরা হলেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকু ও সেলিমুজ্জামান সেলিম।

এদিকে এরইমধ্যে জেলার অন্যান্য থানা কমিটির সম্মেলন শেষ হয়েছে। তবে কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে। এখনো অনেক ইউনিটে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। নেতাদের বাড়িতে প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ভিড় করছেন। ১২ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা, মহানগর, কোতোয়ালি ও উপজেলাসহ সকল ইউনিট কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করে জেলা সম্মেলন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কিবরিয়া স্বপন জানান, কর্মী সম্মেলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। যার কারণে সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তা পরে জানানো হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদাররেস আলী ঈসার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক চৌধুরী নায়াব ইউসুফের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। কল কেটে দেন।
বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ফরিদপুরে সব জায়গায়ই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে হয়ত অতিথি নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এখানেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালি থানা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠান ঝুলে গেলো। এরপর জেলা ও মহানগর সম্মেলনের কী হবে সেটি নিয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চলছে আলোচনা। তবে সম্মেলনের দিন ডেলিগেটদের ভোটে নেতা নির্বাচন না হওয়ায় এখন কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি প্রকাশ হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। অনেকে কমিটি গঠন নিয়ে নানা কথা বলছেন। পদ পেতে অনেকে দৌড়ঝাঁপ করছেন। ফ্যাসিস্টের সহযোগী অনেকে ইতোমধ্যে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের৷ এখন এসব ইউনিট কমিটিতেও তারা ঢুকবে কি না তাই নিয়ে চলছে শোরগোল। যদিও কেন্দ্রীয় টিম লিডার আসাদুজ্জামান দলে হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে সবাই সতর্ক করে দিয়েছেন। দলটিতে একইসঙ্গে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।