ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক ময়মনসিংহে উপপরিচালক হারুনের পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলী ঘোষণা (২০২৭–২০২৮) সেনবাগে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমন্বিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত কলেজ শিক্ষকের কাছে ডাকযোগে কাফনের কাপড়, তদন্তে পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আতাহারে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’: বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসেব দিলেন প্রশাসক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের কিং কোবরা সাপ উদ্ধার বয়সভিত্তিক দলে বিদেশি কোচ ও বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা

বর্ষার স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় সেজেছে খুবির প্রাঙ্গণ

রাতভর বৃষ্টির শব্দে ভিজে যাওয়া এক ভোরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন অন্য এক রূপে জেগে ওঠে। সবুজে স্নান করে নেয় প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ঘাসফড়িং, আর ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতীক্ষমাণ রাস্তা। সে এক স্নিগ্ধতা, যার গায়ে হাত রাখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজের আত্মজল দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে চারপাশের ক্লান্তি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষা শুরু হয় ধীরে ধীরে। আকাশের দিগন্তে একটুখানি ধূসর রঙ জমা হয়, পেঁজা তুলোর মতো মেঘগুলো লম্বা টানে ভেসে যায় ক্যাম্পাসের মাথার ওপর দিয়ে। তারপরে হঠাৎ এক বিকেলে ঝরঝর করে নেমে আসে বৃষ্টি, ছাতা হাতে দৌড়ে বেড়ায় কিছু তরুণ-তরুণী, কেউ দাঁড়িয়ে থাকে হলের বারান্দায়, কেউবা ক্যাফেটেরিয়াতে গোলপাতার মনোমুগ্ধকর ছাউনির নিচে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতেও এসময় দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের কাচঘেরা জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে, আর ভেতরে বসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষানিরীক্ষার ফাঁকে হারিয়ে যায় প্রকৃতির নিজস্ব রসায়নে। ড. সত্যেন্দ্র নাথ বসু একাডেমিক ভবনে কংক্রিট আর বৃষ্টির ছন্দ মিশে একধরনের স্নিগ্ধতা তৈরি করে,যেখানে ধাতব রেলিংয়ে জমা জলটুকুও যেন সুর তোলে। আর কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনে বর্ষা মানে ভাবনার অতলতা। জানালার বাইরে ঝরতে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা আর ভেতরে সমাজ-রাষ্ট্র নিয়ে চলা চিন্তার জলছাপ এক হয়ে যায়। এই তিন ভবনেই বৃষ্টি যেন শুধু প্রাকৃতিক নয়, বরং প্রতিটি চিন্তার গভীরে ছড়িয়ে থাকা এক অনুভবের ভাষা।

এই বর্ষায় সবচেয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের চিরচেনা পাখিরা এবং গাছপালাগুলো। পাখিরা এসময় হয়ে ওঠে ছোট্ট কর্মচারী। কে কোথায় বাসা বাঁধবে এই নিয়ে চলে বিস্তর যুদ্ধ। অন্যদিকে গাছপালা সেজে ওঠে সবুজের মুকুটে আর ফুলের অলংকারে। কৃষ্ণচূড়া, বাগানবিলাস, জারুল, সোনালু ক্যাম্পাসকে সাজিয়ে তোলে নতুন করে। আবার দেখা যায় বর্ষাকালীন বিভিন্ন ফলের ভারে নুয়ে পড়ে ফলের গাছগুলো।

লাইফ সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসেন জান্নাতুল ফেরদৌস অন্তরা, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “লাইফ সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে টুপটাপ শব্দ করে, আর আমি ল্যাবের কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে চুপচাপ তাকিয়ে থাকি। মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে একটা গবেষণা চালাচ্ছে বৃষ্টি, বাতাস আর সবুজ নিয়ে।”

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষা যেন শুধুই বৃষ্টি নয় এটা ছাত্রছাত্রীদের মনজুড়ে থাকা এক নরম অনুভব, যা কখনও ছায়াঘেরা করিডোরে, কখনও জানালার কাচে জমে থাকা ফোঁটায় ধরা দেয়। এই ঋতু তাই এখানে একান্ত নিজের মতো করে কথা বলে যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক

বর্ষার স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় সেজেছে খুবির প্রাঙ্গণ

আপডেট সময় ০৮:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

রাতভর বৃষ্টির শব্দে ভিজে যাওয়া এক ভোরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন অন্য এক রূপে জেগে ওঠে। সবুজে স্নান করে নেয় প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ঘাসফড়িং, আর ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতীক্ষমাণ রাস্তা। সে এক স্নিগ্ধতা, যার গায়ে হাত রাখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজের আত্মজল দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে চারপাশের ক্লান্তি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষা শুরু হয় ধীরে ধীরে। আকাশের দিগন্তে একটুখানি ধূসর রঙ জমা হয়, পেঁজা তুলোর মতো মেঘগুলো লম্বা টানে ভেসে যায় ক্যাম্পাসের মাথার ওপর দিয়ে। তারপরে হঠাৎ এক বিকেলে ঝরঝর করে নেমে আসে বৃষ্টি, ছাতা হাতে দৌড়ে বেড়ায় কিছু তরুণ-তরুণী, কেউ দাঁড়িয়ে থাকে হলের বারান্দায়, কেউবা ক্যাফেটেরিয়াতে গোলপাতার মনোমুগ্ধকর ছাউনির নিচে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতেও এসময় দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের কাচঘেরা জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে, আর ভেতরে বসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষানিরীক্ষার ফাঁকে হারিয়ে যায় প্রকৃতির নিজস্ব রসায়নে। ড. সত্যেন্দ্র নাথ বসু একাডেমিক ভবনে কংক্রিট আর বৃষ্টির ছন্দ মিশে একধরনের স্নিগ্ধতা তৈরি করে,যেখানে ধাতব রেলিংয়ে জমা জলটুকুও যেন সুর তোলে। আর কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনে বর্ষা মানে ভাবনার অতলতা। জানালার বাইরে ঝরতে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা আর ভেতরে সমাজ-রাষ্ট্র নিয়ে চলা চিন্তার জলছাপ এক হয়ে যায়। এই তিন ভবনেই বৃষ্টি যেন শুধু প্রাকৃতিক নয়, বরং প্রতিটি চিন্তার গভীরে ছড়িয়ে থাকা এক অনুভবের ভাষা।

এই বর্ষায় সবচেয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের চিরচেনা পাখিরা এবং গাছপালাগুলো। পাখিরা এসময় হয়ে ওঠে ছোট্ট কর্মচারী। কে কোথায় বাসা বাঁধবে এই নিয়ে চলে বিস্তর যুদ্ধ। অন্যদিকে গাছপালা সেজে ওঠে সবুজের মুকুটে আর ফুলের অলংকারে। কৃষ্ণচূড়া, বাগানবিলাস, জারুল, সোনালু ক্যাম্পাসকে সাজিয়ে তোলে নতুন করে। আবার দেখা যায় বর্ষাকালীন বিভিন্ন ফলের ভারে নুয়ে পড়ে ফলের গাছগুলো।

লাইফ সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসেন জান্নাতুল ফেরদৌস অন্তরা, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “লাইফ সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে টুপটাপ শব্দ করে, আর আমি ল্যাবের কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে চুপচাপ তাকিয়ে থাকি। মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে একটা গবেষণা চালাচ্ছে বৃষ্টি, বাতাস আর সবুজ নিয়ে।”

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষা যেন শুধুই বৃষ্টি নয় এটা ছাত্রছাত্রীদের মনজুড়ে থাকা এক নরম অনুভব, যা কখনও ছায়াঘেরা করিডোরে, কখনও জানালার কাচে জমে থাকা ফোঁটায় ধরা দেয়। এই ঋতু তাই এখানে একান্ত নিজের মতো করে কথা বলে যায়।