ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

ঢাকায় চার বাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক রানা

ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনের এই কর্মকর্তার সম্পদ দেখে যে কারো চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের মাঝেও থেমে নেই তার অপকর্ম।
এর আগে তিনি ওয়াসার মিটার রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সে সময় আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এসব অর্থে তিনি নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় রানার রয়েছে চারটি বহুতল বাড়ি। এর মধ্যে টিক্কাপাড়ার ৭/এ/১৫ নম্বর বাড়ি, ঢাকা উদ্যানের ৩ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর চারতলা ভবন এবং চান মিয়া হাউজিংয়ের ২ নম্বর রোডে আরেকটি বাড়ির মালিক তিনি। এছাড়া মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডের এম/৮ নম্বরের একটি দোতলা সরকারি সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন।
শুধু তাই নয়, গাজীপুরের শ্রীপুর, মাওনা, ময়মনসিংহের ভালুকা, পাইথল ও গফরগাঁওয়েও রয়েছে তার বিপুল সম্পদ। নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের পাগলা থানার মাখল গ্রামে তিনি নির্মাণ করেছেন রাজকীয় এক প্রাসাদ। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারী হয়ে এত সম্পদের মালিক হওয়ায় বিস্মিত তার সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা।

জানা গেছে, ওয়াসার এই কর্মচারির নানা অভিযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। এতোসব অভিযোগের পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বর্তমানে তিনি ঢাকা ওয়াসার ২ নম্বর রাজস্ব জোনে কর্মরত থাকলেও, অতীতে অন্যান্য জোনেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষভাবে জানা গেছে, ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন রানা। তিনি নিজে মাঠপর্যায়ে কাজ না করে ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগকৃত সহকারী মো. জাকিরসহ একাধিক বহিরাগত ডুপলি কর্মচারী দিয়ে কাজ পরিচালনা করেন।

বহিরাগত ডুপলিদের মধ্যে তার সহকারী জাকিরকে ২৫ হাজার টাকা এবং গাড়িচালককেও ২৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়, যেখানে রানার নিজের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা মাত্র।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা জানান, তার সহকর্মীরা এসব অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার যেসব সম্পদ রয়েছে, তার সবই আয়কর রিটার্নে উল্লেখ আছে। জানতে চাওয়া হয়, কোথায় কোথায় সম্পদ রয়েছে। সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি তিনি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

ঢাকায় চার বাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক রানা

আপডেট সময় ১০:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনের এই কর্মকর্তার সম্পদ দেখে যে কারো চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের মাঝেও থেমে নেই তার অপকর্ম।
এর আগে তিনি ওয়াসার মিটার রিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সে সময় আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এসব অর্থে তিনি নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় রানার রয়েছে চারটি বহুতল বাড়ি। এর মধ্যে টিক্কাপাড়ার ৭/এ/১৫ নম্বর বাড়ি, ঢাকা উদ্যানের ৩ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর চারতলা ভবন এবং চান মিয়া হাউজিংয়ের ২ নম্বর রোডে আরেকটি বাড়ির মালিক তিনি। এছাড়া মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডের এম/৮ নম্বরের একটি দোতলা সরকারি সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন।
শুধু তাই নয়, গাজীপুরের শ্রীপুর, মাওনা, ময়মনসিংহের ভালুকা, পাইথল ও গফরগাঁওয়েও রয়েছে তার বিপুল সম্পদ। নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের পাগলা থানার মাখল গ্রামে তিনি নির্মাণ করেছেন রাজকীয় এক প্রাসাদ। মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারী হয়ে এত সম্পদের মালিক হওয়ায় বিস্মিত তার সহকর্মী ও প্রতিবেশীরা।

জানা গেছে, ওয়াসার এই কর্মচারির নানা অভিযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। এতোসব অভিযোগের পরও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বর্তমানে তিনি ঢাকা ওয়াসার ২ নম্বর রাজস্ব জোনে কর্মরত থাকলেও, অতীতে অন্যান্য জোনেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষভাবে জানা গেছে, ওয়াসার পিপিআই প্রকল্পের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন রানা। তিনি নিজে মাঠপর্যায়ে কাজ না করে ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগকৃত সহকারী মো. জাকিরসহ একাধিক বহিরাগত ডুপলি কর্মচারী দিয়ে কাজ পরিচালনা করেন।

বহিরাগত ডুপলিদের মধ্যে তার সহকারী জাকিরকে ২৫ হাজার টাকা এবং গাড়িচালককেও ২৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়, যেখানে রানার নিজের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা মাত্র।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা জানান, তার সহকর্মীরা এসব অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার যেসব সম্পদ রয়েছে, তার সবই আয়কর রিটার্নে উল্লেখ আছে। জানতে চাওয়া হয়, কোথায় কোথায় সম্পদ রয়েছে। সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি তিনি।