ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ফিরোজ জামান ও ফনিন্দ্রনাথের ৪৭ লাখ টাকার দূর্নীতি পবিপ্রবি ও ইন্দোনেশিয়া নেগারি পাদং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমাঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপে মোদি সরকার ১ মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ নৈতিক স্খলন প্রমাণিত, জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার বোরহানউদ্দিনে ৯ বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ- মামলার আধঘণ্টায় প্রধান শিক্ষকসহ দুই আসামি আটক তিস্তাপাড়ের আর্তনাদ: বানের পানিতে বন্দি জীবনে এক অসহায় মায়ের কান্না বাঘায় স্বামী স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার  নওগাঁর রাণীনগরে আন্ত:জেলা চোর চক্রের আরো ৩ সদস্য আটক, ৫টি গরু উদ্ধার

নরসিংদী রায়পুরায় দুই শিক্ষার্থীকে দলবব্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নরসিংদীর রায়পুরায় ষষ্ঠ শ্রেণীর দুই শিশু শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরআড়ালিয়া ইউনিয়নের বাঘাইকান্দী এলাকায় আট বন্ধু মিলে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। ধর্ষিতা দুই শিশু রায়পুরা উপজেলার বাঘাইকান্দী এলাকার বাসিন্দা।
স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার বিকেলে বাঘাইকান্দী এলাকার কাইয়ুম (২১) ও মুন্না (২২) এর সাথে নৌকা যোগে ঘুরতে যায় দুই বান্দবী। নৌকা দিয়ে ঘুরা-ঘুরি শেষে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যায় হলে কৌশলে কাইয়ুম ও মুন্না নৌকা তীরে ভিড়ায় এবং তাদেরকে পূর্ব বাঘাইকান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে কাইয়ুম ও মুন্নাসহ আরো ছয় বন্ধুকে ডেকে এনে সকলে মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তারা নিজ বাড়ি ফিরে গেলে তাদের অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানতে চাইলে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত কাইয়ুম চরআড়ালিয়া এলাকার সেন্টু মিয়ার ছেলে এবং মুন্না একই এলাকার শাহ মিয়ার ছেলে এবং তাদের বন্ধুরা হচ্ছে একই এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে সাইফুল মিয়া, খলিল মিয়ার ছেলে রমজান মিয়া ও অজ্ঞাত আরো ৪ জন।
এব্যাপারে এক ধর্ষিতার পিতা বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েছি। চেয়ারম্যান বলেছেন বিচার করে দিবেন। আমরা বিচারের অপেক্ষায় আছি। থানা পুলিশী ঝামেলায় যেতে চাইনা। তাছাড়া মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করছি।
অন্য ধর্ষিতার পিতা জানান, রাতে বাড়ি ফিরে ঘটনা শুনেই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী। আমরা তাদের সংগে পারবো না। তাছাড়া মেয়েকে ভবিষ্যতে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি চিন্তা করে এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিয়েছি। চেয়ারম্যান যে বিচার করবে আমি তাই মেনে নিবো। আমি গরীব মানুষ, দিন আনি দিন খাই, থানা পুলিশ করার মত সমর্থ আমার নেই।
এব্যাপারে চরআড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদা জামান সরকার বলেন,ধর্ষিতার তারা আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। আমি ঘটনা শুনেছি। সকল বিষয় চিন্তা করে আমি তদন্তের জন্য লোক পাঠিয়েছি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে বিষয়টি নিয়ে এলাকার গন্যমান্যদের নিয়ে বিচারে বসবো।
ধর্ষণের ঘটনা গ্রাম্য আদালতে মিমাংসাও যোগ্য কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। এছাড়াও বিচারে বিলম্ব হলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যাবে, তখন বিচার কিভাবে করবেন এ প্রশ্নের জবাবেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিল মাহমুদ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত নই। তাছাড়া কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ফিরোজ জামান ও ফনিন্দ্রনাথের ৪৭ লাখ টাকার দূর্নীতি

নরসিংদী রায়পুরায় দুই শিক্ষার্থীকে দলবব্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

নরসিংদীর রায়পুরায় ষষ্ঠ শ্রেণীর দুই শিশু শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরআড়ালিয়া ইউনিয়নের বাঘাইকান্দী এলাকায় আট বন্ধু মিলে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। ধর্ষিতা দুই শিশু রায়পুরা উপজেলার বাঘাইকান্দী এলাকার বাসিন্দা।
স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার বিকেলে বাঘাইকান্দী এলাকার কাইয়ুম (২১) ও মুন্না (২২) এর সাথে নৌকা যোগে ঘুরতে যায় দুই বান্দবী। নৌকা দিয়ে ঘুরা-ঘুরি শেষে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যায় হলে কৌশলে কাইয়ুম ও মুন্না নৌকা তীরে ভিড়ায় এবং তাদেরকে পূর্ব বাঘাইকান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে কাইয়ুম ও মুন্নাসহ আরো ছয় বন্ধুকে ডেকে এনে সকলে মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তারা নিজ বাড়ি ফিরে গেলে তাদের অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানতে চাইলে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত কাইয়ুম চরআড়ালিয়া এলাকার সেন্টু মিয়ার ছেলে এবং মুন্না একই এলাকার শাহ মিয়ার ছেলে এবং তাদের বন্ধুরা হচ্ছে একই এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে সাইফুল মিয়া, খলিল মিয়ার ছেলে রমজান মিয়া ও অজ্ঞাত আরো ৪ জন।
এব্যাপারে এক ধর্ষিতার পিতা বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েছি। চেয়ারম্যান বলেছেন বিচার করে দিবেন। আমরা বিচারের অপেক্ষায় আছি। থানা পুলিশী ঝামেলায় যেতে চাইনা। তাছাড়া মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করছি।
অন্য ধর্ষিতার পিতা জানান, রাতে বাড়ি ফিরে ঘটনা শুনেই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী। আমরা তাদের সংগে পারবো না। তাছাড়া মেয়েকে ভবিষ্যতে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি চিন্তা করে এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিয়েছি। চেয়ারম্যান যে বিচার করবে আমি তাই মেনে নিবো। আমি গরীব মানুষ, দিন আনি দিন খাই, থানা পুলিশ করার মত সমর্থ আমার নেই।
এব্যাপারে চরআড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদা জামান সরকার বলেন,ধর্ষিতার তারা আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। আমি ঘটনা শুনেছি। সকল বিষয় চিন্তা করে আমি তদন্তের জন্য লোক পাঠিয়েছি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে বিষয়টি নিয়ে এলাকার গন্যমান্যদের নিয়ে বিচারে বসবো।
ধর্ষণের ঘটনা গ্রাম্য আদালতে মিমাংসাও যোগ্য কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। এছাড়াও বিচারে বিলম্ব হলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যাবে, তখন বিচার কিভাবে করবেন এ প্রশ্নের জবাবেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিল মাহমুদ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত নই। তাছাড়া কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।