উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর লাগাতার বৃষ্টিতে গর্জে উঠেছে তিস্তা। পাড় উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে, তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও পথঘাট। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। কিন্তু এই বন্যার সবচেয়ে নির্মম আঘাতটা লেগেছে এক অসহায় মায়ের বুকে।
‘চ্যানেল ওয়ান’-এর মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলতে গিয়ে নিজের বুকের কান্না আর চেপে রাখতে পারলেন না এক মা। বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠল তিস্তাপাড়ের বাতাস। তার ঘরে ফুটে থাকা মাত্র ৬ মাসের শিশুসন্তানের জন্য নেই একফোঁটা দুধ। চারপাশে থৈ থৈ পানি—যেদিকে চোখ যায় শুধু ধ্বংসের রূপ। জলজটে বন্দি হয়ে ঘরের বাইরে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, নেই কোনো উপার্জনের পথ। ৬ মাসের নিষ্পাপ শিশুটির ক্ষুধার্ত কান্না মিটানোর সামর্থ্য হারিয়ে মা আজ বুক চাপড়ে কাঁদছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এই করুণ দৃশ্য দেখে চোখে জল ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কাছে গিয়ে তাদের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী হওয়ার চেষ্টা করেছি, বাড়াতে চেয়েছি সহানুভূতির হাত। কিন্তু যে মা তার ক্ষুধার্ত সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে অঝোরে কাঁদছেন, সেই যন্ত্রণার গভীরতা কেবল তিনিই বোঝেন। সান্ত্বনার দু-একটি শব্দ সেই কষ্টের কাছে কতই না অসহায়!
তিস্তাপাড়ের এই ভাসমান জীবন কেবল এক রাতের গল্প নয়, এটি এক নিত্যদিনের লড়াই। বন্যা কেড়ে নেয় তাদের ঘর, রুজিরুটি আর ন্যূনতম বেঁচে থাকার আশ্রয়। আজ এক ফোঁটা দুধ আর একটু শুকনো খাবারের জন্য হাহাকার করা এই বানভাসি মা ও তার বাচ্চার কান্না আমাদের মানবিকতাকে বড় এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।
আল মিজান ইসলাম-নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি 




















