দেশের ইটভাটা শিল্পের টিকে থাকা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির স্বীকৃতির দাবিতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা ইট প্রস্তুতকারি মালিক সমিতির আয়োজনে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও মাননীয় উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বরাবর উক্ত স্মারকলিপিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত ৩৫-৪০ বছর ধরে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইটভাটা মালিকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সরকার নির্দেশিত আধুনিক জিগজাগ প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করেও মালিকগণ নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তারা দাবি করেন, বর্তমানে জিগজাগ ইটভাটাগুলো মাত্র ৫-১০% বায়ুদূষণ করছে, যা পূর্বে ছিল ৫৮% (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের জরিপ অনুযায়ী)। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বৈধ ইটভাটাগুলোতে জরিমানা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে, যা শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। আরও উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় ৫০ লক্ষ শ্রমিক এই খাতের সঙ্গে যুক্ত, যা সরাসরি প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইটভাটা বন্ধ হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে এবং ব্যাংকগুলো প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ আদায় করতে পারবে না।
মালিকগণ তাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন:
১। জিগজাগ ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের জন্য বর্তমান আইনের দুরত্ব সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করতে হবে।
২। জিগজাগ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট বা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৩। সরকার যদি ইটভাটা বন্ধ করতে চায়, তবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪। মাটি কাটার জন্য ডিসির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বিধান বাতিল করতে হবে।
৫। লাইসেন্স ও অনুমোদন পেতে কেন্দ্রীয় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬। ইটভাটাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
৭। দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক প্রধান জানান, যদি দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা না হয়, তবে আগামী ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবারও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এছাড়া ঈদের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইটভাটা মালিকরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন অবিলম্বে বৈধভাবে পরিচালিত জিগজাগ ইটভাটার সমস্যাগুলো সমাধান করা হয় এবং তাদের শিল্প রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ 






















