চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের ভৌত পরিকল্পনা: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনার। উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দেবাশীষ রায় রাজা। আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন ড. আক্তার মাহমুদ, অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড. ইসরাত জাহান, সহকারী অধ্যাপক, চুয়েট।
সেমিনারের কী-নোট স্পিকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (নগর ব্যবস্থাপনা) প্রকৌশলী-পরিকল্পনাবিদ মোঃ নূরুল্লাহ। তিনি তার আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ায় মানুষের মনে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের বিষয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে বলে ঘোষণা দেওয়ায় দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবহেলিত স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামোর আওতায় ভৌত পরিকল্পনা কার্যক্রমের বিষয়ে রূপরেখা প্রদান করেন।-
বাংলাদেশে জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন না করে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে মন্ত্রণালয়সমূহের বিভিন্ন সংস্থা আলাদা আলাদাভাবে প্রকল্প প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে থাকে। পরিকল্পনার ভাষায় একে কম্পারমেন্টালাইজেশন অব প্ল্যানিং বলা হয়। এই পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে দেশের কৌশলগত পরিকল্পনার ভিশন ও উদ্দেশ্য পূরণ বাঁধাগ্রস্ত হয়। জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা দলিলটি দেশের বিভিন্ন সেক্টরের অবকাঠামোসমূহকে পরিকল্পিতভাবে নির্মাণের জন্য সেক্টরাল নীতিমালার সমন্বয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা। এটি সকল মন্ত্রণালয়ের সেক্টরাল পলিসি ও প্ল্যান অনুসরণে সেক্টরসমূহের ভৌত উপাদানসমূহের সঠিক ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য অঞ্চলের কাঠামো পরিকল্পনা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য একটি পলিসি ডকুমেন্ট।
স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামো: স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামোর বিবেচ্য বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অবকাঠামো। ভৌত পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নকারী দেশের অভিজ্ঞতা অনুসারে বাংলাদেশে স্থানিক পরিকল্পনার কাঠামোতে প্রধানত তিনটি উপাদান থাকতে পারে: ১। আইনি কাঠামো (Legal Framework) ২। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো (Institutional Framework) ৩। বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাঠামো (Implementing Agencies)।
আইনি কাঠামো: ১। নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা আইন (Town and County Planning Act) ২। জাতীয় নগরায়ণ নীতিমালা (National Urbanization Policy) ৩। জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা (National Physical Plan) ৪। আঞ্চলিক কাঠামো পরিকল্পনা (Regional Structure Plan) ৫। স্থানীয় পরিকল্পনা (Local Plan)
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: ১। নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা অধিদপ্তর (Town and County Planning Department)
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: ১। দেশে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ (All Local Government Institutions)
বাংলাদেশে ১ম ও ২য় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৭৩-৮৬) ভৌত পরিকল্পনার বিষয়ে উপরে বর্ণিত সকল কৌশলের কথা বলা হয়েছিল এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপর ভৌত পরিকল্পনা বিষয়ক যাবতীয় কাজ শুরু করার দায়িত্ব থাকলেও স্বাধীনতার পর ৫২ বছর পার হলেও অদ্যাবধি তা শুরু করা হয়নি। দেশে যাবতীয় অপরিকল্পিত উন্নয়নের মূল কারণ হল ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অভাব।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। প্রধান উপদেষ্টার অফিসে ভৌত পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে একটি ভৌত পরিকল্পনা বিষয়ক সেল ও কমিশন গঠন করার সুপারিশ করছি। এই কমিশনের মাধ্যমে দেশের চলমান ভৌত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আইন, নীতিমালা, ভৌত পরিকল্পনা কাউন্সিল ও ভৌত পরিকল্পনা অধিদপ্তর স্থাপন করে দেশে ভৌত পরিকল্পনার কার্যক্রম শুরু করার যথাযথ প্রক্রিয়া গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
হাসান মাহমুদ (স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ারস) 
























