পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দাওয়াহ ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। চলতি বছর মিশরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১২ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন অনার্স ও ১ জন মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য সুযোগ পেয়েছেন। মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য সুযোগ পাওয়া সেই একজন হলেন আরিফ। সেখানে তিনি ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
আরিফের জন্ম কুমিল্লা জেলায়, সেখানেই বেড়ে ওঠা। শিক্ষাজীবনে তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বারে অবস্থিত সুলতানপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং আলিম পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরে ২০১৮-১৯ সেশনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন এবং বর্তমানে মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত আছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় ডিপ্লোমা করেছেন।
জানা যায়, আরিফ তার স্নাতকে CGPA ৪-এর মধ্যে ৩.৮৯ পেয়ে তার বিভাগ এবং ফ্যাকাল্টিতে প্রথম হয়েছেন। এজন্য তার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ইউজিসি কর্তৃক গোল্ড মেডেল পাওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা আর পাওয়া হয়নি।
আরিফের বিষয়ে সহপাঠী মো. রেজাউল করিম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, আমাদের সমাজে কিছু মানুষ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনই একজন আমার বন্ধু আরিফ। তিনি সদ্য জামে আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। রেজাল্টে তিনি আমাদের ডিপার্টমেন্টের ফার্স্ট। মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি সৎ, বিনয়ী ও পরোপকারী। মানবতার সেবায় নিজেকে নিবেদন করেন এবং নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তার ব্যবহার ও নৈতিক মূল্যবোধ সবাইকে মুগ্ধ করে। কঠোর পরিশ্রম ও সততার কারণে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আমাদের গর্বিত করে। আমরা আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তার জন্য শুভকামনা রইল।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও জবি প্রক্টর ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, “আরিফ একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও জুনিয়র গবেষক। শিক্ষা কার্যক্রমে সে নিয়মিত এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করে নিজেকে বিকশিত করছে। সম্প্রতি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য স্কলারশিপ পেয়েছে জেনে আমি আনন্দিত। আশা করি, তার মেধা দেশ ও জাতি গঠনে কাজে আসবে।
আরিফুল ইসলাম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র আমি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার জন্য সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি চাই একজন ভালো একাডেমিশিয়ান হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করতে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে আরিফ বলেন, আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। শিবির আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, সহায়তা করেছে। আমি সেজন্য ইসলামি ছাত্রশিবিরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ। আগামীর দিনে রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকবো কি না জানি না, তবে জনসেবামূলক কাজ চালিয়ে যাব।
উল্লেখ্য, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মিশরের কায়রো শহরে অবস্থিত একটি বিখ্যাত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি মিশরের সবচেয়ে পুরনো ডিগ্রি প্রদানকারী এবং ইসলামী জ্ঞানার্জনে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামী শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি কেন্দ্র হিসেবে ফাতেমীয় বংশ দ্বারা ৯৭০ বা ৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কুরআন এবং বিস্তারিতভাবে ইসলামী আইন শিক্ষা গ্রহণ করে। এছাড়াও সাধারণ বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ আধুনিক শাস্ত্র উল্লেখযোগ্য।
মিজানুর রহমান বিজু, জবি প্রতিনিধি 
























