ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে লুটপাটের জন্য আরো সাড়ে ৬ কোটি টাকা নিলেন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী পবিত্র

গণপূর্তের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য উইংয়ের মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ ও যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করেই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসকে অতিরিক্ত সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছরের ২২টি কার্যাদেশে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের মধ্যেই অপ্রয়োজনীয় এ খাতে বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উৎকোচ নিয়ে এ বরাদ্দ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম বিভাগ-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে গতবছর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা ধরনের সংস্কারের জন্য মোট ২২টি কার্যাদেশের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছি। যেখানে অভিযোগ ছিল, ২১টি কার্যাদেশের বিপরীতে কোনো কাজ না করেই ঠিকাদাররা তাদের পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে এমন অভিযোগ করেছিলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান। যে অভিযোগের এখনও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে মোট ২২টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুসারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করবে। তবে এক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬-এর আওতাধীন এই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নিয়ে ভাগাভাগি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাস এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান রনি এই ঘটনার নেপথ্য নায়ক বলে জানাগেছে। তারা ২২ কাজে বরাদ্দ থাকা প্রায় ১০ কোটি টাকা ভুয়া বিল ভাউচারে আত্মসাত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২২টি সংস্কার কাজের জন্য আলাদা আলাদা কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবগুলো কাজ সমাপ্ত হওয়ার প্রত্যয়নপত্র চেয়ে কাগজপত্র দাখিল করে। তবে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে কাজের প্রকৃত চিত্র উঠে আসায় প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। এর পরও ওইসব কাজের বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদাররা।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া মুগদা হাসপাতালের পরিচালকের চিঠিতে বলা হয়, ‘২০২২-২৩ অর্থবছরে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ কর্তৃক নির্মাণ/সংস্কার কাজের বিপরীতে ২২টি কাজের প্রত্যয়নপত্রের জন্য কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। ওই ২২টি কাজের মধ্যে ২১টির দাখিলকৃত কার্যাদেশ অনুযায়ী কোনো কাজই সম্পাদন করা হয়নি। গণপূর্ত ই/এম বিভাগকে বারংবার বলার পরও তারা নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করছে না।’ মুগদা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ছয় সদস্যের কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদনে কাজ না করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

জানা যায়, মুগদা হাসপাতালের ওই কাজগুলো ছিল বিভিন্ন অকেজো সরঞ্জাম মেরামত এবং সংস্কার। মেরামত কাজের মধ্যে ছিল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নিরাপত্তার জন্য অকেজো/নষ্ট সিকিউরিটি লাইট, গার্ডেন লাইট, ভবনের চতুর্থতলায় অবস্থিত ফ্লাডলাইট মেরামত বা পরিবর্তনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ। এ ছাড়া হাসপাতালের পাম্প মটরের অকেজো নষ্ট যন্ত্রাংশ মেরামত বা পরিবর্তনসহ আনুষঙ্গিক কাজও এর আওতাধীন ছিল। আরেকটি কাজ ছিল হাসপাতালের রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালে স্থাপিত ২০০ কেভিএ একটি, ২২৫ কেভিএ দুটি এবং ২৫০ কেভিএ একটি অকেজো বা নষ্ট ডিজেল জেনারেটর সেট মেরামত কিংবা সার্ভিসিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ।

এ ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন কার্যাদেশে কনফারেন্স রুমে অকেজো বা নষ্ট বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ফিটিংস ফিকচার মেরামত কিংবা পরিবর্তন; হাসপাতালের পঞ্চমতলার পশ্চিম পাশে স্থাপিত ওয়ার্ডগুলোর অকেজো বা নষ্ট বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ফিটিংস ফিকচার মেরামত কিংবা পরিবর্তন; মেডিকেল কলেজের নবমতলার পূর্ব পাশে স্থাপিত ওয়ার্ডগুলোর অকেজো বা নষ্ট বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ফিটিংস ফিকচার মেরামত কিংবা পরিবর্তন; নিয়ন সাইন বোর্ডে অকেজো বা নষ্ট লাইট পাওয়ার সাপ্লাই মেরামত এবং ৫০০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি জেনারেটর সেটের মেরামত কিংবা সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজ। তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশে এসব কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উত্থাপিত অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই চলতি অর্থবছরে আরো সাড়ে কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যেসব খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেসব খাতে বরাদ্দের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য উইং থেকে কোনো চাহিদাপত্র দেয়া হয়নি। পবিত্র কুমার দাস স্বাস্থ্য উইংকে বাইপাস করে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (স্বাস্থ্য উইং) খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা জানিও না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ খাতে বরাদ্দ প্রদান করছে। কিভাবে কার মাধ্যমে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাও আমরা জানিনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ খাতে বরাদ্দের কাজের বিষয়ে আমাকে তদারকি করতে বললেও আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সে অনেক হাই চ্যানেল মেনটেইন করেন। হয়তো মন্ত্রী-সচিবকে দিয়ে বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পবিত্র কুমার দাশ বলেন, ফান্ডের বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত চাহিদা আমি ঠিকাদারদের দিয়েছিলাম। পলাশ নামের এক ঠিকাদার কাজগুলো নিয়ে এসেছে। গণপূর্তের স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সম্পর্কে তিনি বলেন, সে একটি অথর্ব লোক। হাসপাতালের জরুরি কাজের কোনো বরাদ্দ করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই আমাদের ঠিকাদারদের সাহায্য নিতে হয়। হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ আনা কোনো পাপ নয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে লুটপাটের জন্য আরো সাড়ে ৬ কোটি টাকা নিলেন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী পবিত্র

আপডেট সময় ০৩:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

গণপূর্তের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য উইংয়ের মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ ও যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করেই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসকে অতিরিক্ত সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছরের ২২টি কার্যাদেশে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের মধ্যেই অপ্রয়োজনীয় এ খাতে বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উৎকোচ নিয়ে এ বরাদ্দ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম বিভাগ-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে গতবছর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা ধরনের সংস্কারের জন্য মোট ২২টি কার্যাদেশের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছি। যেখানে অভিযোগ ছিল, ২১টি কার্যাদেশের বিপরীতে কোনো কাজ না করেই ঠিকাদাররা তাদের পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে এমন অভিযোগ করেছিলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান। যে অভিযোগের এখনও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে মোট ২২টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুসারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করবে। তবে এক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬-এর আওতাধীন এই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নিয়ে ভাগাভাগি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী পবিত্র কুমার দাস এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান রনি এই ঘটনার নেপথ্য নায়ক বলে জানাগেছে। তারা ২২ কাজে বরাদ্দ থাকা প্রায় ১০ কোটি টাকা ভুয়া বিল ভাউচারে আত্মসাত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২২টি সংস্কার কাজের জন্য আলাদা আলাদা কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবগুলো কাজ সমাপ্ত হওয়ার প্রত্যয়নপত্র চেয়ে কাগজপত্র দাখিল করে। তবে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে কাজের প্রকৃত চিত্র উঠে আসায় প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। এর পরও ওইসব কাজের বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদাররা।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া মুগদা হাসপাতালের পরিচালকের চিঠিতে বলা হয়, ‘২০২২-২৩ অর্থবছরে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ কর্তৃক নির্মাণ/সংস্কার কাজের বিপরীতে ২২টি কাজের প্রত্যয়নপত্রের জন্য কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। ওই ২২টি কাজের মধ্যে ২১টির দাখিলকৃত কার্যাদেশ অনুযায়ী কোনো কাজই সম্পাদন করা হয়নি। গণপূর্ত ই/এম বিভাগকে বারংবার বলার পরও তারা নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করছে না।’ মুগদা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ছয় সদস্যের কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদনে কাজ না করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

জানা যায়, মুগদা হাসপাতালের ওই কাজগুলো ছিল বিভিন্ন অকেজো সরঞ্জাম মেরামত এবং সংস্কার। মেরামত কাজের মধ্যে ছিল হাসপাতাল কম্পাউন্ডে নিরাপত্তার জন্য অকেজো/নষ্ট সিকিউরিটি লাইট, গার্ডেন লাইট, ভবনের চতুর্থতলায় অবস্থিত ফ্লাডলাইট মেরামত বা পরিবর্তনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ। এ ছাড়া হাসপাতালের পাম্প মটরের অকেজো নষ্ট যন্ত্রাংশ মেরামত বা পরিবর্তনসহ আনুষঙ্গিক কাজও এর আওতাধীন ছিল। আরেকটি কাজ ছিল হাসপাতালের রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালে স্থাপিত ২০০ কেভিএ একটি, ২২৫ কেভিএ দুটি এবং ২৫০ কেভিএ একটি অকেজো বা নষ্ট ডিজেল জেনারেটর সেট মেরামত কিংবা সার্ভিসিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ।

এ ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন কার্যাদেশে কনফারেন্স রুমে অকেজো বা নষ্ট বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ফিটিংস ফিকচার মেরামত কিংবা পরিবর্তন; হাসপাতালের পঞ্চমতলার পশ্চিম পাশে স্থাপিত ওয়ার্ডগুলোর অকেজো বা নষ্ট বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ফিটিংস ফিকচার মেরামত কিংবা পরিবর্তন; মেডিকেল কলেজের নবমতলার পূর্ব পাশে স্থাপিত ওয়ার্ডগুলোর অকেজো বা নষ্ট বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ফিটিংস ফিকচার মেরামত কিংবা পরিবর্তন; নিয়ন সাইন বোর্ডে অকেজো বা নষ্ট লাইট পাওয়ার সাপ্লাই মেরামত এবং ৫০০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি জেনারেটর সেটের মেরামত কিংবা সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজ। তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশে এসব কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উত্থাপিত অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই চলতি অর্থবছরে আরো সাড়ে কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যেসব খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেসব খাতে বরাদ্দের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য উইং থেকে কোনো চাহিদাপত্র দেয়া হয়নি। পবিত্র কুমার দাস স্বাস্থ্য উইংকে বাইপাস করে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (স্বাস্থ্য উইং) খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা জানিও না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ খাতে বরাদ্দ প্রদান করছে। কিভাবে কার মাধ্যমে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাও আমরা জানিনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ খাতে বরাদ্দের কাজের বিষয়ে আমাকে তদারকি করতে বললেও আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। পবিত্র কুমার দাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সে অনেক হাই চ্যানেল মেনটেইন করেন। হয়তো মন্ত্রী-সচিবকে দিয়ে বরাদ্দ করিয়ে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পবিত্র কুমার দাশ বলেন, ফান্ডের বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত চাহিদা আমি ঠিকাদারদের দিয়েছিলাম। পলাশ নামের এক ঠিকাদার কাজগুলো নিয়ে এসেছে। গণপূর্তের স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সম্পর্কে তিনি বলেন, সে একটি অথর্ব লোক। হাসপাতালের জরুরি কাজের কোনো বরাদ্দ করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই আমাদের ঠিকাদারদের সাহায্য নিতে হয়। হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ আনা কোনো পাপ নয়।