ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

তিন ফসলি জমিতে ড্রেজার দিয়ে পুকুর খনন, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তিন ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের জমি হুমকির মুখে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী জমি মালিকরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পাশের জমির মালিক জালাল সিকদার।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী কৃষক জালাল সিকদার বলেন, ‘গোপালপুর মৌজার বিএস ৫১৪ নম্বর দাগে একই গ্রামের ইউনুস আলী সরদারের ৩০ শতাংশ তিন ফসলি জমি রয়েছে। ওই দাগে আমারও চার শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া পাশের দাগে আমার আরও ৩৪ শতাংশ জমিতে বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ইউনুস আলী সরদার তার জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন শুরু করে। আমরা আশপাশের জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং হুমকি দেয়। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার বাড়িঘর সব ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। যে কারণে পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

পাশের জমির আরেক মালিক কৃষক মুক্তার সরদার বলেন, ‘যেখানে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে, তার পাশের দাগেই আমার পাঁচ বিঘা তিন ফসলি জমি রয়েছে। এই জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করি। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার জমি ভেঙে যাবে। আমি পুকুর খনন বন্ধের দাবি জানাই।’

সুজন মাহমুদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ইউনুস আলীর জমির ঠিক পাশেই আমার বাঁশঝাড় রয়েছে। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার বাঁশঝাড় পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। ইউনুসের এক ভাই পুলিশে ও এক ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। ভাইদের দাপটে সে কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে পুকুর খনন করছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এখানে পুকুর খনন বন্ধ করা হোক।’

এ বিষয়ে ইউনুস আলী সরদার বলেন, ‘আমি এখানে কোনো পুকুর খনন করছি না। আমি একটি বাড়ি নির্মাণ করছি। বাড়ির জন্য কিছু মাটির প্রয়োজন। তাই নিজের জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বাড়ি নির্মাণের কাজে লাগাচ্ছি।’

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম বলেন, ‘তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে পুকুর খনন করার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

তিন ফসলি জমিতে ড্রেজার দিয়ে পুকুর খনন, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

আপডেট সময় ১১:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তিন ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের জমি হুমকির মুখে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী জমি মালিকরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পাশের জমির মালিক জালাল সিকদার।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী কৃষক জালাল সিকদার বলেন, ‘গোপালপুর মৌজার বিএস ৫১৪ নম্বর দাগে একই গ্রামের ইউনুস আলী সরদারের ৩০ শতাংশ তিন ফসলি জমি রয়েছে। ওই দাগে আমারও চার শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া পাশের দাগে আমার আরও ৩৪ শতাংশ জমিতে বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ইউনুস আলী সরদার তার জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন শুরু করে। আমরা আশপাশের জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং হুমকি দেয়। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার বাড়িঘর সব ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। যে কারণে পুকুর খনন বন্ধের দাবিতে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

পাশের জমির আরেক মালিক কৃষক মুক্তার সরদার বলেন, ‘যেখানে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে, তার পাশের দাগেই আমার পাঁচ বিঘা তিন ফসলি জমি রয়েছে। এই জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করি। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার জমি ভেঙে যাবে। আমি পুকুর খনন বন্ধের দাবি জানাই।’

সুজন মাহমুদ নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ইউনুস আলীর জমির ঠিক পাশেই আমার বাঁশঝাড় রয়েছে। এখানে পুকুর খনন করা হলে আমার বাঁশঝাড় পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। ইউনুসের এক ভাই পুলিশে ও এক ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। ভাইদের দাপটে সে কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে পুকুর খনন করছে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এখানে পুকুর খনন বন্ধ করা হোক।’

এ বিষয়ে ইউনুস আলী সরদার বলেন, ‘আমি এখানে কোনো পুকুর খনন করছি না। আমি একটি বাড়ি নির্মাণ করছি। বাড়ির জন্য কিছু মাটির প্রয়োজন। তাই নিজের জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বাড়ি নির্মাণের কাজে লাগাচ্ছি।’

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম বলেন, ‘তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে পুকুর খনন করার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’