স্বর্ণচোরাচালান ও হুন্ডি এই দুই ব্যবসা একটি অন্যটির সাথে দারুণভাবে সম্পৃক্ত। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে, আর তাদের প্রতিনিধিরা প্রবাসীদের পরিবারের কাছে পৌছে দিতে যে টাকা ব্যবহার করা হয় তার পুরোটাই কালোটাকা বলে স্বীকৃত। প্রবাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকাগুলো রেমিট্যান্স হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও এই টাকার বিরাট একটা অংশ দিয়ে কেনা হয় স্বর্ণ। এভাবেই সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিশাল অংকের রেমিট্যান্স আয় থেকে।
চট্টগ্রাম শহরে কমপক্ষে ১০টি হুন্ডি সিন্ডিকেট রয়েছে। এদের সাথে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের আঁতাত। আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ও মুদ্রা চোরাচালান চক্রের এজেন্ট হিসেবে এখানে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট এ হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সবচেয়ে নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার, খাতুনগঞ্জ, তামাকুমন্ডি লেইন ও চকবাজারে বসে অন্য ব্যবসার আড়ালে চলছে এই হুন্ডি ব্যবসা।
প্রশাসনের তালিকায় বেশকিছু হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালান কারবারির নাম থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চক্রের সদস্যরা হলো আবু, আজম ওরফে হুন্ডি আজম, মাহাবুব আলমগীর, হালিম, ভাগিনা আমান, ইব্রাহিম, জাহিদ, শহীদউল্লাহ, নেজাম,জসিম, আজগর, রহিম, ওসমান, আজম, ফয়েজ, জাফর, রহিম, রনি, ইমরান, ইব্রাহিম, মুক্তার, সাত্তার, পংকজ, শাহজাহান, বিধান, মৃদুল, শচীন, আতিক, আসিফ ও মামুন। চক্রটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০টি উপ-সিন্ডিকেট। আর এ কাজে জড়িত ৪০ জনের একটি বাহক টিম।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের প্রসঙ্গে বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার জয়নাল আবেদিন বলেন, স্বর্ণ পাচার নিয়ে আমরা যথেষ্ট সতর্ক আছি। আমাদের নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর কারণেই বড় চালানগুলো আমরা ধরতে সক্ষম হচ্ছি। তবে অনেক চালান হাত ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত কাজ করছি আমরা।
২০১৯ সালের ৩ মার্চ নগরের সিআরবি এলাকায় একটি প্রাইভেট কার থেকে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ১শ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জে আরেকটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৬শ’ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ। দুই ঘটনায় জড়িতরা রিমান্ডে এসব স্বর্ণ রিয়াজউদ্দীন বাজার থেকে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল বলে স্বীকারও করে। যার অর্থ হাতবদল হয়ে থাকে হুন্ডির মাধ্যমে। এরআগে ২০১৫ সালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রুবি গেইট থেকে ১২০ পিছ স্বর্ণের বার, একটি প্রাইভেট কারসহ আটক হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূলহোতা আলমগীর। হিলভিউ আবাসিকের আলমগীরের বাসা থেকেই ৬ কোটি টাকার ১২ কেজি ওজনের এই স্বর্ণগুলো পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে, অজ্ঞাত কারণে সেই মামলাতেও বাদ পড়ে যায় আলমগীরের নাম।
সুত্রে জানা যায়, আলমগীর তার দুই ভাগিনা আমানউল্লাহ ও শহীদুল্লাহ সহ দীর্ঘদিন ধরেই পরিচালনা করে আসছে হুন্ডি কারবার। তাদের ব্যবসায়িক আলাপচারিতার বেশকিছু কথোপকথনের রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে আসে।
এ ব্যাপারে জানতে আমানউল্লাহকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
সংবাদ শিরোনাম ::
হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের ১০ সিন্ডিকেট: বাহকরা ধরা পড়লেও, নিয়ন্ত্রণকারীরা অধরা!
-
নিজশ্ব প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০২:১৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- ৭১১ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























