ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

রংপুরের মাহিগঞ্জে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা হুমকির মুখে প্রকৃতিক পরিবেশ জীব ও বৈচিত্র।

রংপুরে মাহিগঞ্জের নাছনিয়া বিল সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ডাম্পিং এলাকায় পুরাতন ব্যাটারী আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরী করছে। হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ জীব ও বৈচিত্র। কারখানার দুষিত এসিডের কালো ধোঁয়ায় এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২৫ থেকে ৩৫ বছরের ১০/১৫ জন শ্রমিক কেউ ব্যাটারি থেকে প্লেট বের করছে, কেউ রাতে আগুন জ্বালিয়ে সিসা তৈরি করার জন্য চুলার পাশে প্লেট সাজাচ্ছে। এই কারখানার মালিক গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ময়মাগঞ্জ এলাকার মোঃ মশিউর রহমান ও তারেক রহমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান প্রতিদিন রাত ০৯:০০ হইতে ভোর ০৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত এরা ব্যাটারীর প্লেট আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরী করে।
যখন পুরাতন ব্যাটারীর প্লেট কয়লার আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরী করে তখন এই কারখানা দুষিত ধোঁয়া ও বিশ্রি গন্ধে আশেপাশের গ্রামের লোকজনের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
তাঁরা আরও জানান রাতে যখন ব্যাটারীর প্লেট আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরীর কাজ করা হয়, তখন কারখানার আশেপাশের দুই তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গন্ধ ছড়ায়।
এই এসিডের ধোঁয়া আশেপাশের গ্রামে বাড়ির ভিতরে ঢোকে ও বসবাসকারী লোকজনের চোখ মুখ প্রচুর জ্বালা করে নিশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়।
বিশেষ করে বৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশুরা এই কারখানার ধোঁয়ার কারণে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এই কারখানাটির দুষিত ধোঁয়া ও এসিড পানির জন্য আশেপাশের মাঠের বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এলাকাবাসী আরও জানান এই কারখানার আশপাশের জমি ও মাঠের ঘাস কেটে গবাদিপশুকেও খাওয়াতে পারছেনা পশুর মৃত্যুর ভয়ে। তারা শুনেছে ২০২৩ সালে তারাগঞ্জ উপজেলার চিকলী খিয়ার জুম্মা গ্রামের একটি পুরাতন ব্যাটারী কারখানা হয়েছিল সেই কারখানার পাশে মাঠের জমির ঘাস খাওয়ায় ১২ টি গরু মারা যায়। স্থানীয় প্রশাসন কারখানাটি উচ্ছেদ করে।
এই কারখানাটি কিছু নেতার ছত্রছায়ায় চলার কারনে বিভিন্ন মামলা হামলার ভয়ে কেউ মুখ খুলে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। কারখানার শ্রমিকদের গণমাধ্যম কর্মীরা জিগ্যেস করলে আপনারা এই কারখানায় কাজ করেন কিভাবে এর তো প্রচুর গন্ধ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের কিছু বলেনা? শ্রমিকরা বলেন এতে আমাদের শরীরের প্রচুর ক্ষতি হয় কি আর করার, থানা পুলিশ তেমন কিছু বলেনা কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বা এসিল্যান্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে কেউ জানালে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়। কারখানার মালিক গাইবান্ধা জেলার মোঃমশিউর রহমান ও তারেক রহমান এর নিকট এই কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমাদের কোনো কাগজপত্র নেই সবাইকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাতে হয়। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এই পুরাতন ব্যাটারী আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরির কারখানাটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসক রংপুর, জেলা পুলিশ সুপার রংপুর, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর ও রংপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

রংপুরের মাহিগঞ্জে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা হুমকির মুখে প্রকৃতিক পরিবেশ জীব ও বৈচিত্র।

আপডেট সময় ১২:১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রংপুরে মাহিগঞ্জের নাছনিয়া বিল সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ডাম্পিং এলাকায় পুরাতন ব্যাটারী আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরী করছে। হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ জীব ও বৈচিত্র। কারখানার দুষিত এসিডের কালো ধোঁয়ায় এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২৫ থেকে ৩৫ বছরের ১০/১৫ জন শ্রমিক কেউ ব্যাটারি থেকে প্লেট বের করছে, কেউ রাতে আগুন জ্বালিয়ে সিসা তৈরি করার জন্য চুলার পাশে প্লেট সাজাচ্ছে। এই কারখানার মালিক গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ময়মাগঞ্জ এলাকার মোঃ মশিউর রহমান ও তারেক রহমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান প্রতিদিন রাত ০৯:০০ হইতে ভোর ০৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত এরা ব্যাটারীর প্লেট আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরী করে।
যখন পুরাতন ব্যাটারীর প্লেট কয়লার আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরী করে তখন এই কারখানা দুষিত ধোঁয়া ও বিশ্রি গন্ধে আশেপাশের গ্রামের লোকজনের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
তাঁরা আরও জানান রাতে যখন ব্যাটারীর প্লেট আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরীর কাজ করা হয়, তখন কারখানার আশেপাশের দুই তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গন্ধ ছড়ায়।
এই এসিডের ধোঁয়া আশেপাশের গ্রামে বাড়ির ভিতরে ঢোকে ও বসবাসকারী লোকজনের চোখ মুখ প্রচুর জ্বালা করে নিশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়।
বিশেষ করে বৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশুরা এই কারখানার ধোঁয়ার কারণে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এই কারখানাটির দুষিত ধোঁয়া ও এসিড পানির জন্য আশেপাশের মাঠের বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এলাকাবাসী আরও জানান এই কারখানার আশপাশের জমি ও মাঠের ঘাস কেটে গবাদিপশুকেও খাওয়াতে পারছেনা পশুর মৃত্যুর ভয়ে। তারা শুনেছে ২০২৩ সালে তারাগঞ্জ উপজেলার চিকলী খিয়ার জুম্মা গ্রামের একটি পুরাতন ব্যাটারী কারখানা হয়েছিল সেই কারখানার পাশে মাঠের জমির ঘাস খাওয়ায় ১২ টি গরু মারা যায়। স্থানীয় প্রশাসন কারখানাটি উচ্ছেদ করে।
এই কারখানাটি কিছু নেতার ছত্রছায়ায় চলার কারনে বিভিন্ন মামলা হামলার ভয়ে কেউ মুখ খুলে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেনা। কারখানার শ্রমিকদের গণমাধ্যম কর্মীরা জিগ্যেস করলে আপনারা এই কারখানায় কাজ করেন কিভাবে এর তো প্রচুর গন্ধ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের কিছু বলেনা? শ্রমিকরা বলেন এতে আমাদের শরীরের প্রচুর ক্ষতি হয় কি আর করার, থানা পুলিশ তেমন কিছু বলেনা কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বা এসিল্যান্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে কেউ জানালে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়। কারখানার মালিক গাইবান্ধা জেলার মোঃমশিউর রহমান ও তারেক রহমান এর নিকট এই কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমাদের কোনো কাগজপত্র নেই সবাইকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাতে হয়। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এই পুরাতন ব্যাটারী আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরির কারখানাটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসক রংপুর, জেলা পুলিশ সুপার রংপুর, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর ও রংপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।