ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে ১৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া রূপালী লাইফে এখনও বহাল সিইও গোলাম কিবরিয়া! রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও সিইসির বৈঠক আজ আইসিটি আইনে সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পবিপ্রবির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার অভিবাসন ব্যয় কমা‌তে কাজ কর‌ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে: রেলমন্ত্রী জুলাই শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ‘১০০ হর্ন’ লাগানো বাইকারের মোটরসাইকেল জব্দ করল পুলিশ

১০ম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরন করা সেই স্কুুল শিক্ষক কে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে আটক করেছে র‌্যাব -৭।

অপহৃত ভিকটিম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রী। ভিকটিম স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উক্ত বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক তাকে প্রায় সময়ই আলাদা করে ডেকে নিয়ে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো। এছাড়াও ভিকটিম তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। ভিকটিম বিষয়টি পরিবারকে জানালে ভিকটিমকে তার পরিবার বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে গত ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ০৭০০ ঘটিকায় ভিকটিম ঘুম থেকে উঠে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার স্কুলের গণিত শিক্ষক ইকবাল হোসেন একটি সিএনজি থেকে আচমকা নেমে ভিকটিমকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি সিএনজি যোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। উক্ত সময়ে ভিকটিম চিৎকার করলে উক্ত চিৎকারের শব্দে তার মা বাড়ি থেকে বের হয়ে তার মেয়েকে গণিত শিক্ষক ইকবাল হোসেন একটি সিএনজি যোগে নিয়ে যেতে দেখে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা উক্ত স্কুল শিক্ষকের বাড়ি গিয়ে উল্লেখিত অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামি ইকবাল হোসেন এর মা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানায়।

উক্ত ঘটনায় অপহৃত ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ইং তারিখ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় স্কুল শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০২, তারিখ ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত-২০২০)। মামলা রুজু হওয়ার পর ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানা পুলিশ জানতে পারে মামলার আসামি স্কুল শিক্ষক ইকবাল হোসেন ভিকটিমকে নিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থান করছে।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের পিতা তার মেয়েকে দ্রæত উদ্ধার এবং অপহরণকারী’কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বর্ণিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামি’কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্ত অব্যহত রাখে। নজরদারী’র একপর্যায়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে উক্ত মামলার আসামি ইকবাল হোসেন চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানাধীন কাটঘর এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ইং তারিখ র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি ইকবাল হোসেন (৩২), পিতা- মৃত আরু মিয়া, সাং-নিবড়া, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাক্ষণবাড়িয়া’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান করে অসৎ উদ্দেশ্য কিশোরী ভিকটিমকে অপহরণ করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে ১৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১০ম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরন করা সেই স্কুুল শিক্ষক কে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে আটক করেছে র‌্যাব -৭।

আপডেট সময় ১০:০৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

অপহৃত ভিকটিম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রী। ভিকটিম স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উক্ত বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক তাকে প্রায় সময়ই আলাদা করে ডেকে নিয়ে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো। এছাড়াও ভিকটিম তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। ভিকটিম বিষয়টি পরিবারকে জানালে ভিকটিমকে তার পরিবার বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে গত ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ০৭০০ ঘটিকায় ভিকটিম ঘুম থেকে উঠে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার স্কুলের গণিত শিক্ষক ইকবাল হোসেন একটি সিএনজি থেকে আচমকা নেমে ভিকটিমকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একটি সিএনজি যোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। উক্ত সময়ে ভিকটিম চিৎকার করলে উক্ত চিৎকারের শব্দে তার মা বাড়ি থেকে বের হয়ে তার মেয়েকে গণিত শিক্ষক ইকবাল হোসেন একটি সিএনজি যোগে নিয়ে যেতে দেখে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা উক্ত স্কুল শিক্ষকের বাড়ি গিয়ে উল্লেখিত অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে আসামি ইকবাল হোসেন এর মা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানায়।

উক্ত ঘটনায় অপহৃত ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ইং তারিখ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় স্কুল শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০২, তারিখ ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত-২০২০)। মামলা রুজু হওয়ার পর ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানা পুলিশ জানতে পারে মামলার আসামি স্কুল শিক্ষক ইকবাল হোসেন ভিকটিমকে নিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থান করছে।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের পিতা তার মেয়েকে দ্রæত উদ্ধার এবং অপহরণকারী’কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বর্ণিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং আসামি’কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্ত অব্যহত রাখে। নজরদারী’র একপর্যায়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে উক্ত মামলার আসামি ইকবাল হোসেন চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানাধীন কাটঘর এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ইং তারিখ র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি ইকবাল হোসেন (৩২), পিতা- মৃত আরু মিয়া, সাং-নিবড়া, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাক্ষণবাড়িয়া’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান করে অসৎ উদ্দেশ্য কিশোরী ভিকটিমকে অপহরণ করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।