সারাদেশের ন্যায় পুকুর খাল খনন প্রকল্পের আওতায় ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছারামার,রাজাকাটা কান্দিপাড়া ও চানপুর গ্রামে গোছামারা খাল খনন প্রকল্পের নামে সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমি হইতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কিশোরগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন এর নির্দেশে মেসার্স মুমিনুল হক এন্ড হাসান কন্ট্রাকশন জেভি নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নবযোগদানকৃত শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোমেনুল হক সেলিম কে দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ এনে একটি খোলা চিটি লেখেন উক্ত গ্রামের ভোক্তভোগী ফসলী জমির মালিকগণ।
এই কাজে সহযোগিতা করছেন, প্রভাবশালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আব্দুল আজিজ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া। ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আল আমিন ও শিমুলকান্দির ঘোছামারা গ্রামের বিএনপি নেতা ফরিদ মিয়া ও মুতি মিয়া।
গোছারামার,রাজাকাটা কান্দিপাড়া ও চানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও পেশায় সাধারণ কৃষকরা বলেন, আমরা জানতে পারি গোছামারা খালটি খননের জন্য আপনার দপ্তর হইতে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা ভৈরব উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীর মাধ্যমে এও জানতে পারি যে, খালটির ৭০% মাটি ভিকু দিয়ে এবং ৩০% মাটি লেবার দিয়ে কাটার কথা। কিন্তু ঠিতাদারী প্রতিষ্ঠান তা না করে আমাদের ফসলি জমি হইতে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে করে আমরা সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এখন বর্ষাকাল খাল এবং জমি সবই এখন পানির নিচে,খাল এবং জমি চিন্নিত করা সম্ভব না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খাল খননের নামে আমাদের ফসলি (ধানের) জমি হইতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই অবস্থায় আমরা সাধারণ কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মখীন হচ্ছি। এ ব্যাপারে আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মোমেনুল হক সেলিম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর আমির হোসেন এর নির্দেশে আমরা ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন এবং বিক্রি করে আসছি।
খোলা চিঠিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উল্লেখ্য করে আরো বলেন, আমরা জানি আপনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন,আপনি একজন মমতাময়ী মা বটে। এমতাবস্থায় আপনার সন্তান হিসেবে আপনার নিকট আবেদন বর্ষা মৌশমে খালখনন না করে শুকনা মৌশমে নির্ধারী খালটি ভিকু এবং লেবারদিয়ে খনন করে আমাদের ফসলি জমির ক্ষতির হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে সবিনয় মর্জি হয়।
এব্যাপারে, শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আল আমিন বলেন, সরকারি নিয়মেই ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে, অনুমতি ছাড়া কাজ হচ্ছে না।
মেসার্স মুমিনুল হক এন্ড হাসান কন্ট্রাকশন জেভি নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নবযোগদানকৃত শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোমেনুল হক সেলিম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালি উত্তোলন করছি, যেখানে ভেকু দিয়ে করা যায় সেখান থেকে বেকু দিয়ে উত্তোলন করবো। আর যেখান থেকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালি উত্তোলন করা যায় সেখান থেকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালি উত্তোলন করবো। উভয়ের অনুমতি রয়েছে তার নিকট।
কিশোরগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর আমির হোসেন বলেন, এই বর্ষা মৌশুমেতো এখন খাল খনন করার কথা নয়, শুষ্ক মৌশুমে খাল খননের নির্দেশনা দেওয়া আছে। বর্ষা মৌশুমে খান খননের বিষয়টি তিনি অবগত নয়। উক্ত বিষয়টি তিনি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানান,এবিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
এই বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দুপুরে ঘটনাস্থলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মোঃ ছাবির উদ্দিন রাজু, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: 



















