ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পোলাপানের মুখে ভাত দিতেই কষ্ট, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করব কি দিয়ে

পোলাপানের মুখে তিন বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করে দিতেই কষ্ট, অনেক সময় তাদেরকে তিনবেলা দুমুঠো ভাতও দিতে পারি না। সেখানে আবার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করব কি দিয়ে? নদীতে গিয়েও তেমন মাছ পাওয়া যায় না। যাও পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালাতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তার উপরও আল্লার কি পাপ করেছিলাম জানিনা, আল্লাহ পাক চারটা সন্তান দিলেন তাও চারজনই প্রতিবন্ধী। অনেক টাকা ব্যয় করেছি ওদের চিকিৎসা করে।

ডাক্তার, কবিরাজ, খানকার, যখন যে যা বলেছে সামর্থ্য অনুযায়ী ওদের চিকিৎসা করিয়ে এই পর্যন্ত প্রায় লাখ তিন লাখ টাকা খরচ করেছি। আর ওদের চিকিৎসা করার মত আমাদের কোন সামর্থ্য নেই। এখন আমরা একেবারে নিঃস্ব বললেই চলে। তবে অনেকেই বলে ওরা যদি সঠিক চিকিৎসা পায় তাহলে ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। এখন আমার যেন মরার উপর খারার ঘা। যেখানে তিন বেলা সন্তানের মুখে ভাত জোটে না। সেখানে ওদের চিকিৎসার কথা তো চিন্তাই করতে পারিনা। এই পোলাপানের খাবার যোগাতে ওদের বাবা সারাদিন জাল নিয়ে নদীতে পড়ে থাকে। কোন কোনদিন বাড়িও আসে না। খারাপ আবহাওয়া হলেও জীবন বাজি নিয়ে নদীতে পড়ে থাকে।

এ অবস্থায় যদি সরকার থেকে ওদের চিকিৎসার জন্য কোনো আর্থিক অনুদান পেতাম, অথবা সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে যদি কোন সাহায্য পেতাম তাহলে সন্তানগুলোকে চিকিৎসা করাতাম। এমনি এক আবেগ জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাংতির খাল নামক গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী ইয়ানুর বেগম।

জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশায় আবুল কালাম ইয়ানুর দম্পতির তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে রীতিমত চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাদের জেলে পরিবারটি। সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে তাদের আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ২ নং পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাংতির খাল নামক গ্রামের আবুল কালাম-ইয়ানুর বেগম দম্পতির ঘরে এক-এক করে চার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

চার সন্তানের মধ্যে শাকিল (১৬), শরিফ (১৪), হাছান (৮) নামে এই তিন ছেলে ৮ বছর বয়স থেকে এক এক করে প্রতিবন্ধী হয়ে যান। আর রীতিমতো প্রতিবন্ধী ৩ সন্তান নিয়ে দিশেহারা জেলে পরিবারটি কাটাচ্ছে মানবতার জীবন দেখান যেন কেউ নেই।

আবুল কালাম-ইয়ানুর বেগম দম্পতি জানান, সুখেই চলছিলো তাদের সংসার ছেলেদের ৮ বছর বয়স হলেই এই অজানা রোগ দেখা দেয়। এক এক করে তিনটি ছেলেই এখন প্রতিবন্ধী।

তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক একটি জেলে কার্ড রয়েছে যার মাধ্যমে চাল পায় ও দুই ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। ছোট ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ডের বিষয়ে উপজেলা এক কর্মকর্তা এসেছে এবং কার্ড করে দেয়ার কথা বলে গেছে।

তারা আরও জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্বাচনের আগে বলেছেন নির্বাচনের পরে তাদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করবেন কিন্তু নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও গত রমজান ঈদে তাদের বাড়িতে গেছেন এবং ২০০ টাকা সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, জন্মের পর সুস্থ ভাবে চলাফেরা করলেও ৮ বছর বয়স হলেই এক অজানা রোগে একে এক তিন ছেলে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। পরিবারটি একেবারেই অক্ষম, খুব কষ্টে তাদের দিন যায়। আবু কালাম নদীতে জাল বাইয়া সংসার চালায়। শত কষ্ট করেও খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছে তারা। সরকার এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তাদের জন্য খুবই ভালো হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, প্রতিবন্ধীদের বাবা আবু কালামের নামে একটি জেলে কার্ড রয়েছে। তার তিন প্রতিবন্ধী ছেলের মধ্যে দুই ছেলে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে এবং ছোট ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড দ্রুত হওয়ার বিষয়ে আমি যোগাযোগ করেছি। তবে ওদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে আরও কিছু সুবিধা পেলে ছেলেগুলো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতো। তিনি আরো বলেন, ওদের চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে সহযোগিতা করবো।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পোলাপানের মুখে ভাত দিতেই কষ্ট, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করব কি দিয়ে

আপডেট সময় ০৩:৪০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩

পোলাপানের মুখে তিন বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করে দিতেই কষ্ট, অনেক সময় তাদেরকে তিনবেলা দুমুঠো ভাতও দিতে পারি না। সেখানে আবার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করব কি দিয়ে? নদীতে গিয়েও তেমন মাছ পাওয়া যায় না। যাও পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালাতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তার উপরও আল্লার কি পাপ করেছিলাম জানিনা, আল্লাহ পাক চারটা সন্তান দিলেন তাও চারজনই প্রতিবন্ধী। অনেক টাকা ব্যয় করেছি ওদের চিকিৎসা করে।

ডাক্তার, কবিরাজ, খানকার, যখন যে যা বলেছে সামর্থ্য অনুযায়ী ওদের চিকিৎসা করিয়ে এই পর্যন্ত প্রায় লাখ তিন লাখ টাকা খরচ করেছি। আর ওদের চিকিৎসা করার মত আমাদের কোন সামর্থ্য নেই। এখন আমরা একেবারে নিঃস্ব বললেই চলে। তবে অনেকেই বলে ওরা যদি সঠিক চিকিৎসা পায় তাহলে ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। এখন আমার যেন মরার উপর খারার ঘা। যেখানে তিন বেলা সন্তানের মুখে ভাত জোটে না। সেখানে ওদের চিকিৎসার কথা তো চিন্তাই করতে পারিনা। এই পোলাপানের খাবার যোগাতে ওদের বাবা সারাদিন জাল নিয়ে নদীতে পড়ে থাকে। কোন কোনদিন বাড়িও আসে না। খারাপ আবহাওয়া হলেও জীবন বাজি নিয়ে নদীতে পড়ে থাকে।

এ অবস্থায় যদি সরকার থেকে ওদের চিকিৎসার জন্য কোনো আর্থিক অনুদান পেতাম, অথবা সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে যদি কোন সাহায্য পেতাম তাহলে সন্তানগুলোকে চিকিৎসা করাতাম। এমনি এক আবেগ জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাংতির খাল নামক গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী ইয়ানুর বেগম।

জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশায় আবুল কালাম ইয়ানুর দম্পতির তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে রীতিমত চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাদের জেলে পরিবারটি। সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে তাদের আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ২ নং পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ভাংতির খাল নামক গ্রামের আবুল কালাম-ইয়ানুর বেগম দম্পতির ঘরে এক-এক করে চার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

চার সন্তানের মধ্যে শাকিল (১৬), শরিফ (১৪), হাছান (৮) নামে এই তিন ছেলে ৮ বছর বয়স থেকে এক এক করে প্রতিবন্ধী হয়ে যান। আর রীতিমতো প্রতিবন্ধী ৩ সন্তান নিয়ে দিশেহারা জেলে পরিবারটি কাটাচ্ছে মানবতার জীবন দেখান যেন কেউ নেই।

আবুল কালাম-ইয়ানুর বেগম দম্পতি জানান, সুখেই চলছিলো তাদের সংসার ছেলেদের ৮ বছর বয়স হলেই এই অজানা রোগ দেখা দেয়। এক এক করে তিনটি ছেলেই এখন প্রতিবন্ধী।

তারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক একটি জেলে কার্ড রয়েছে যার মাধ্যমে চাল পায় ও দুই ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। ছোট ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ডের বিষয়ে উপজেলা এক কর্মকর্তা এসেছে এবং কার্ড করে দেয়ার কথা বলে গেছে।

তারা আরও জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্বাচনের আগে বলেছেন নির্বাচনের পরে তাদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করবেন কিন্তু নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও গত রমজান ঈদে তাদের বাড়িতে গেছেন এবং ২০০ টাকা সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, জন্মের পর সুস্থ ভাবে চলাফেরা করলেও ৮ বছর বয়স হলেই এক অজানা রোগে একে এক তিন ছেলে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। পরিবারটি একেবারেই অক্ষম, খুব কষ্টে তাদের দিন যায়। আবু কালাম নদীতে জাল বাইয়া সংসার চালায়। শত কষ্ট করেও খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছে তারা। সরকার এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তাদের জন্য খুবই ভালো হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, প্রতিবন্ধীদের বাবা আবু কালামের নামে একটি জেলে কার্ড রয়েছে। তার তিন প্রতিবন্ধী ছেলের মধ্যে দুই ছেলে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে এবং ছোট ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড দ্রুত হওয়ার বিষয়ে আমি যোগাযোগ করেছি। তবে ওদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে আরও কিছু সুবিধা পেলে ছেলেগুলো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতো। তিনি আরো বলেন, ওদের চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে সহযোগিতা করবো।