ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধায় ৭ লাখ টাকার প্রকল্পে পুকুরচুরি: চার মাসেই নদীতে বিলীন জেলা পরিষদের কাঠের সেতু ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নিখোঁজ ভুট্টু ৭ দিনেও মেলেনি সন্ধান সৈয়দপুরে ভ্যান হারানো কিশোর রেজওয়ানকে নতুন ভ্যান উপহার দিল উপজেলা প্রশাসন ভিসা-টিকিট ঠিক থাকলেও বিমানের কাউন্টারে ‘টাকার খেলা’ মনোহরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন দেশ অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যার মধ্যে আট অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা মিরপুর বিআরটিএতে রাজস্ব কর্মকর্তা রুহুল আমিনের ‘দালাল সাম্রাজ্য’ হাতকড়িসহ পালিয়ে সরাসরি ফেসবুক লাইভে আসামি মিশরে বাস উল্টে ২২ জনের মৃত্যু

জুড়ীতে নিরব পোল্ট্রিফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী ছাড়পত্র না দেওয়ার দাবী

জুড়ী উপজেলার পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানের একটি অবৈধ লেয়ার মুরগির খামারের দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়েছেন। জনবহুল এলাকায় নোংরা পরিবেশে ‘নিরব পোল্ট্রি ফার্ম’ নামক এই মুরগির খামারকে জনস্বার্থে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রদান না করতে ভোক্তভোগী এলাকাবাসী বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

ভোক্তভোগী এলাকাবাসী লিখিত আবেদনে জানান, উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম ভবানীপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার ২০ ফুট দুরত্বে সামছু মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে ‘নিরব পোল্ট্রি ফার্ম’ নামে একটি লেয়ার মুরগির ফার্ম স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লেয়ার মুরগির ফার্ম চালিয়ে যাওয়ায় আশপাশের লোকজন এর দুর্গন্ধে মারাত্মক দুর্ভোগ পোয়ান। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুখবিসুখে আক্রান্ত হতে থাকে। এই পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় নাসির মিয়ার স্ত্রী হতু বেগম ও মইয়ব আলীর দুই শিশু সন্তান মারা গেছে। এখান থেকে পোল্ট্রি ফার্মটি অন্যত্র সরানোর অনুরোধ স্বত্তে¡ও এর মালিক আবুল কাশেম তাতে কর্নপাত করেননি। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী এই অবৈধ মুরগির ফার্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট ও মৌলভীবাজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শণ করে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে আবুল কাশেমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর কিছুদিন ফার্মের কাযক্রম বন্ধ রাখলেও বর্তমানে তিনি আগের মত মুরগির ফার্ম দেওয়ার পায়তারা করছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জের ধরে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

ভোক্তভোগীরা জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে আবুল কাশেমকে নিবন্ধন ও পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান না করতে জুড়ী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

জুড়ী উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর কর্মকর্তা রমা পদ দে বলেন, নিরব পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আরও একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুটি অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে ফা্র্মের নিবন্ধন দেওয়া বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ আইন লংঘন করে গণবসতিপূর্ণ এলাকায় লেয়ার মুরগির খামার স্থাপন করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধন করায় নিরব পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবুল কাশেমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও বন্ধ করা সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধায় ৭ লাখ টাকার প্রকল্পে পুকুরচুরি: চার মাসেই নদীতে বিলীন জেলা পরিষদের কাঠের সেতু

জুড়ীতে নিরব পোল্ট্রিফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী ছাড়পত্র না দেওয়ার দাবী

আপডেট সময় ০৭:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০২৩

জুড়ী উপজেলার পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানের একটি অবৈধ লেয়ার মুরগির খামারের দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়েছেন। জনবহুল এলাকায় নোংরা পরিবেশে ‘নিরব পোল্ট্রি ফার্ম’ নামক এই মুরগির খামারকে জনস্বার্থে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রদান না করতে ভোক্তভোগী এলাকাবাসী বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

ভোক্তভোগী এলাকাবাসী লিখিত আবেদনে জানান, উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম ভবানীপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার ২০ ফুট দুরত্বে সামছু মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে ‘নিরব পোল্ট্রি ফার্ম’ নামে একটি লেয়ার মুরগির ফার্ম স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লেয়ার মুরগির ফার্ম চালিয়ে যাওয়ায় আশপাশের লোকজন এর দুর্গন্ধে মারাত্মক দুর্ভোগ পোয়ান। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুখবিসুখে আক্রান্ত হতে থাকে। এই পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় নাসির মিয়ার স্ত্রী হতু বেগম ও মইয়ব আলীর দুই শিশু সন্তান মারা গেছে। এখান থেকে পোল্ট্রি ফার্মটি অন্যত্র সরানোর অনুরোধ স্বত্তে¡ও এর মালিক আবুল কাশেম তাতে কর্নপাত করেননি। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী এই অবৈধ মুরগির ফার্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট ও মৌলভীবাজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শণ করে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে আবুল কাশেমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর কিছুদিন ফার্মের কাযক্রম বন্ধ রাখলেও বর্তমানে তিনি আগের মত মুরগির ফার্ম দেওয়ার পায়তারা করছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জের ধরে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

ভোক্তভোগীরা জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে আবুল কাশেমকে নিবন্ধন ও পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান না করতে জুড়ী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

জুড়ী উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর কর্মকর্তা রমা পদ দে বলেন, নিরব পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আরও একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুটি অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে ফা্র্মের নিবন্ধন দেওয়া বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ আইন লংঘন করে গণবসতিপূর্ণ এলাকায় লেয়ার মুরগির খামার স্থাপন করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সাধন করায় নিরব পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবুল কাশেমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও বন্ধ করা সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।