সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

আজ খুলছে কালশী ফ্লাইওভার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কালশী ফ্লাইওভারের। ফলে এ পথে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে মুক্তির নতুন পথ দেখছেন নগরবাসী। এ উড়ালসড়কের মাধ্যমে মিরপুর থেকে উত্তরা, বিমানবন্দর, বনানী, মহাখালী থেকে যাতায়াতের পথ সুগম হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন উপলক্ষে কালশী বালুর মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এ ফ্লাইওভারটি। এই ফ্লাইওভার মিরপুরের নতুন গেটওয়ে তৈরি করবে। শুধু এই ফ্লাইওভারই নয়, এর সঙ্গে নিচের প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক, নতুন ফুটওভার ব্রিজ আর ফুটপাত সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলবে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, ফ্লাইওভারটি মিরপুরবাসীর জন্য একটি বড় পুরস্কার হবে। এখন সেখানে কোনো যানজট হবে না। ফ্লাইওভারের নিচে ফুটপাত ও সাইকেল লেন করা হয়েছে। দুটি ফুটওভার ব্রিজও করা হয়েছে। নগরীর ব্যস্ততম এই পথে যানজট একটি নিয়মিত চিত্র। বৃহত্তর মিরপুরে ঢুকতে কিংবা বের হতে এই কালশী মোড়ে গাড়ির চাপে প্রতিনিয়তই ভুগতে হয় এই পথে চলাচলকারীদের।

যাত্রী ও বাসচালকরা জানান, আগে এ রাস্তায় অনেক জ্যাম (যানজট) হতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। এ ফ্লাইওভারটি হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি এখন অনেক কমে যাবে বলে তাদের আশা। ফ্লাইওভারটি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনে অনেক সহায়ক হবে বলেও জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের এমন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে পুরো নগরীর যানজট সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ইসিবি চত্বর থেকে সরাসরি এ উড়ালপথ ধরে চলে যাওয়া যাবে পল্লবী কিংবা মিরপুরে। মূল ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ৩৩৫ মিটার। ৪৭৫ মিটারের র‌্যাম্প রয়েছে পাঁচটি। ৬৮টি স্প্যানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এ উড়ালসড়কের গার্ডার সংখ্যা ১৭টি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ফ্লাইওভারের নিচে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে, যা ইসিবি চত্বর থেকে শুরু হয়ে কালশী মোড় হয়ে মিরপুর ডিওএইচএসে শেষ হয়েছে। বাস, রিকশা, সাইকেলের জন্য করা হয়েছে আলাদা আলাদা লেন।

প্রকল্প সূত্র জানায়, সরকারি অর্থায়নে ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই কিলোমিটার ফ্লাইওভার (১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক, ফুটপাত এবং ড্রেনের উন্নয়ন কাজও করা হয়েছে।

৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়ক, ফুটপাত প্রশস্তকরণ, সড়ক বিভাজক তৈরি এবং ড্রেন নির্মাণ ও কমিউনিকেশন ডাক্টও তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পটির স্বত্বাধিকারী সংস্থা ডিএনসিসি। উদ্বোধনের পর থেকে প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে ডিএনসিসি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

আজ খুলছে কালশী ফ্লাইওভার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ঢাকার মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কালশী ফ্লাইওভারের। ফলে এ পথে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে মুক্তির নতুন পথ দেখছেন নগরবাসী। এ উড়ালসড়কের মাধ্যমে মিরপুর থেকে উত্তরা, বিমানবন্দর, বনানী, মহাখালী থেকে যাতায়াতের পথ সুগম হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন উপলক্ষে কালশী বালুর মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এ ফ্লাইওভারটি। এই ফ্লাইওভার মিরপুরের নতুন গেটওয়ে তৈরি করবে। শুধু এই ফ্লাইওভারই নয়, এর সঙ্গে নিচের প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক, নতুন ফুটওভার ব্রিজ আর ফুটপাত সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলবে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, ফ্লাইওভারটি মিরপুরবাসীর জন্য একটি বড় পুরস্কার হবে। এখন সেখানে কোনো যানজট হবে না। ফ্লাইওভারের নিচে ফুটপাত ও সাইকেল লেন করা হয়েছে। দুটি ফুটওভার ব্রিজও করা হয়েছে। নগরীর ব্যস্ততম এই পথে যানজট একটি নিয়মিত চিত্র। বৃহত্তর মিরপুরে ঢুকতে কিংবা বের হতে এই কালশী মোড়ে গাড়ির চাপে প্রতিনিয়তই ভুগতে হয় এই পথে চলাচলকারীদের।

যাত্রী ও বাসচালকরা জানান, আগে এ রাস্তায় অনেক জ্যাম (যানজট) হতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। এ ফ্লাইওভারটি হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি এখন অনেক কমে যাবে বলে তাদের আশা। ফ্লাইওভারটি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনে অনেক সহায়ক হবে বলেও জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের এমন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে পুরো নগরীর যানজট সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ইসিবি চত্বর থেকে সরাসরি এ উড়ালপথ ধরে চলে যাওয়া যাবে পল্লবী কিংবা মিরপুরে। মূল ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ৩৩৫ মিটার। ৪৭৫ মিটারের র‌্যাম্প রয়েছে পাঁচটি। ৬৮টি স্প্যানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এ উড়ালসড়কের গার্ডার সংখ্যা ১৭টি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ফ্লাইওভারের নিচে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে, যা ইসিবি চত্বর থেকে শুরু হয়ে কালশী মোড় হয়ে মিরপুর ডিওএইচএসে শেষ হয়েছে। বাস, রিকশা, সাইকেলের জন্য করা হয়েছে আলাদা আলাদা লেন।

প্রকল্প সূত্র জানায়, সরকারি অর্থায়নে ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই কিলোমিটার ফ্লাইওভার (১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক, ফুটপাত এবং ড্রেনের উন্নয়ন কাজও করা হয়েছে।

৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়ক, ফুটপাত প্রশস্তকরণ, সড়ক বিভাজক তৈরি এবং ড্রেন নির্মাণ ও কমিউনিকেশন ডাক্টও তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পটির স্বত্বাধিকারী সংস্থা ডিএনসিসি। উদ্বোধনের পর থেকে প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে ডিএনসিসি।