রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বুলবুল রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকিরের উপস্থিতি ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাঁকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। ফলে তাঁকে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন বুলবুল রহমান। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া জনসমক্ষে তাঁর হাত ধরে টানাটানি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তাঁকে হেনস্তা করা হয়।
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সে আমার বিভাগের সাবেক ছাত্র। আমাকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলে। তখন আমি বাসায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে দেখা করি। সে আমাকে বলে, তৌকির নামে একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, যার উপস্থিতির নম্বর না থাকায় ডিসকলেজিয়েট হয়েছে, তাকে ফরম পূরণের সুযোগ দিতে। আমি তাকে বলি, এটার নিয়ম নেই। তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে সে আমাকে গালি দিতে শুরু করে এবং আমার হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। আমি বাইকের ওপরে ছিলাম। পরে আমি ভিডিও করতে গেলে আমার মুঠোফোন নিয়েও টানাটানি শুরু করে। আমাকে মোনাফেক, ধর্ষকসহ নানা আজেবাজে কথা বলতে থাকে সে।’
অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের দাবি, বিভাগের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা ও আবেদন করতে না পারাকে কেন্দ্র করেও বুলবুলের ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ কম থাকায় বুলবুল শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারেননি।
ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিনে দুপুরে জনসমক্ষে সবার সামনে এমন আচরণ আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছোট ভাইয়ের হয়ে তাঁর কাছে অনুরোধ করেছি, যেন মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে পরীক্ষায় বসতে দেন। সে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল, যার কারণে ক্লাস করতে পারেনি। এর বাইরে আমি কিছু করিনি।’
হেনস্তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বুলবুল বলেন, ‘এটা তো রুমের ভেতরে নয়, সবার সামনে। আমি তাঁকে কেন হেনস্তা করতে যাব? হেনস্তার যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন। উল্টো তিনি আমার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের কিছু তথ্য এসেছে। এখনো সব তথ্য আমরা পাইনি। বিষয়টি আমরা দেখছি। পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















