ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাগৃকে লটারির আড়ালে বদলি বাণিজ্য: অভিযোগের কাঠগড়ায় পরিচালক ফকির মুনওয়ার হোসেন অপুর ‘প্রিয় বন্ধু’কে ঘিরে নেটিজেনদের কৌতূহল প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের হামলা, উত্তেজনা তুঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি এশীয় সহযোগিতা জোরদারে সিকা সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন প্রস্তাব পূজা এলে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে না, এমন বাংলাদেশ চাই: নাহিদ ইসলাম এলাচ মজুত, জিরায় মেয়াদের তথ্য নেই: চট্টগ্রামে জরিমানা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান প্রকৌশলী রেজা তৈমূর মালিক বামনায় মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স স্কুলে মারামারি করা স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, বদলির সুপারিশ

বনশ্রীর আবাসন প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার সার্ভিস চার্জ দাবি, রাজউকের শুনানিতে প্রশ্নবিদ্ধ ইস্টার্ন হাউজিং

রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন এবং বিধিমালা অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রি ও হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ বা অন্য কোনো নামে অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্ট করে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও তা না মেনে বনশ্রীতে শেলটেকের একটি আবাসন প্রকল্প ঘিরে প্রায় ৩ কোটি টাকা সার্ভিস চার্জ দাবি করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড।

এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা গড়ায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পর্যন্ত। পরবর্তীতে সংস্থাটির উদ্যোগে এক শুনানিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। পাশাপাশি সরকারি আদেশ মেনে চলতে ইস্টার্ন হাউজিংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন হাউজিং এবং ৮ সেপ্টেম্বর শেলটেক রাজউকে পৃথক আবেদন জানায়। উভয় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাজউক চেয়ারম্যানের দপ্তরে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে সংস্থাটির সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁইয়া, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক এবং প্রধান নগর স্থপতি (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শেলটেকের পক্ষে চিফ অপারেটিং অফিসার শাহজাহান এবং ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম প্রতিনিধিত্ব করেন।

শুনানিতে সার্ভিস চার্জ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রতিনিধির কাছে প্রশ্ন তোলেন রাজউক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে সার্ভিস চার্জ আদায়ের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আপনারা কীভাবে এই অর্থ দাবি করছেন? এভাবে টাকা আদায়ের কোনো এখতিয়ার আপনাদের নেই।’

একই বিষয়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছে আইনি ভিত্তি জানতে চান রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক। কোন আইনের আওতায় এবং কীসের ভিত্তিতে এই সার্ভিস চার্জ দাবি করা হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

এ সময় ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজউকের প্রধান নগর স্থপতি (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাক আহমেদও। তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সার্ভিস চার্জ নিলে অন্তত প্রকল্পের নকশা ঠিক থাকছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রেখেছে। কিন্তু আপনারা বনশ্রী বা আফতাবনগরে কোনো কিছুই ঠিক রাখতে পারছেন না। তাহলে কীসের ভিত্তিতে সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন?’

বৈঠকে রাজউকের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুরাহা এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণের জন্য ইস্টার্ন হাউজিংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা যায়, সার্ভিস চার্জ হিসেবে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত কাঠাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আদায় করে থাকে। একবার বিক্রি করা জমিতে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহল প্রশ্ন তোলার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রি ও হস্তান্তরিত জমি বা ফ্ল্যাট পরবর্তী সময়ে পুনরায় বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা নামজারির ক্ষেত্রে অনুমোদনের নামে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। অন্য কোনো নামেও এ ধরনের অর্থ আদায়কে আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে এতে আরও জানানো হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্ভিস চার্জ দাবির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাগৃকে লটারির আড়ালে বদলি বাণিজ্য: অভিযোগের কাঠগড়ায় পরিচালক ফকির মুনওয়ার হোসেন

বনশ্রীর আবাসন প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার সার্ভিস চার্জ দাবি, রাজউকের শুনানিতে প্রশ্নবিদ্ধ ইস্টার্ন হাউজিং

আপডেট সময় ০৪:৩৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন এবং বিধিমালা অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রি ও হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ বা অন্য কোনো নামে অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্ট করে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও তা না মেনে বনশ্রীতে শেলটেকের একটি আবাসন প্রকল্প ঘিরে প্রায় ৩ কোটি টাকা সার্ভিস চার্জ দাবি করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড।

এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা গড়ায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পর্যন্ত। পরবর্তীতে সংস্থাটির উদ্যোগে এক শুনানিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। পাশাপাশি সরকারি আদেশ মেনে চলতে ইস্টার্ন হাউজিংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন হাউজিং এবং ৮ সেপ্টেম্বর শেলটেক রাজউকে পৃথক আবেদন জানায়। উভয় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাজউক চেয়ারম্যানের দপ্তরে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে সংস্থাটির সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁইয়া, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক এবং প্রধান নগর স্থপতি (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শেলটেকের পক্ষে চিফ অপারেটিং অফিসার শাহজাহান এবং ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম প্রতিনিধিত্ব করেন।

শুনানিতে সার্ভিস চার্জ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রতিনিধির কাছে প্রশ্ন তোলেন রাজউক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে সার্ভিস চার্জ আদায়ের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আপনারা কীভাবে এই অর্থ দাবি করছেন? এভাবে টাকা আদায়ের কোনো এখতিয়ার আপনাদের নেই।’

একই বিষয়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছে আইনি ভিত্তি জানতে চান রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক। কোন আইনের আওতায় এবং কীসের ভিত্তিতে এই সার্ভিস চার্জ দাবি করা হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।

এ সময় ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজউকের প্রধান নগর স্থপতি (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাক আহমেদও। তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সার্ভিস চার্জ নিলে অন্তত প্রকল্পের নকশা ঠিক থাকছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রেখেছে। কিন্তু আপনারা বনশ্রী বা আফতাবনগরে কোনো কিছুই ঠিক রাখতে পারছেন না। তাহলে কীসের ভিত্তিতে সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন?’

বৈঠকে রাজউকের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুরাহা এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণের জন্য ইস্টার্ন হাউজিংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা যায়, সার্ভিস চার্জ হিসেবে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত কাঠাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আদায় করে থাকে। একবার বিক্রি করা জমিতে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহল প্রশ্ন তোলার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রি ও হস্তান্তরিত জমি বা ফ্ল্যাট পরবর্তী সময়ে পুনরায় বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা নামজারির ক্ষেত্রে অনুমোদনের নামে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। অন্য কোনো নামেও এ ধরনের অর্থ আদায়কে আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে এতে আরও জানানো হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্ভিস চার্জ দাবির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।