ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পটুয়াখালী শোভাযাত্রা ও মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন তীব্র গ্যাস সংকটে কুমিল্লা, সিএনজি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ত্রাণের বিস্কুট ও জাহাজের তেল চুরির অভিযোগেও বহাল তবিয়তে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মিজানুর সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে সিঁড়ির নিচে পিয়ন শফির ‘ঘুষের হাট’, ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বিআরটিএর ডিজিটাল প্রকল্পে ম্যানেজার আল-আমিন রুবেল সিন্ডিকেটের শতকোটি টাকার জালিয়াতি ওএসডি হওয়ার ১৮ দিনের মাথায় স্বপদে ফিরলেন বিতর্কিত প্রকৌশলী শাহজাহান ভুয়া বিল-তেল লোপাটে শতকোটি সম্পদের অভিযোগ অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থি প্রকৌশলী নিমিতোষ ওঝার হাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ডোম-ইনোর জালের ফাঁদে জমি-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব শিক্ষক পরিবার নিম্নমানের যন্ত্রপাতি দিয়ে রামপাল সচল রাখতে প্রকৌশলীদের মরিয়া চেষ্টা

মৃত সন্তান জীবিত আছে এমনই ধারণা এক অসহায় মায়ের

রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়,জাহাজকোম্পানী মোড় ও বিকেলে রাজা রামমোহন মার্কেটের সামনে পাতলা কম্বল গায়ে জড়ানো এ নারীকে দেখে অনেকেই জানতে চায় কোলের সন্তান সম্পর্কে। আশেপাশে কিছু মানুষের ভিড়। এরই মধ্যে ছুটে এসেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শক্ত করে কোলে আঁকড়ে ধরে আছে কি?এমন ঠান্ডায় বাইরে অবস্থানের কারণ জানতে চাইতেই মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আমরা কথা বলে জানতে পারলাম, তার কোলে যে মৃত্যু সন্তান শুয়ে আছে সে তারই নাড়িছেঁড়া সন্তান, তবে শিশুটি বেঁচে নেই। তা জানা সত্ত্বেও সন্তানের বেঁচে উঠার আশায় কোলে নিয়ে দিনভর এদিক সেদিক ছুটেছেন অবুঝ মনের এই মা। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়া দিয়েছে স্থানীয় লোকজন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ সাধারণ লোকদের চোখে পানি চলে আসে। পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই নারী কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিয়ে না হলেও এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। আর সেই সম্পর্কের ফসল এই সন্তান। গত ১৭ দিন আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় নবজাতকের জন্ম দেন তিনি।

এরপর সন্তানকে নিয়ে তার নিজ বাড়িতে গেলে সৎ বাবা তাকে মারধর করে শিশুটিকে বিক্রি করে দিতে বলেন। এ নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি রংপুর শহরে চলে আসেন।সন্তান নিয়ে ঘুরে ঘুরে যেখানে রাত হয় সেখানেই খোলা জায়গায় কোনোরকমে রাত যাপন করেন। এতে অযত্ন ঠান্ডা জনিত কারণে একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে দায়িত্ব রত চিকিৎসক জানান, শিশুটি মারা গেছে।কিন্তু এই অভাগি মা মানতে নারাজ তার সন্তান এখনো জীবিত আছে। এই ধারণা নিয়ে তার মৃত্যু সন্তান কোলে নিয়ে পরম যত্নে আগলে রাখছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল কে এই অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার? তাকে খোঁজে বের করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চয়ই সঠিক আইনি পদক্ষেপ নিবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালী শোভাযাত্রা ও মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

মৃত সন্তান জীবিত আছে এমনই ধারণা এক অসহায় মায়ের

আপডেট সময় ০২:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়,জাহাজকোম্পানী মোড় ও বিকেলে রাজা রামমোহন মার্কেটের সামনে পাতলা কম্বল গায়ে জড়ানো এ নারীকে দেখে অনেকেই জানতে চায় কোলের সন্তান সম্পর্কে। আশেপাশে কিছু মানুষের ভিড়। এরই মধ্যে ছুটে এসেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শক্ত করে কোলে আঁকড়ে ধরে আছে কি?এমন ঠান্ডায় বাইরে অবস্থানের কারণ জানতে চাইতেই মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আমরা কথা বলে জানতে পারলাম, তার কোলে যে মৃত্যু সন্তান শুয়ে আছে সে তারই নাড়িছেঁড়া সন্তান, তবে শিশুটি বেঁচে নেই। তা জানা সত্ত্বেও সন্তানের বেঁচে উঠার আশায় কোলে নিয়ে দিনভর এদিক সেদিক ছুটেছেন অবুঝ মনের এই মা। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়া দিয়েছে স্থানীয় লোকজন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ সাধারণ লোকদের চোখে পানি চলে আসে। পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই নারী কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিয়ে না হলেও এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। আর সেই সম্পর্কের ফসল এই সন্তান। গত ১৭ দিন আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় নবজাতকের জন্ম দেন তিনি।

এরপর সন্তানকে নিয়ে তার নিজ বাড়িতে গেলে সৎ বাবা তাকে মারধর করে শিশুটিকে বিক্রি করে দিতে বলেন। এ নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি রংপুর শহরে চলে আসেন।সন্তান নিয়ে ঘুরে ঘুরে যেখানে রাত হয় সেখানেই খোলা জায়গায় কোনোরকমে রাত যাপন করেন। এতে অযত্ন ঠান্ডা জনিত কারণে একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে দায়িত্ব রত চিকিৎসক জানান, শিশুটি মারা গেছে।কিন্তু এই অভাগি মা মানতে নারাজ তার সন্তান এখনো জীবিত আছে। এই ধারণা নিয়ে তার মৃত্যু সন্তান কোলে নিয়ে পরম যত্নে আগলে রাখছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল কে এই অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার? তাকে খোঁজে বের করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চয়ই সঠিক আইনি পদক্ষেপ নিবেন।