ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’ শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় : ড. মঈন খান বাউফলে মৎস্যজীবী দলের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, মোবাইল ভাঙচুর সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গাঁজা-স্কাফসহ গ্রেপ্তার ৪ মঠবাড়িয়ায় বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নওগাঁর রাণীনগরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কালিহাতীতে ৪ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক লালমনিরহাটে পাঁচ মাসের শিশুকে রেখে মাকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড আত্রাইয়ে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
নয়াবাজারে ভবন নির্মাণে অনিয়ম

রাজউক পরিদর্শক মুরাদকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা নয়াবাজারের জিন্দাবাদ এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির নির্মাণকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর নয়াবাজার থেকে বাবুবাজার ব্রিজের দিকে যাওয়ার পথে হাতের বাম পাশে ৩০ জিন্দাবাদ প্রথম লেন, চৌধুরী মার্কেট, নয়াবাজার, ঢাকা-১০০০ এলাকায় ভবনটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন, নকশা এবং প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন থাকার কথা। কিন্তু ভবনটির নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ তাদের। তাদের অভিযোগ, রাজউকের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদকে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেই ভবনটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাজউক জোন-৭-এর পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদ এর সত্যতা স্বীকার করেন। তবে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ভবনটির অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় জানতে রাজউক জোন-৭-এর অথরাইজড অফিসার ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানানোর আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ভবন মালিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অপরিকল্পিত বা বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ নগর ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সরু রাস্তা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনের সেটব্যাক, রাস্তার প্রস্থ, ভবনের উচ্চতা, অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

নয়াবাজারের ৩০ জিন্দাবাদ প্রথম লেনের নির্মাণাধীন ভবনটিতে এসব বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। একই সঙ্গে ভবনটির রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদন রয়েছে কি না, থাকলে বাস্তবে নির্মাণকাজ সেই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না—তা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কোনো ভবনের কাগজপত্রে অনুমোদন থাকা এবং বাস্তবে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হওয়া এক বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা, বাড়তি অংশ বা নির্ধারিত জায়গা দখল করে নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। তাই শুধু কাগজপত্র যাচাই নয়, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’

নয়াবাজারে ভবন নির্মাণে অনিয়ম

রাজউক পরিদর্শক মুরাদকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:১৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা নয়াবাজারের জিন্দাবাদ এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির নির্মাণকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর নয়াবাজার থেকে বাবুবাজার ব্রিজের দিকে যাওয়ার পথে হাতের বাম পাশে ৩০ জিন্দাবাদ প্রথম লেন, চৌধুরী মার্কেট, নয়াবাজার, ঢাকা-১০০০ এলাকায় ভবনটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন, নকশা এবং প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন থাকার কথা। কিন্তু ভবনটির নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ তাদের। তাদের অভিযোগ, রাজউকের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদকে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেই ভবনটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাজউক জোন-৭-এর পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদ এর সত্যতা স্বীকার করেন। তবে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ভবনটির অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় জানতে রাজউক জোন-৭-এর অথরাইজড অফিসার ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানানোর আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ভবন মালিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অপরিকল্পিত বা বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ নগর ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সরু রাস্তা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনের সেটব্যাক, রাস্তার প্রস্থ, ভবনের উচ্চতা, অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

নয়াবাজারের ৩০ জিন্দাবাদ প্রথম লেনের নির্মাণাধীন ভবনটিতে এসব বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। একই সঙ্গে ভবনটির রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদন রয়েছে কি না, থাকলে বাস্তবে নির্মাণকাজ সেই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না—তা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কোনো ভবনের কাগজপত্রে অনুমোদন থাকা এবং বাস্তবে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হওয়া এক বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা, বাড়তি অংশ বা নির্ধারিত জায়গা দখল করে নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। তাই শুধু কাগজপত্র যাচাই নয়, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি।