ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ও পরিচিতিচিহ্ন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ববি প্রশাসনের বিলবিলাস আব্দুর রশীদ সরদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন মাহফুজুর রহমান সবুজ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বাড়ছে নজরদারি এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে: অর্থমন্ত্রী বালিয়াডাঙ্গীতে বাড়িতে ঢুকে হায়নার হামলা, বৃদ্ধাসহ আহত ৫ পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২ ভারতীয় গরু আটক বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে খড়ের স্তূপের নিচে ১৯টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ‘মাদক তৈরির কারখানা’, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মাদক তৈরির কারখানা ধ্বংসের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওকলাহোমার এক জনসভায় তিনি জানান, যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেগুলোতে পারমাণবিক উপকরণের পাশাপাশি অবৈধ মাদকও তৈরি হচ্ছিল।

তবে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই স্থাপনাগুলোতে মাদক তৈরির কোনো তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ট্রাম্প।

সেখানে তিনি বলেন, মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যেসব স্থাপনায় বোমা ফেলেছিল, সেগুলো একাধারে পারমাণবিক ও মাদক তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নীতি বিশেষজ্ঞ জেমস অ্যাকটন জানান, ফোরদোর মতো স্পর্শকাতর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে মাদক তৈরির কোনো ইতিহাস বা প্রমাণ নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে তিনি এসব স্থাপনাকে ‘মাদক তৈরির কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্পের নতুন এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিশেষজ্ঞরাও তাঁর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

সিএনএন ট্রাম্পের মন্তব্যের একটি ভিডিও কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাকটনের কাছে পাঠায়। শুক্রবার এক ই-মেইলে অ্যাকটন বলেন, ‘ওয়াও… এটা আমার কাছে নতুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, ফোরদো স্থাপনা মাদক উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এর আগে এমন কোনো অভিযোগের কথাও আমি শুনিনি, তা বিশ্বাসযোগ্য হোক বা না হোক।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা পূর্বের প্রকাশ্য অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ফলে তাঁর মন্তব্যটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ভুলবশত ইরানের ক্ষেত্রেও ‘মাদক’ শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলেন। তবে ভুল স্বীকার না করে পরবর্তীতে তিনি নিজের মন্তব্যকেই সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ‘মাদক তৈরির কারখানা’, দাবি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০১:১৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মাদক তৈরির কারখানা ধ্বংসের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওকলাহোমার এক জনসভায় তিনি জানান, যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেগুলোতে পারমাণবিক উপকরণের পাশাপাশি অবৈধ মাদকও তৈরি হচ্ছিল।

তবে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই স্থাপনাগুলোতে মাদক তৈরির কোনো তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ট্রাম্প।

সেখানে তিনি বলেন, মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যেসব স্থাপনায় বোমা ফেলেছিল, সেগুলো একাধারে পারমাণবিক ও মাদক তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নীতি বিশেষজ্ঞ জেমস অ্যাকটন জানান, ফোরদোর মতো স্পর্শকাতর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে মাদক তৈরির কোনো ইতিহাস বা প্রমাণ নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে তিনি এসব স্থাপনাকে ‘মাদক তৈরির কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্পের নতুন এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিশেষজ্ঞরাও তাঁর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

সিএনএন ট্রাম্পের মন্তব্যের একটি ভিডিও কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাকটনের কাছে পাঠায়। শুক্রবার এক ই-মেইলে অ্যাকটন বলেন, ‘ওয়াও… এটা আমার কাছে নতুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, ফোরদো স্থাপনা মাদক উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এর আগে এমন কোনো অভিযোগের কথাও আমি শুনিনি, তা বিশ্বাসযোগ্য হোক বা না হোক।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা পূর্বের প্রকাশ্য অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ফলে তাঁর মন্তব্যটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ভুলবশত ইরানের ক্ষেত্রেও ‘মাদক’ শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলেন। তবে ভুল স্বীকার না করে পরবর্তীতে তিনি নিজের মন্তব্যকেই সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।